উত্তেজনার মাঝেও দুই দেশের প্রাণী বিনিময়

চীন-তাইওয়ানের টানাপড়েনে বন্ধুত্বের দূত হিসেবে কাজ করছে লাল পান্ডা

আজ শনিবার চীন থেকে তাইপে সিটি চিড়িয়াখানায় পৌঁছেছে ৩ বছর বয়সী একটি পুরুষ ও ২ বছর বয়সী একটি স্ত্রী লাল পান্ডা। নিয়ম অনুযায়ী, তাদের এক মাস কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে। এরপর নতুন পরিবেশের সঙ্গে ধীরে ধীরে মানিয়ে নেয়ার সুযোগ দেয়া হবে। যদিও এখন পর্যন্ত পান্ডা দুটির নাম ঠিক করা হয়নি।

রাজনীতি কখনো সম্পর্কের দরজা বন্ধ করে দেয়, আবার কখনো একটি প্রাণীই সেই বন্ধ দরজায় কড়া নাড়ে। চীন ও তাইওয়ানের সম্পর্ক এখনো উত্তপ্ত। দুই সরকারের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ প্রায় বন্ধ। তবু সেই অচলাবস্থার মাঝেই এক দশকের বেশি সময় পর আবারো সীমান্ত পেরিয়ে তাইওয়ানে পৌঁছেছে দুটি লাল পান্ডা। ছোট্ট এ প্রাণী দুটিকে ঘিরে আবারো আলোচনায় উঠে এসেছে ‘প্রাণী কূটনীতি’।

আজ শনিবার চীন থেকে তাইপে সিটি চিড়িয়াখানায় পৌঁছেছে ৩ বছর বয়সী একটি পুরুষ ও ২ বছর বয়সী একটি স্ত্রী লাল পান্ডা। নিয়ম অনুযায়ী, তাদের এক মাস কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে। এরপর নতুন পরিবেশের সঙ্গে ধীরে ধীরে মানিয়ে নেয়ার সুযোগ দেয়া হবে। যদিও এখন পর্যন্ত পান্ডা দুটির নাম ঠিক করা হয়নি।

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন আবাসে পৌঁছেই পুরুষ পান্ডাটি কৌতূহল নিয়ে চারপাশ ঘুরে দেখেছে এবং খাবারও খেয়েছে। তবে স্ত্রী পান্ডাটি ছিল কিছুটা সতর্ক। সে দূর থেকে নতুন পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করতেই বেশি সময় নিয়েছে। এরপর নতুন জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিলে এদের সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

এর আগে, ২০১৪ সালে চীনের ফুজিয়ান প্রদেশের একটি চিড়িয়াখানা থেকে সর্বশেষ লাল পান্ডা পেয়েছিল তাইপে। লাল পান্ডার প্রাকৃতিক আবাস মূলত চীন, নেপাল, লাওস ও মিয়ানমারের পাহাড়ি বনাঞ্চল। বর্তমানে প্রাণীটি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা প্রজাতির তালিকায় রয়েছে।

প্রাণী বিনিময়ের এ অংশ হিসেবে তাইপেও সাংহাইয়ে পাঠাবে বিশেষ প্রজাতির উল্লুক। প্রাণী বিনিময়ের এ উদ্যোগ দেখিয়ে দিচ্ছে, রাজনৈতিক টানাপড়েন যতই গভীর হোক, নগর পর্যায়ের যোগাযোগ এখনো পুরোপুরি থেমে যায়নি। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা যা-ই থাকুক না কেন, এ ধরনের উদ্যোগ বিলুপ্তপ্রায় লাল পান্ডার বংশবৃদ্ধি ও জিনগত বৈচিত্র্য রক্ষায় বিশ্বব্যাপী বড় ভূমিকা রাখবে।

আরও