মার্কিন হামলার পর বাহরাইন-কুয়েত ও হরমুজে জাহাজে হামলা ইরানের

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, আজ ভোরে বাহরাইনের শেখ ঈসা বিমানঘাঁটি এবং কুয়েতের আলি আল সালেম ও আহমাদ আল-জাবের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে তারা

নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে দুটি জাহাজেও হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে দেশটি। খবর আল জাজিরা।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, আজ ভোরে বাহরাইনের শেখ ঈসা বিমানঘাঁটি এবং কুয়েতের আলি আল সালেম ও আহমাদ আল-জাবের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে তারা।

এ ছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে ‘অবৈধভাবে অতিক্রমের চেষ্টা করা’ দুটি জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকারেও হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান।

আইআরজিসি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি বারবার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে বলেছে, ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত’ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। তাদের দাবি, এ জলপথ দিয়ে চলাচলকারী জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজসহ সব ধরনের নৌযানে এর প্রভাব পড়বে।

এ হামলার আগে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের ভেতরে ‘একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে’ নতুন করে হামলার ঘোষণা দেয়। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এসব হামলা পরিচালিত হয়েছে এবং তা ‘ইরানের অযৌক্তিক ও অব্যাহত আগ্রাসনের জবাব’।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছে কেশম দ্বীপ এবং বন্দর আব্বাস ও সিরিক শহরে বিস্ফোরণ ঘটেছে।

দক্ষিণাঞ্চলীয় কারগান শহরেও বিস্ফোরণ হয়েছে, যেখানে অন্তত দুজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ পাল্টাপাল্টি হামলার একদিন আগে হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করে ইরান। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষ একে অপরের ওপর হামলা চালায়।

ইরান জানিয়েছে, গতকাল তারা বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন পঞ্চম নৌবহর, কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং জর্ডানের আজরাকে একটি বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র কেশম দ্বীপ, সিরিক, জাস্ক ও বন্দর আব্বাস বন্দরে বোমা হামলা চালিয়েছে।

তেহরানের দাবি, মার্কিন হামলায় দুটি পানির সংরক্ষণাগার ধ্বংস হয়েছে এবং একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে গতকাল ইরানের বিরুদ্ধে শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা দীর্ঘায়িত করার অভিযোগ তোলেন ট্রাম্প এবং দেশটিকে ‘খুব কঠোরভাবে’ আঘাত করার হুমকিও দেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারা বারবার সময়ক্ষেপণ করছে। আমাদের বোকা বানানোর চেষ্টা করছে।’

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছিলেন, ইরান শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনায় অনেক বেশি সময় নিয়েছে এবং ‘এখন তাদের এর মূল্য দিতে হবে’।

পরবর্তীতে ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরান যদি কোনো চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে রাজি না হয়, তাহলে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলোয়ও হামলা চালানো হতে পারে।

এর জবাবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক্স পোস্টে বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোই মানুষের জীবনধারা সচল রাখার মূল ভিত্তি। পরিবহন নেটওয়ার্ক থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ ও পানি খাতকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি শক্তির প্রদর্শন নয়, বরং একটি জাতির দৃঢ় সংকল্পের সামনে অসহায়ত্বের প্রকাশ।’

তিনি আরো বলেন, ‘নিজস্ব বিশেষজ্ঞ জ্ঞান ও সক্ষমতা, জাতীয় ঐক্য এবং সংহতির ওপর ভর করে ইরান যেকোনো চাপ বা হুমকির বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকবে।’

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা এমন এক সময়ে বাড়ছে, যখন কয়েক দিন আগেই ইসরায়েল ও ইরান এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর সবচেয়ে গুরুতর সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ওই যুদ্ধবিরতি কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিধ্বংসী হামলা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের পাল্টা হামলার অবসান ঘটিয়েছিল।

এর পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত রয়েছে। ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল ও খাদ্যের দাম বেড়ে গেছে।

যুদ্ধের শুরুর দিকে প্রথমবারের মতো এ জলপথ বন্ধ করে দেয় ইরান। পরে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ আরোপ করলে আবারো তা কার্যকর হয়।

দুই পক্ষ বর্তমানে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তির লক্ষ্যে পরোক্ষ আলোচনায় রয়েছে, যার মাধ্যমে সংঘাত বন্ধ করা হবে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য রেখে দেয়া হবে।

তবে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। ইরান জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার দাবি জানাচ্ছে। পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের তীব্রতর সামরিক অভিযান।

ইরানের অবস্থান হলো, ওয়াশিংটনের সঙ্গে যেকোনো শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে লেবাননের যুদ্ধও বন্ধ করতে হবে। অন্যদিকে ইসরায়েল বলছে, লেবাননের সংঘাত একটি পৃথক বিষয়।

আরও