পেশ করা বাজেট অনুযায়ী, একদিকে রাষ্ট্রীয় কোষাগার সচল রাখতে অর্থমন্ত্রী করের আওতা বাড়ানো, বকেয়া আদায় এবং শুল্কের প্রাচীর খাড়া করার মতো কিছু কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলেছেন। অন্যদিকে দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে এবং সাধারণ ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে শুল্ক-করে বড় ধরনের ছাড় ও যৌক্তিকীকরণও করা হয়েছে। এ দুটি বিপরীতমুখী ধারার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ।
এখন দেখার বিষয় হলো সরকারের বিশাল রাজস্ব চাহিদা পূরণে আদায়ের মূল চাপ কোথায় পড়ছে, কোথায় স্বস্তি দেয়া হচ্ছে এবং এ মহৎ পরিকল্পনাগুলোকে কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবে রূপ দিতে কী করছে। এটা বুঝতে বাজেট প্রস্তাবগুলোর চুলচেরা বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
রাজস্বের গতি বৃদ্ধিকারী পদক্ষেপ: সংগ্রহের চাকা সচল করার উপায়
অন্যান্য বছরের বাজেটের মতো এবার রাজস্ব আদায়ের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা পূরণে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবার ঢালাওভাবে করের হার বাড়ানোর সহজ পথে হাঁটেনি। বরং উৎসে করের পরিধি বিস্তার, আইনি ফাঁকফোকর বন্ধ এবং সরকারি ব্যয়ের সুফল ঘরে তোলার ওপর জোর দিয়েছে। এটা ইতিবাচক দিক।
সামষ্টিক অর্থনৈতিক সংযোগ ও বকেয়া উদ্ধার:
রাজস্ব আদায় কৌশলের একটি বড় ভিত্তি হলো বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) সঙ্গে রাজস্ব আদায়ের সরাসরি সংযোগ তৈরি করা। প্রস্তাবিত ৩ লাখ কোটি টাকার এডিপি যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে এর অভ্যন্তরীণ কর ও ভ্যাট পাইপলাইনের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্তত ৪৫ হাজার কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে আসবে। অতীত ইতিহাস বলছে, এ পরিকল্পনা পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয় না। আদায়কৃত রাজস্ব দিয়ে যখন সরকারের পরিচালন ব্যয় মেটানো দায় হয়ে পড়ছে, তখন ফলে অভিঘাত যে শেষ পর্যন্ত এ এডিবি কাটছাঁট করে শেষ হবে, তা সহজেই অনুমেয়। ফলে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব এখান থেকে পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
আবার ১৯৯১ সালের পুরনো আইনের অধীনে ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত জমে থাকা ভ্যাটের বকেয়া আদায়ের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বাজেটে। এ বকেয়া খাতের ওপর প্রতি মাসে ২ শতাংশ হারে সুদ আরোপের মাধ্যমে একটি বড় অংকের আটকে থাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি আরো সহজ ও সাশ্রয়ী করার উদ্যোগ আছে। ফলে এ প্রক্রিয়ায় কিছুটা রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির সুযোগ আছে।
কাঠামোগত পরিবর্তন ও করের আওতা সম্প্রসারণ:
এবারের বাজেটে করের জাল স্থায়ীভাবে বাড়াতে বেশকিছু কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। যেমন খুচরা বাজারের পরিধি: খুচরা বিক্রেতাদের ওপর শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বা প্রতি হাজারে ২ টাকা উৎসে কর (টিসিএস) আরোপ করা হয়েছে, যা দেশের বিশাল অনথিভুক্ত খুচরা খাতকে করের আওতায় আনার প্রাথমিক পদক্ষেপ।
