চলতি বছরের মূল বাজেটের তুলনায় তা ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বা ১৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ বেশি। এ বাজেটের আকার হচ্ছে জিডিপির ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ। স্বাধীনতার পর দেশের প্রথম বাজেটের পরিমাণ ছিল ৭৮৬ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত নয়া বাজেট ওই বাজেট থেকে ১ হাজার ১৯৩ গুণ বেশি। বাংলাদেশে বাজেট বৃদ্ধির হার সাধারণত ১০-১৫ শতাংশ হয়ে থাকে। এবার তা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। অন্যান্য কারণের মধ্যে প্রধানত সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের অভিপ্রায় বাজেটের আকার সম্প্রসারণ করেছে। তবে দেশের বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির কথা বিবেচনায় নিয়ে সরকারের পরিচালন ব্যয় কমানোর মাধ্যমে একটি আঁটসাঁট বাজেট প্রস্তাবই এবার কাঙ্ক্ষিত ছিল।
প্রস্তাবিত বাজেটে মোট রাজস্ব প্রাক্কলন করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এটি চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা হলো ৫ লাখ ৬৯ হাজার কোটি টাকা। তবে প্রকৃত রাজস্ব আদায় ৫ লাখ কোটি টাকার বেশি হবে বলে মনে হয় না। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট রাজস্ব আদায় ছিল ৪ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছিল ৩ লাখ ৬৬ হাজার কোটি টাকা। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় আগামী বছর এবারের তুলনায় প্রায় ৩৯ শতাংশ রাজস্ব আদায় বাড়াতে হবে। এটি অনেক বড় প্রত্যাশা। এটি সম্ভব না হলে বাজেট বাস্তবায়নে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ গ্রহণ বাড়াতে হবে। তাতে মূল্যস্ফীতি বাড়বে। উৎপাদনশীল খাতগুলোকে এর ভার বহন করতে হবে। ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়বে।
গত বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। প্রাথমিক হিসাবে অর্জনের পরিমাণ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম, ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এর আগের বছরে ছিল ৪ দশমিক ২২ শতাংশ। এবারের লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। আগামী বাজেট বাস্তবায়নের হার ও গুণগত মান সন্তোষজনক না হলে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নাও হতে পারে। প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্যস্ফীতির হার ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। বাস্তবে এটা হয়তো আরো বেশি হবে। বর্তমানে গড় মূল্যস্ফীতির হার প্রায় ৯ শতাংশের কাছাকাছি রয়েছে। গত মে মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। সম্প্রতি দেশে কৃষির উৎপাদন বিশেষ করে বোরো ধানের উৎপাদন বিঘ্নিত হওয়ায় আগামী দিনগুলোয় খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার অনমনীয় থাকবে বলে ধারণা করা যায়।
প্রস্তাবিত বাজেটে মোট উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ৩৩ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। পরিচালন বা অনুন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৫ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ৬৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ। এটি ভারসাম্যপূর্ণ নয়। এবার পরিচালন ব্যয় বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা খাতে বেশি বরাদ্দ রাখা। বর্তমানে দেশে বেকার সমস্যা প্রকট। এ অবস্থায় পুরনো কর্মচারীদের আর্থিক সুবিধা আর না বাড়িয়ে নতুন কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেয়াই ছিল অধিক যুক্তিসংগত।
প্রস্তাবিত কৃষি বাজেট সংকুচিত হয়েছে। আগামী অর্থবছরে কৃষিবিষয়ক পাঁচটি মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬ হাজার ৮২১ কোটি টাকা। এ টাকা মোট বরাদ্দের ৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ। এর মধ্যে শস্য কৃষি খাতে রাখা হয়েছে ২৮ হাজার ৮৮১ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৩ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। বাকি ১ দশমিক ৯১ শতাংশ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, বন ও পরিবেশ, ভূমি ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়গুলোর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। এটা অপ্রতুল। দিনের পর দিন বাজেটে বৃহত্তর কৃষি খাতের হিস্যা কমেছে। ২০১১-১২ সালে বৃহত্তর কৃষি খাতের হিস্যা ছিল মোট বাজেটের ১০ দশমিক ৬৫ শতাংশ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে তা নেমে আসে ৫ দশমিক ৮৬ শতাংশে। এবার তা আরো কমে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৯৯ শতাংশে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছিল ৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা ২ দশমিক ৪২ শতাংশে নেমে আসে। এবার তা ২ দশমিক ৭৮ শতাংশ হবে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। উচ্চ খাদ্য মূল্যস্ফীতি হ্রাস ও এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে খাদ্য এবং পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি ৪-৫ শতাংশ নিশ্চিত করা উচিত। সে লক্ষ্যে ন্যূনপক্ষে মোট বাজেটের ১০ শতাংশ অর্থ কৃষিতে নিয়োজিত করা উচিত।