গবেষণা

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধে গাছের কার্বন শোষণ ক্ষমতা প্রত্যাশার চেয়ে কম হওয়ার আশঙ্কা

কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির ল্যামন্ট-ডোহার্টি আর্থ অবজারভেটরির গবেষক মুখুন্দ পলাত রাও বলেন, প্রচলিত জলবায়ু মডেলগুলো সাধারণত ধরে নেয় যে সালোকসংশ্লেষণ হলেই গাছের বৃদ্ধি ঘটবে। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি সবসময় এমন নয়

গাছপালা যতটা কার্বন শোষণ করতে পারে বলে ধারণা করা হয়, বাস্তবে হয়তো দীর্ঘমেয়াদে এর চেয়ে কম কার্বন সংরক্ষণ করতে সক্ষম। কারণ, সালোকসংশ্লেষণ সবসময় বৃক্ষের বৃদ্ধিতে রূপ নেয় না—যা কার্বন ডাই–অক্সাইডকে দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রাখার প্রধান উপায়। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

যুক্তরাষ্ট্রের ১৩৭টি বনাঞ্চলে পরিচালিত নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, গাছের বৃদ্ধি অনেক সময় সালোকসংশ্লেষণ বন্ধ হওয়ার কয়েক মাস আগেই থেমে যায়। ফলে গাছ যে পরিমাণ কার্বন শোষণ করে, তার একটি অংশ কাঠে রূপান্তরিত না হয়ে অন্য জৈব প্রক্রিয়ায় ব্যয় হয়ে যায়।

গবেষকদের মতে, বনভূমি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তবে তাদের কার্যকারিতা নির্ভর করে কতটা কার্বন কাঠে জমা রাখা হচ্ছে তার ওপর। কাঠে সংরক্ষিত কার্বন দীর্ঘ সময়—কয়েক দশক থেকে শতাব্দী পর্যন্ত বাতাস থেকে দূরে থাকে, যা জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।

কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির ল্যামন্ট-ডোহার্টি আর্থ অবজারভেটরির গবেষক মুখুন্দ পলাত রাও বলেন, প্রচলিত জলবায়ু মডেলগুলো সাধারণত ধরে নেয় যে সালোকসংশ্লেষণ হলেই গাছের বৃদ্ধি ঘটবে। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি সবসময় এমন নয়।

গবেষণায় দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলের বনগুলোয় বছরে শোষিত কার্বনের প্রায় ৩৬ শতাংশ গাছের বৃদ্ধি বন্ধ হওয়ার পরও অব্যাহত ছিল। ক্যালিফোর্নিয়ার ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ২৬ শতাংশ।

আরো বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গাছের কাঠের বৃদ্ধি মূলত কম শুষ্কতা ও নিম্ন তাপমাত্রার সময়েই ঘটে, যা বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমে যাচ্ছে। ফলে তাপপ্রবাহ ও খরার কারণে গাছের বৃদ্ধি আরো সীমিত হয়ে পড়ছে।

গবেষকরা জানান, খরা ও অতিরিক্ত তাপমাত্রার সময় গাছের বৃদ্ধি প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই থেমে যায়, তবে সালোকসংশ্লেষণ কিছুটা কম গতিতে চলতে থাকে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, যদি জলবায়ু মডেলগুলো সালোকসংশ্লেষণ ও গাছের বৃদ্ধিকে সরাসরি সমতুল্য ধরে নেয়, তবে ভবিষ্যতে বনভূমির কার্বন শোষণ ক্ষমতা বাস্তবের তুলনায় অতিরিক্ত অনুমান হয়ে যেতে পারে।

আরও