‘আমি কি এক হাজার টাকা নেওয়ার লোক’ প্রকৌশলীর ঘুস চাওয়ার ভিডিও ভাইরাল
প্রকাশিত হয়েছে : ১০ জুন ২০২৬, ২:৪৯:৩২

বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী হামিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঠিকাদারপক্ষের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ঘুস চাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ঘুস লেনদেনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কি এক হাজার টাকা নেওয়ার লোক।
ভিডিওটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
প্রায় দেড় মিনিটের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ঠিকাদারপক্ষের এক ব্যক্তি উপসহকারী প্রকৌশলী হামিদুল ইসলামকে বলছেন, ‘কয় টাকা, কয় টাকা লিবেন (নেবেন)।’
জবাবে হামিদুল ইসলাম বলেন, ‘১০ হাজার টাকা দাও আজকে।’ তখন ওই ব্যক্তি বলেন, ১০ হাজার লয় (নয়), এক হাজার দেই আপনাক।’
এ সময় হামিদুল ইসলাম চলে যেতে উদ্যত হলে ওই ব্যক্তি আবার বলেন, ‘এক হাজার টাকা দেই আপনাক।’ তখন হামিদুল ইসলাম বলেন, কোনো টাকার ‘দরকার নেই।’
বিরামপুর উপজেলা প্রকৌশলী আতাউর রহমান সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘সকালে অনলাইনে উপসহকারী প্রকৌশলী হামিদুল ইসলামের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, এটি আমার নজরে এসেছে। এ বিষয়ে আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে মৌখিক ও লিখিতভাবে জানাব।’
ভিডিওর আরেক অংশে হামিদুল ইসলামকে বলতে শোনা যায়, ‘কত, কত দিব, কত দিব, কওয়া (বলা) লাগবে না সেই কথা।’
তখন হামিদুল ইসলাম বলেন, ‘পাঁচ হাজার দাও। হ্যাঁ, পাঁচ হাজার দাও।’
ক্যামেরার পেছনে থাকা ব্যক্তি অবাক হয়ে জানতে চান, ‘পাঁচ হাজার টাকা?’
তখন হামিদুল ইসলাম বলেন, ‘দুই দিন তো করছি (প্রজেক্ট ভিজিট), আজকে করলাম না তোমার জন্য।’
এর জবাবে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘আজ কি করলেন, কন তো। পাঁচ হাজার হবে না, দেড় হাজারের মতো আছে।’
তখন টাকা না নিয়ে চলে যেতে যেতে হামিদুল ইসলাম বলেন, ‘দেওয়ার দরকার নেই।’
ভিডিওর শেষাংশে ঠিকাদারপক্ষের ওই ব্যক্তিকে হামিদুল ইসলামের পকেটে এক হাজার টাকার কয়েকটি নোট ঢুকিয়ে দিতে দেখা যায়।
জানা গেছে, গত ঈদের আগে উপজেলার ৪ নম্বর দিওড় ইউনিয়নের শোলাহার গ্রামে এডিবির অর্থায়নে ২৭৫ মিটার সিসি সড়কের নির্মাণকাজ শেষ হয়। ওই সড়কের কাজ পরিদর্শনে গিয়ে উপসহকারী প্রকৌশলী হামিদুল ইসলামের সঙ্গে ঠিকাদারপক্ষের এ ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয়।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য সোমবার ও মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তরে গিয়েও হামিদুল ইসলামকে পাওয়া যায়নি। তার অবস্থান সম্পর্কেও কোনো তথ্য দিতে চাননি সহকর্মীরা। এক উপসহকারী প্রকৌশলী বলেন, তিনি বাইরে আছেন এবং ছুটির জন্য আবেদন করেছেন।
মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে উপসহকারী প্রকৌশলী হামিদুল ইসলাম বলেন, ‘১০ হাজার টাকা দাবি করে আমি ১ হাজার টাকা নেব? এগুলো কোন ধরনের কথাবার্তা ভাই? আর ভিডিওটি এআই প্রযুক্তি দিয়ে করা। আমি কি এক হাজার টাকা নেওয়ার লোক? আমি ১০ হাজার টাকা চেয়ে ১ হাজার টাকায় রাজি হয়ে গেলাম।
দিনাজপুর বিরামপুর উপজেলা প্রকৌশলী আতাউর রহমান আরও বলেন, বিরামপুর উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী হামিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঠিকাদারের কাছ থেকে ঘুস চাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তার সঙ্গে ঠিকাদারপক্ষের এক ব্যক্তির কথিত ঘুস লেনদেনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে, তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।