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে ফসল খাতে ভর্তুকির পরিমাণ ছিল ১৭ হাজার ২৪১ কোটি টাকা। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তার পরিমাণ ধরা হয়েছে ১৭ হাজার ১ কোটি টাকা। গত বছরের মূল বাজেট থেকে তা ২৪০ কোটি টাকা কম। ২০১১-১২ সালের সংশোধিত বাজেটে কৃষি ভর্তুকির হিস্যা ছিল ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা ২ দশমিক ১৮ শতাংশ নেমে আসে। এবার তা আরো কমে ১ দশমিক ৭৫ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। এভাবে কৃষি ভর্তুকির ক্রম হ্রাস অনাকাঙ্ক্ষিত। তাতে বিঘ্নিত হবে কৃষির উৎপাদন। খাদ্যনিরাপত্তা ব্যাহত হবে। কৃষি খাতে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় উৎপাদন বাড়িয়ে যেতে হলে কৃষি ভর্তুকির পরিমাণ মোট কৃষি উৎপাদন মূল্যের ১০ শতাংশ নিশ্চিত করা উচিত।
বাজেটে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ৬ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ বেড়েছে। কিন্তু কৃষিসংশ্লিষ্ট অন্যান্য চারটি মন্ত্রণালয়ের মোট বরাদ্দ ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ কমে গেছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ গত বছরের মূল বরাদ্দ থেকে ১৯ দশমিক ৬ এবং সেচ ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বাজেট ৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ কমেছে। সার্বিক কৃষি উন্নয়ন এবং গ্রামীণ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের বাজেট এবার ৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ কমেছে। পাট মন্ত্রণালয়ের বাজেট কমেছে ১১ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। শিল্প মন্ত্রণালয়ের বাজেট ১০ দশমিক ৫২ শতাংশ কমেছে। এভাবে দেশের উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে সরাসরিভাবে জড়িত মন্ত্রণালয়গুলোর বরাদ্দ হ্রাস খাদ্যনিরাপত্তা অর্জন ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি দমনের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হয় না।
প্রস্তাবিত বাজেটে রেকর্ড পরিমাণ বরাদ্দ বেড়েছে জনপ্রশাসনে। এবারের মোট বরাদ্দ ২ লাখ ৬৩ হাজার ৯৪৫ কোটি টাকা। গত বছরের মূল বরাদ্দ থেকে ৭৭ হাজার ৮৫৭ কোটি টাকা বা ৪১ দশমিক ৮৪ শতাংশ বেশি। এ বরাদ্দ মোট বাজেটের ২৮ দশমিক ১৪ শতাংশ। এর সঙ্গে প্রতিরক্ষা, জনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা যোগ করা হলে মোট বাজেটের প্রায় ৩৬ শতাংশ চলে যায়। এক্ষেত্রে সরকারের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। মন্ত্রণালয়গুলোয় কর্মচারীর সংখ্যা হ্রাস করে নথি অগ্রগামীর ধাপ কমানো উচিত। আগে নতুন পে-স্কেল ঘোষণার ক্ষেত্রে ৫০-৬০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির কথা ভাবা হতো। গত আওয়ামী লীগ সরকার তা বাড়িয়ে দিয়েছিল ১২০ শতাংশেরও বেশি। এবারো বেতন বৃদ্ধির হার প্রায় কাছাকাছি। এ চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সেবাগ্রহণকারী ও কর প্রদানকারী ব্যক্তিদের দিয়ে নতুন পে-স্কেল রিভিও করা উচিত। দেশের সাধারণ মানুষ কীভাবে জীবন নির্বাহ করে, সেদিকে লক্ষ রাখা উচিত। ভবিষ্যতে বাজেট প্রণয়নের সব কার্যক্রম সচিবালয়ের আমলাদের প্রভাব মুক্ত রেখে নিরপেক্ষ কমিশনের মাধ্যমে সম্পন্ন করা উচিত।
বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের বরাদ্দ উল্লেখ্যযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগে এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা। এটি মোট বাজেটের ১৩ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। এ বরাদ্দ জিডিপির প্রায়ই ২ শতাংশ। স্বাস্থ্যসেবা খাতের দুটো বিভাগে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬২ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা। এটি মোট বরাদ্দের ৬ দশমিক ৭০ শতাংশ। আগের বাজেটের তুলনায় তা ২০ হাজার ৯৪৪ কোটি টাকা বেশি। মানবসম্পদ উন্নয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এ দুটো খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাজেট বৃদ্ধি সমর্থনযোগ্য।