ব্যক্তিপর্যায়ে প্রত্যক্ষ কর: চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশের সর্বনিম্ন কর ধাপটি বাতিল, বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত হ্রাস এবং সঞ্চয়পত্রের সুদ আয় চূড়ান্ত কর না হওয়ার কারণে আয়কর বাবদ সংগ্রহ বাড়বে। এছাড়া যৌথ উদ্যোগের (জয়েন্ট ভেঞ্চার) কর অব্যাহতি সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং স্বর্ণালংকার বিক্রির লাভকে ব্যক্তিগত আইটেমের ছাড় থেকে বাদ দিয়ে মূলধনি মুনাফা করের আওতাভুক্ত করা হয়েছে। আবার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে টিআইএন থাকা বাধ্যতামূলক করেছে। যাতে আরো অধিকসংখ্যক মানুষকে করজালে আনা যায়। সমস্যা হলো বিদ্যমান বাস্তবতায় এ পদক্ষেপ কতটা বাস্তবসম্মত তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই, নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে করভীতি প্রবল। এ পদক্ষেপ তাদের আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কমিয়ে দেয় কিনা এবং শেষ পর্যন্ত এর নেতিবাচক প্রভাব আর্থিক খাতে পড়ে কিনা, তা বিশ্লেষণের দাবি রাখে।
অগ্রিম ও উৎসে করের বিস্তার: করপোরেট লভ্যাংশের ওপর হ্রাসকৃত করের সুবিধা প্রত্যাহার করায় এ খাত থেকে রাজস্ব বাড়বে। পাশাপাশি নগদ প্রণোদনা এবং স্থাবর সম্পত্তি বা রিয়েল এস্টেট বিক্রির মূলধনি করকে এখন থেকে অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য করা হবে। এমনকি পার্বত্য চট্টগ্রামের বাসিন্দা ও সেখানে কর্মরত চাকরিজীবীদের বেতন এবং আর্থিক সম্পদের আয়কেও এবার করের আওতায় আনা হয়েছে। অপ্রদর্শিত অর্থ বা রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ‘স্বেচ্ছায় আয় ঘোষণা’র (কালো টাকা সাদা করার সুবিধা) সুযোগ রাখা হয়েছে রাজস্ব সংগ্রহের গতি বাড়াতে। উপহার কর আদায়ের প্রক্রিয়া সহজ করতে ‘এ-চালান’ পদ্ধতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
শুল্ক বৃদ্ধি, সুনির্দিষ্ট ভ্যাট এবং উৎসে করের পরিধি:
পরোক্ষ কর ব্যবস্থা থেকেও সরকার অধিক রাজস্ব আদায়ের পরিকল্পনা করেছে। যেমন এমএস রডের মতো উচ্চ ব্যবহার্য শিল্পপণ্যের ওপর সুনির্দিষ্ট ভ্যাটের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন অভিজাত ও প্রাতিষ্ঠানিক সেবার ক্ষেত্রে উৎসে কর (টিডিএস) প্রবর্তন বা বৃদ্ধি করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ক্লাবের মেম্বারশিপ, খুচরা ব্যবসা, হেলিকপ্টার ভাড়া, বন্দুকের লাইসেন্স এবং ম্যানপাওয়ার বা জনশক্তি সরবরাহ সেবা।
বাণিজ্য পর্যায়ে দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেয়া এবং আমদানির চাপ কমাতে এক বিশাল তালিকায় আমদানি শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। এ তালিকায় যেমন রয়েছে বিলাসী ও অপ্রয়োজনীয় পণ্য (যেমন ১২০০ সিসি থেকে ১৬০০ সিসির গাড়ি, নিকোটিন পাউচ ও গ্র্যানুলস), তেমনই রয়েছে নির্দিষ্ট কিছু শিল্প ও কৃষি উপকরণ যেমন ফিশ ফিলেট, কাজুবাদাম (ক্যাজু), ফিল্টার রড, জীবাশ্ম জ্বালানি, জিপসাম বোর্ড ও শিট, জিপসাম প্লাস্টার, পিভিসি ও পেট রেজিন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, কার্বনডাই-অক্সাইড, বাইসাইকেলের যন্ত্রাংশ, ১ কেভি পর্যন্ত ট্রান্সফরমার, ওয়াশিং মেশিন, রাবার কনভেয়র বেল্ট, গ্রিজপ্রুফ ও গ্লাসিন পেপার, মেইজ স্টার্চ, টলুইন, কোল্ড-রোল্ড কোটেড কয়েল ও শিট, কপার ওয়্যার ও টিউব, ফিনিশড অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল এবং স্থানীয় মোটরসাইকেল শিল্পের জন্য ১২০০ ওয়াটের নিচের ডিসি মোটর।
