যুক্তরাষ্ট্রের ফক্স চেজ ক্যান্সার সেন্টারের গবেষণা

মধ্যবয়সে ক্যান্সারের আশঙ্কা বয়স্কাবস্থার চেয়ে বেশি

দায়ী রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার আচরণ

বয়স বাড়ার সঙ্গে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। ক্যান্সারের নিয়ে সাধারণের ধারণাটা মোটামুটি এমনই। যদিও নতুন এক গবেষণা বলছে, বয়স বাড়লেই যে ক্যান্সারের আশঙ্কা একই রকমভাবে বাড়বে, বিষয়টি ঠিক তেমনও নয়। বরং জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে ক্যান্সারের আশঙ্কা ভিন্ন ধরনের হতে পারে। বিশেষ করে মধ্যবয়সে ক্যান্সারের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বয়স্কাবস্থার চেয়ে তুলনামূলক বেশি।

বয়স বাড়ার সঙ্গে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। ক্যান্সারের নিয়ে সাধারণের ধারণাটা মোটামুটি এমনই। যদিও নতুন এক গবেষণা বলছে, বয়স বাড়লেই যে ক্যান্সারের আশঙ্কা একই রকমভাবে বাড়বে, বিষয়টি ঠিক তেমনও নয়। বরং জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে ক্যান্সারের আশঙ্কা ভিন্ন ধরনের হতে পারে। বিশেষ করে মধ্যবয়সে ক্যান্সারের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বয়স্কাবস্থার চেয়ে তুলনামূলক বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রের ফক্স চেজ ক্যান্সার সেন্টারের একদল গবেষক ইঁদুরের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় এমন তথ্য পেয়েছেন। গবেষণার ফল সম্প্রতি আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর ক্যান্সার রিসার্চের বার্ষিক সভায় উপস্থাপন করা হয়।

গবেষণায় তরুণ, মাঝবয়সী ও অত্যন্ত বয়স্ক—এই তিন বয়সের ইঁদুরের মধ্যে ত্বকের মেলানোমা জাতীয় ক্যান্সারের বিস্তার পর্যবেক্ষণ করা হয়। দেখা যায়, তরুণ বয়সী ইঁদুরের ক্যান্সার সবচেয়ে কম ছড়ায়। সবচেয়ে বেশি বিস্তার দেখা যায় মধ্যবয়সী ইঁদুরের মধ্যে। আবার অত্যন্ত বয়স্ক ইঁদুরে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ার হার কিছুটা কম।

গবেষকদের মতে, এই পার্থক্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে শরীরের রোগপ্রতিরোধব্যবস্থা। মানবদেহের মতো ইঁদুরের শরীরেও কিছু বিশেষ রোগপ্রতিরোধী কোষ থাকে, যেগুলো ক্যান্সারের বিরুদ্ধে প্রথম সারির প্রতিরক্ষাবাহিনী হিসেবে কাজ করে। গামা ডেল্টা বা γδ টি-সেল নামে পরিচিত এসব কোষ ক্যান্সারকে শরীরের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সাহায্য করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, তরুণ ও খুব বেশি বয়স্ক ইঁদুরের শরীরে এসব প্রতিরক্ষামূলক কোষের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি ছিল। ফলে তাদের শরীরে ক্যান্সার অনেক সময় নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থেকেছে বা ধীরে ধীরে ছড়িয়েছে। কিন্তু মাঝবয়সী ইঁদুরের ক্ষেত্রে এই কোষের সংখ্যা কম পাওয়া গেছে। এর ফলে ক্যান্সার সহজেই ফুসফুস ও যকৃতের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে ছড়িয়ে পড়তে পেরেছে।

গবেষকদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হলো, ক্যান্সার নিজেই শরীরের প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিতে পারে। বিশেষ করে মাঝবয়সী ইঁদুরে মেলানোমা এমন কিছু রাসায়নিক সংকেত তৈরি করেছে, যা রোগপ্রতিরোধী কোষগুলোর কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। এতে শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরক্ষা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং নিষ্ক্রিয় ক্যান্সার কোষগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে।

এ ধারণা যাচাই করতে গবেষকেরা আরো কিছু পরীক্ষা চালান। তারা যখন তরুণ ও খুব বয়স্ক ইঁদুরের শরীর থেকে এসব রোগপ্রতিরোধী কোষ সরিয়ে দেন, তখন ক্যান্সার দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। আবার মধ্যবয়সী ইঁদুরের ক্ষেত্রে রোগপ্রতিরোধব্যবস্থাকে দমনকারী সংকেত বন্ধ করে দিলে ক্যান্সারের বিস্তার কমে আসে।

গবেষণাগারে তরুণ, মাঝবয়সী ও অত্যন্ত বয়স্ক—এই তিন বয়সের ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা চালানো হয়।। ছবি: এআই-নির্মিত

গবেষণার প্রধান গবেষক মিচেল ফেইনের মতে, বয়স ও ক্যান্সারের সম্পর্ক নিয়ে এখনো অনেক প্রশ্নের উত্তর জানা বাকি। সাধারণভাবে বয়স বাড়ার সঙ্গে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়লেও ৮০ থেকে ৮৫ বছরের পর অনেক মানুষের ক্ষেত্রে সেই হার কমে আসতে দেখা যায়। কেন এমন হয়, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে নতুন এই গবেষণা সেই রহস্য উন্মোচনে সহায়ক হতে পারে।

গবেষকেরা আরো উল্লেখ করেছেন, ক্যান্সার গবেষণায় সাধারণত অল্পবয়সী ইঁদুর ব্যবহার করা হয়। কারণ বয়স্ক ইঁদুর তৈরি ও লালন-পালনে অনেক সময় ও অর্থ ব্যয় হয়। ফলে বাস্তব জীবনের বয়স্ক রোগীদের পরিস্থিতি গবেষণায় সবসময় প্রতিফলিত হয় না।

আরও