প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা ও সমাজকল্যাণ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬২ হাজার ৪৪ কোটি টাকা। গত বাজেটে ছিল ৪৫ হাজার ৮৩ কোটি টাকা। বরাদ্দ বৃদ্ধির হার ৩৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। এ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে একত্রে, পাঁচটি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে (সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশু, খাদ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও মুক্তিযুদ্ধ)। সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বর্তমানে বয়স্ক ভাতা প্রতি মাসে দেয়া হচ্ছে ৬৫০ টাকা আর বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারী ভাতা ৯০০ টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে যথাক্রমে ৫০ ও ১০০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ বেড়েছে ১১৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ। গত বছরের মূল বাজেট ১৩ হাজার ৯৯১ কোটি টাকা থেকে বেড়ে এবার হয়েছে ৩০ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা। উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে সামাজিক সুরক্ষা কাঠামো সম্প্রসারণের এ উদ্যোগ সমর্থনযোগ্য।
নয়া বাজেটে নাগরিকদের স্বস্তির জন্য বেশকিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে কর ও শুল্কহার কমানো হয়েছে। এর মধ্যে চাল, গম, তেলসহ কিছু নিত্যপণ্যের উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। ভোজ্যতেল উৎপাদনের ক্ষেত্রে পাঁচ বছর পর্যন্ত কর অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। শিশুখাদ্যের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্কহার ১৫ থেকে ১০ শতাংশে কমানো হয়েছে। মসলা ও খেজুর আমদানিতে ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। কীট ও বালাইনাশক উৎপাদনে ব্যবহৃত ৩৬টি কাঁচামালের আমদানিতে মূল্য সংযোজন কর শূন্যে নামিয়ে আনা হয়েছে। জিঙ্ক সালফেট সার উৎপাদনে ব্যবহৃত জিঙ্ক ত্র্যাশ আমদানিতে শুল্ক মওকুফ করা হয়েছে। ভেটেরিনারি মেডিসিন আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক রেয়াত দেয়া হয়েছে। সারের ব্যবসায়ী পর্যায়ের প্রযোজ্য ৭ দশমিক ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর অব্যাহতি এবং সব ধরনের কীটনাশক আমদানি পর্যায়ে প্রযোজ্য ৭ দশমিক ৫ শতাংশ আগাম কর অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপের ফলে পণ্যমূল্য কমবে। অন্যদিকে কাজুবাদামের ওপর আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির ফলে দেশের অভ্যন্তরে পণ্যটির উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণ উৎসাহিত হবে। পাঙাশ মাছের ফিলেটের ওপর ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করায় দেশে মৎস্য শিল্পের বাজার প্রতিরক্ষণ নিশ্চিত হবে।
আগামী অর্থবছর হতে প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যক্তি শ্রেণীর কর মুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। মহিলা ও ৬৫ বছরের বা তদূর্ধ্ব বয়সের করদাতাদের করমুক্ত আয় সীমা বেড়ে হবে ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা। সর্বোচ্চ করহার আগের মতো ৩০ শতাংশ রাখা হয়েছে। করমুক্ত আয়ের সীমা ৪ লাখ টাকায় বাড়ানো হলে নিম্ন আয়ের করদাতারা স্বস্তি পেতেন।
অর্থনীতিতে গতি সঞ্চারে প্রথম ধাপে (এক বছর) পুনরুদ্ধার কার্যক্রম, দ্বিতীয় ধাপে (এক-তিন বছর) অর্থনীতির উত্তরণ এবং তৃতীয় ধাপে (পাঁচ বছরের মধ্যে) সমৃদ্ধ অর্থনীতি বিনির্মাণের কথা বলা হয়েছে। ২০২৩ সালের মধ্যে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ৫ শতাংশে উত্তরণ এবং মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে কর-জিডিপির অনুপাত ৬ দশমিক ৮ থেকে ৯ দশমিক ৬ শতাংশে এবং রাজস্ব-জিডিপির অনুপাত ৮ থেকে ১১ শতাংশে উন্নীত করা হবে। আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে এবং দেশী ও বিদেশী বিনিয়োগ বাড়বে। তাতে কর্মসংস্থান ও আয় বাড়বে। মানুষের দারিদ্র্য লাঘব হবে। স্বস্তি ফিরে আসবে দেশের সাধারণ মানুষের জীবনে। নয়া সরকারের বাজেট বাস্তবায়নে সাফল্য কামনা করি।
ড. জাহাঙ্গীর আলম: একুশে পদকপ্রাপ্ত কৃষি অর্থনীতিবিদ। সাবেক উপাচার্য, ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেজ (ইউজিভি); সাবেক মহাপরিচালক, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই)