যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তির খুব কাছাকাছি: আব্বাস আরাগচি

বর্তমানে যে চুক্তিটি বিবেচনাধীন রয়েছে তা মূলত দুই ধাপে বিভক্ত। প্রথম ধাপটি হলো একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং দ্বিতীয় ধাপে বিভিন্ন বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করা। প্রস্তাবিত এ চুক্তির প্রথম ধাপের আওতায় লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানসহ সব ধরনের লড়াই বন্ধ হবে এবং পুনরায় হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি থাকবে।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ স্থায়ীভাবে অবসানের লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তির খুবই কাছাকাছি রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেয়া এক বার্তায় তিনি জানান, দুই দেশ একটি চুক্তির এতোটা কাছাকাছি কখনো আসেনি। খবর আল জাজিরা।

আরাগচির এ বক্তব্যকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের পক্ষ থেকে উত্থাপিত সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে ইরান সরকারের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে স্পষ্ট সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে একইদিন গভীর রাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ‘প্রেস টিভি’-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি স্পষ্ট করেন, চুক্তিটিতে এখনো স্বাক্ষর হয়নি।

তিনি জানান, বর্তমানে যে চুক্তিটি বিবেচনাধীন রয়েছে তা মূলত দুই ধাপে বিভক্ত। প্রথম ধাপটি হলো একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং দ্বিতীয় ধাপে বিভিন্ন বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করা। প্রস্তাবিত এ চুক্তির প্রথম ধাপের আওতায় লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানসহ সব ধরনের লড়াই বন্ধ হবে এবং পুনরায় হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি থাকবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি আরো বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং অবরুদ্ধ সম্পদ সচল করার মতো বিষয়গুলো পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে আলোচনা করা হবে। এছাড়া হরমুজ প্রণালিতে ইরান ও ওমানের নিয়ন্ত্রণ থাকবে। তবে এর ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা অতীতের চেয়ে ভিন্ন হবে।

প্রাথমিক সমঝোতা স্মারকটি এখনো পর্যালোচনাধীন রয়েছে উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের প্রতি গভীর অবিশ্বাসের কথা জানান আরাগচি। চলমান পারমাণবিক আলোচনার মধ্যেই অতীতে দুবার জটিলতা তৈরি হওয়ার বিষয়টিও তিনি মনে করিয়ে দেন।

এদিকে ইরানের সংসদ স্পিকার ও প্রধান মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক্স-এ এক বার্তায় লিখেছেন, যে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে, তা অবশ্যই রক্ষা করতে হবে। কোনো যদি, কিন্তু বা অজুহাত চলবে না। সামনে যে চুক্তি হতে যাচ্ছে, তার জন্য এর বাইরে অন্য কোনো পথ নেই। যেমন কর্ম, তেমন ফল।

অন্যদিকে এক ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তা শুক্রবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি, তবে তারা খুব কাছাকাছি আছে। তিনি জানান, সমঝোতা স্মারকের আওতায় ইরানকে উল্লেখযোগ্য নিষেধাজ্ঞা থেকে রেহাই দেয়া এবং অবরুদ্ধ সম্পদ ছেড়ে দেয়ার বিনিময়ে দেশটিকে পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ ও পারমাণবিক উপকরণ হস্তান্তর করতে সম্মত হতে হবে।

তবে ওই কর্মকর্তা স্পষ্ট করেছেন, চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই ইরান কোনো সুবিধা পাবে না। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং অর্থ ছাড়ের বিষয়টি সম্পূর্ণ নির্ভর করবে চুক্তিটি ইরান কতটা মেনে চলছে তার ওপর। প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরের পর আরো প্রযুক্তিগত বিষয়ে আলোচনা শুরু হবে। এর আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও চুক্তি সম্পর্কে এমন ধারণাই দিয়েছিলেন।

আরও