কর ও শুল্ক ছাড়ে শিল্পায়ন ও স্বস্তি নিশ্চিতের প্রয়াস: রাজস্ব আদায়ের কড়াকড়ির পাশাপাশি দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি, উদীয়মান খাতের বিকাশ এবং ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের ওপর থেকে চাপ কমানোর জন্য বাজেটে বিপুল পরিমাণ শুল্ক ও কর ছাড়ের ঘোষণা দেখছি। বিশেষত কৌশলগত শুল্ক যৌক্তিকীকরণ পদক্ষেপ হিসেবে কাঁচামালের ওপর শুল্ক ও ভ্যাট কমানোর দূরদর্শী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, যা দেশীয় শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখবে। যা শেষে সরকারের রাজস্ব বাড়াতেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
যেমন আমদানি বিকল্প শিল্প গড়ে তোলার লক্ষ্যে ফ্রিজ, ফ্রিজার, এসি, ওয়াশিং মেশিন এবং স্মার্ট/ডেবিট/ক্রডিট কার্ডের স্থানীয় উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর শুল্ক-ভ্যাট উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। এর চেয়েও বড় বিষয় হলো সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ ডিজাইন, টেস্টিং ও প্যাকেজিং এবং কম্পিউটারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ (এসএসডি, পিওএস মেশিন, ডেস্কটপ, সার্ভার, রাউটার ও মনিটর) তৈরির মতো উচ্চপ্রযুক্তির খাতগুলোকে বড় ধরনের কর সুবিধা দেয়া হয়েছে। ফ্রিল্যান্সিং, স্টার্টআপ এবং ক্রিয়েটিভ বা সৃজনশীল খাতের প্রসারে নতুন করে আয়কর অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও টেকসই অবকাঠামো
টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সৌরশক্তি (সোলার), বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি), প্লাগ-ইন হাইব্রিড (পিএইচইভি), চার্জিং স্টেশন এবং লিথিয়াম-আয়ন ও সোডিয়াম-আয়ন ব্যাটারির কাঁচামাল আমদানিতে বড় শুল্ক ছাড় দেয়া হয়েছে। ড্রেজার ও টাগবোটের পার্টস এবং বর্জ্য শোধনাগারের (ইটিপি) রাসায়নিকের ওপর শুল্ক কমিয়ে পরিবেশ ও নৌ-অবকাঠামো রক্ষার ওপর জোর দেয়া হয়েছে। ল্যাপটপ, ডেস্কটপ এবং ইটিপির রাসায়নিকের পাশাপাশি কয়লা আমদানিতেও শুল্ক যৌক্তিকীকরণ করা হয়েছে।
সাধারণ মানুষের বহু বছরের জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে আছে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ। এ চাপ থেকে সাধারণ মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দিতে অনেকগুলো নিত্যপ্রয়োজনীয় ও জীবন রক্ষাকারী উপাদানের করের ভিত্তি কমানো বা ছাড় দেয়া হয়েছে এবারের বাজেটে।
ব্যবসায়িক জটিলতা হ্রাস ও আইনি সংস্কার: যেকোনো সরকারের জন্য রাজস্ব আদায় বাড়ানোর প্রধান কৌশল হলো দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানো, ব্যবসায়ীদের আরো বেশি ব্যবসা করার সুযোগ সৃষ্টি করা, সঙ্গে মানুষের ভোগক্ষমতা বৃদ্ধি করা। দেশে ব্যবসা পরিবেশ নিয়ে সমালোচনা নতুন কিছু নয়। আশার কথা নতুন সরকার এ বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমাতে আমদানি, সরবরাহ, সেবা ও বৈদেশিক পেমেন্টের ক্ষেত্রে উৎসে কর (টিডিএস) বাজেটে কিছুটা কমানো হয়েছে। তালিকাভুক্ত কোম্পানির রিটেইন্ড আর্নিংস বা পুঞ্জীভূত মুনাফার ওপর কর যৌক্তিকীকরণ করা হয়েছে। আয়কর আইনের ধারা ৫৫ ও ৫৬ সংশোধন করে অননুমোদিত ব্যয়ের (ইনঅ্যাডমিসিবল এক্সপেন্সেস) পরিমাণ কমানো এবং অবচয়ের ভিত্তি (ডেপ্রিসিয়েশন বেস) বাড়ানো হয়েছে, যা করদাতাদের আইনি জটিলতা কমাবে। এছাড়া নির্ধারিত সময়ের আগে রিটার্ন জমা দেয়ার জন্য বিশেষ প্রণোদনা রাখা হয়েছে।
সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক বিষয় হলো কর, ভ্যাট এবং কাস্টমসের বিরোধপূর্ণ দাবির বিরুদ্ধে আপিল করার জন্য জমা দেয়া অর্থের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে, যা দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে এবং ভ্যাট-ট্যাক্স রিফান্ড বা ফেরত প্রক্রিয়া সহজ করতে সাহায্য করবে।
নীতি বিশ্লেষণ এবং ভবিষ্যতের পথনকশা
বাজেটের এ নথিপত্রগুলো বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট বোঝা যায়, সরকার বিভিন্ন খাতে যে বিশাল শুল্ক ও কর ছাড় দিয়েছে, তার ঘাটতি পূরণ করতে চায় কর পরিপালন বা কমপ্লায়েন্স বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতিশীলতার মাধ্যমে।
তবে একটি গবেষণামূলক ও সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিকোণ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের অভাব এখানে দৃশ্যমান। যদি নীতিপ্রণেতারা একটি পাবলিক ডিসক্লোজার বা গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে স্পষ্ট করতেন যে এই ছাড় বা রেয়াতের কারণে সরকার ঠিক কত টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে (ট্যাক্স এক্সপেন্ডিচার) এবং কর বৃদ্ধির পদক্ষেপগুলো থেকে ঠিক কত টাকা নতুন রাজস্ব আসার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে এ বাজেটের প্রকৃত কার্যকারিতা ও যৌক্তিকতা আরো নিখুঁতভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হতো। রাজস্বের এ আদান-প্রদানের সঠিক পরিসংখ্যান জানা থাকলে দেশের সামগ্রিক আর্থিক স্বাস্থ্য ও নীতিমালার টেকসই হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হতো।
তবু শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে যে শুল্ক যৌক্তিকীকরণসহ বাজেটের অনেকগুলো পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। এটি আমাদের স্থানীয় উৎপাদনকারী ও শিল্প উদ্যোক্তাদের প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকার শক্তি জোগাবে।
তবে এ উচ্চাভিলাষী রাজস্ব ব্লুপ্রিন্ট বা নীলনকশার চূড়ান্ত সাফল্য সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ওপর। করের জাল কার্যকরভাবে বিস্তার করতে হলে এনবিআরকে নিশ্চিত করতে হবে যে তাদের কমপ্লায়েন্স মনিটরিং বা নজরদারি প্রক্রিয়া যেন সম্পূর্ণ মসৃণ এবং স্বচ্ছ হয়। কোনো অবস্থাতেই যেন সৎ করদাতারা আমলাতান্ত্রিক হয়রানির শিকার না হন, আবার একই সঙ্গে রাষ্ট্রের প্রাপ্য রাজস্ব আদায়ও যেন বিঘ্নিত না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।
করের ভিত্তি বা ট্যাক্স বেস স্থায়ীভাবে বাড়াতে হলে আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যাতে ভ্যাট এবং ট্যাক্স নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিটি আর্থিক লেনদেন তাদের দাখিলকৃত রিটার্নে শতভাগ স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতার সঙ্গে প্রতিফলিত হয়। তবেই এ বিশাল রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা কেবল কাগজের হিসাব বা একটি ঝুঁকিপূর্ণ ভারসাম্য রক্ষার খেলা না হয়ে দেশের টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হবে।
স্নেহাশীষ বড়ুয়া: পরিচালক, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও পরিচালক, এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস