সুইডেনের পার্লামেন্ট এমন একটি আইন পাস করেছে, যার মাধ্যমে খারাপ আচরণের অভিযোগে অভিবাসীদের আবাসিক অনুমতি বা রেসিডেন্স পারমিট বাতিল করতে পারবে কর্তৃপক্ষ। ‘গুড বিহেভিয়র’ আইনে বকেয়া ঋণ পরিশোধ না করা, ঘোষণাবহির্ভূত কাজ বা উগ্রপন্থী সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকার মতো বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। খবর রয়টার্স।
আইনটি শুধু নতুন বা বিবেচনাধীন আবাসিক অনুমতির ক্ষেত্রেই নয়, এরই মধ্যে দেয়া অনুমতির ক্ষেত্রেও অতীতের আচরণ বিবেচনায় প্রযোজ্য হবে।
সেপ্টেম্বরের সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সুইডেনের ডানপন্থী সরকার অভিবাসন নীতি কঠোর করার উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন আইনটি বৃহত্তর সেই উদ্যোগের অংশ।
বিরোধী দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো আইনটির সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, কোনো আচরণকে অপরাধ হিসেবে গণ্য না করেও তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ থাকায় আইনটি ইচ্ছামাফিক প্রয়োগের ঝুঁকি তৈরি করেছে।
স্টকহোমভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন সিভিল রাইটস ডিফেন্ডার্স এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘গুড বিহেভিয়র আইন মানুষকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেবে। কারণ কোন কাজ বা কোন ধরনের মতপ্রকাশ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হতে পারে, তা তারা জানে না।’
সংগঠনটি আরো বলেছে, ‘পদক্ষেপটি আইনের শাসন এবং আইনের চোখে সবার সমতার নীতিকে দুর্বল করে।’
২০২২ সালের নির্বাচনে অভিবাসন হ্রাস এবং অপরাধ দমনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসে সুইডেনের বর্তমান সরকার। তারা বলছে, যারা অসদাচরণ করে বা অপরাধে জড়িত, তাদের সুইডেনে থাকার সুযোগ থাকা উচিত নয়।
আইনটিতে ঠিক কোন কোন আচরণকে অগ্রহণযোগ্য হিসেবে গণ্য করা হবে, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। তবে সরকার বকেয়া ঋণ, কর পরিশোধে ব্যর্থতা, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং উগ্রপন্থী সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার বিষয়গুলোকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
আবাসিক অনুমতি পর্যালোচনার দায়িত্ব থাকবে সুইডিশ মাইগ্রেশন এজেন্সি। সংস্থাটির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অভিবাসন আদালতে আপিল করা যাবে।
গত মার্চে বিলটি উপস্থাপনের সময় দেশটির অভিবাসনমন্ত্রী জোহান ফরসেল বলেছিলেন, ‘যারা সঠিক কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় চেষ্টা করে না, তারা এখানে থাকার নিশ্চয়তা পাবে— এমনটা আশা করতে পারে না।’