মিনেসোটা শহরতলির কেইটলিন ডিলের বাড়ির সদর দরজার পাশের ঝোপটিতে গত চার বছর ধরে বাসা বেঁধেছে একটি বুনো হাঁস। পরিবারের সবাই তাকে আদর করে ‘মার্থা’ বলে ডাকে। কেইটলিনের ৪ বছর বয়সী ছেলের প্রথম কথা বলা শেখে এ হাঁসটিকে দেখেই। প্রতি বছর বসন্তে মার্থা তাদের বাসায় ডিম পেড়ে সেগুলোতে তা দেয়। আর মা দিবসের আশেপাশে ডিম ফুটে ছানা বের হলে সেগুলোকে নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যায়।
কেইটলিন মনে করেন, ছোট্ট ঘটনাটি বুনো প্রাণীর সঙ্গে মানুষের মিলেমিশে থাকার এক দারুণ শিক্ষা।
বসন্তকাল হলো পশুপাখির বংশবৃদ্ধির সময়। অনেক সময় দেখা যায় হরিণ, পাখি বা এমনকি কুমিরও মানুষের বসতির খুব কাছে বাসা তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু সতর্কতা অবলম্বন করলে এ প্রাণীদের সঙ্গে চমৎকারভাবে সহাবস্থান করা সম্ভব।
নিরাপদ জায়গা মনে করে বাসা বানিয়েছে একটি বুনো পাখি
বন্যপ্রাণী পুনর্বাসন কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের মতে, এক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো, তাদের বাসার ধারেকাছে না যাওয়া এবং তাদের বিরক্ত না করা। বাড়ির আশেপাশে কোনো পাখি বা প্রাণীর বাসা খুঁজে পেলে তাদের নিজেদের মতো থাকতে দেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
অনেক সময় বাড়ির উঠোনের কোণে বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের পাশে হরিণশাবক পড়ে থাকতে দেখা যায়। দেখে মনে হতে পারে সেটি পরিত্যক্ত, কিন্তু আসলে মা হরিণ খাবার খুঁজতে যাওয়ার সময় তার ছানাকে রক্ষার জন্য সেখানে লুকিয়ে রেখে যায়। তাই কোনো বিপদের চিহ্ন না দেখলে বুনো প্রাণীর ছানা একা পড়ে থাকতে দেখে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। মা হরিণ ঠিকই ফিরে আসবে। মনে রাখতে হবে, পৃথিবীর অনেক দেশেই আইনগতভাবে বুনো পাখির বাসা সরানো দণ্ডনীয় অপরাধ।
পাখির বাসা সরিয়ে দিলে পরতে হতে আইনি জটিলতায়
অন্যদিকে, দেখতে শান্ত মনে হলেও বুনো প্রাণীরা তাদের সন্তানদের রক্ষায় বেশ আক্রমণাত্মক হতে পারে। হাঁস সাধারণত নিরীহ হলেও রাজহাঁস বা সোয়ান মানুষের হাড় ভেঙে দেওয়ার মতো ক্ষমতা রাখে। একইভাবে বনের এল্ক বা হরিণ জাতীয় প্রাণী এবং ফ্লোরিডার জলাশয়ের পাশের কুমিরেরা তাদের বাসার ধারেকাছে কাউকে সহ্য করে না। তাই বুনো প্রাণীদের সৌন্দর্য দূর থেকে উপভোগ করাই ভালো। এছাড়া তাদের নিজস্ব জায়গার প্রতি সম্মান দেখানো প্রয়োজন।
আবার কখনো কখনো কাঠবিড়ালি বা শিয়ালের মতো প্রাণীরা নৌকার ছাউনি বা শেডের নিচে বাসা বেঁধে ফেলে যা মানুষের জন্য বিড়ম্বনার হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে খাঁচায় বন্দি না করে সেখানে উজ্জ্বল আলো জ্বালিয়ে রাখলে মা প্রাণীটি নিজেই কয়েক দিনের মধ্যে ছানা নিয়ে নিরাপদ জায়গায় চলে যাবে। এছাড়া ঘরের খোলা জায়গাগুলোতে তারের জাল ব্যবহার করে প্রাণীদের প্রবেশ ঠেকানো যেতে পারে।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, সহাবস্থানের এ সময়টি খুবই সাময়িক। একটু ধৈর্য আর মমতা নিয়ে পাশে থাকলে প্রকৃতির এই অদ্ভুত সুন্দর মুহূর্তগুলো উপভোগ করা সম্ভব।
প্রকৃতি ও মানুষের নিবিড় এ বন্ধন আমাদের শেখায় যে, পৃথিবীটা শুধু আমাদের একার নয়। সামান্য সচেতনতা আর সহমর্মিতা থাকলে খুব সহজেই আমরা আমাদের আঙিনায় বুনো প্রাণের জন্য নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করতে পারি। ছোট ছোট এ পদক্ষেপগুলোই শেষ পর্যন্ত জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে ও আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রকৃতির সান্নিধ্যে বেড়ে উঠতে সাহায্য করবে। একটুখানি সহমর্মিতা আর একটু দূরত্ব বজায় রাখার মাধ্যমেই সম্ভব বুনো প্রাণের সঙ্গে মানুষের এই সুন্দর ও ভারসাম্যপূর্ণ সহাবস্থান।
—এপি থেকে তথ্য নিয়ে অনূদিত ও পরিমার্জিত