বার্তা বিভাগের প্রায় দুই হাজার কর্মীকে ছাটাইয়ের পরিকল্পনা করছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। আগামী সপ্তাহে এমন ঘোষণা আসতে পারে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানালেও প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এখনো স্পষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি। খবর ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।
এর আগে বিভিন্ন বিভাগকে প্রায় ১০ শতাংশ ব্যয় কমানোর নির্দেশ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সে ধারাবাহিকতায় এ ছাটাইয়ের মধ্য দিয়ে কয়েকশ মিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে অবগত ব্যক্তিদের মতে, বিবিসির বার্তা বিভাগই প্রথম তাদের পরিকল্পনা জানায়। সে সময় শত শত কর্মী ছাটাইয়ের ঘোষণার তথ্যও জানা যায়। বর্তমানে বিবিসির ২০ হাজারের বেশি কর্মীর প্রায় এক-চতুর্থাংশই বার্তা বিভাগে কর্মরত।
এ ঘোষণার প্রভাব নির্দিষ্ট কিছু রেডিও অনুষ্ঠানেও পড়তে পারে। অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, কাট-ছাঁটের প্রভাব দর্শক ও শ্রোতাদের কাছেও দৃশ্যমান হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি জানান, বার্তা বিভাগের ব্যয়ের বড় অংশই জনবলসংক্রান্ত। ফলে অন্যান্য বিভাগের তুলনায় এ বিভাগে চাকরি হারানোর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, কনটেন্ট-সংক্রান্ত অন্য বিভাগে কর্মী ছাঁটাই ছাড়াও বিভিন্ন খাত থেকে ব্যয় কমানোর সুযোগ রয়েছে, কিন্তু বার্তা বিভাগে সেই সুযোগ সীমিত।
তবে এ বিষয়ে কোনো ধরনের মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বিবিসি।
গত মাসে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বিবিসির নতুন মহাপরিচালক ম্যাট ব্রিটিন বলেন, আর্থিকভাবে স্থিতিশীল ভবিষ্যৎ নিশ্চিতে প্রতিষ্ঠানটিকে কঠিন কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
সাবেক গুগল নির্বাহী ব্রিটিন বলেন, কর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া সবচেয়ে বড় পরামর্শ হলো বিভিন্ন দলে সামান্য সামান্য কাটছাঁট না করা। কারণ এতে কর্মীদের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ সৃষ্টি হবে।
এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানজুড়ে নিয়োগ ও ভ্রমণ ব্যয়ে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যবস্থাপনা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান, সম্মেলন, পুরস্কার বিতরণী এবং বিভিন্ন আয়োজনের ব্যয়ও কমানো হয়েছে।
ব্রিটেনের সামনে এখন একদিকে বিদ্যমান বিভাগগুলোর ব্যয় কমানো, অন্যদিকে ভবিষ্যৎমুখী সেবায় বিনিয়োগ অব্যাহত রাখার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিবিসির আইপ্লেয়ার স্ট্রিমিং সেবার উন্নয়ন এবং তরুণ দর্শকদের আকৃষ্ট করতে ইউটিউবের জন্য আরো কনটেন্ট তৈরি।