দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা একটি কাঠামোগত চুক্তি স্বাক্ষরের পূর্বাভাস দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের নেতারা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটানোই এর লক্ষ্য। তবে তেহরান সময়সূচি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। এছাড়া দেশটির মধ্যেই উদ্যোগটির বিরোধিতা দেখা যাচ্ছে। খবর রয়টার্স।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তিটি পরবর্তী দিন, অর্থাৎ তার ৮০তম জন্মদিনে স্বাক্ষরের জন্য নির্ধারিত রয়েছে।
ট্রাম্পের আলাপ অনুসারে, আজ ১৪ জুন কাঠামোগত চুক্তি স্বাক্ষর হবে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ বলেছেন, দুই পক্ষ একটি শান্তিচুক্তির কাঠামোতে পৌঁছেছে এবং ইসলামাবাদ রোববার একটি ইলেকট্রনিক সাইনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর পরের সপ্তাহে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা শুরু হবে।
তবে ইরান স্বাক্ষরের সময়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। ট্রাম্পের পোস্টের আগেই সতর্ক করে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমায়েল বাঘাই বলেন, স্বাক্ষরের সময়সূচি নিয়ে মন্তব্য করা ঠিক নয়। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে তাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘এটি আগামীকাল হবে না’, তবে ‘কয়েক দিনের মধ্যেই’ হতে পারে।
ট্রাম্প লেখেন, কাঠামোগত চুক্তি স্বাক্ষরের পর পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি ‘সবার জন্য অবিলম্বে উন্মুক্ত’ হবে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ইরানি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, তেহরানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে এবং বিভিন্ন চত্বরে চুক্তির বিরোধীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করছে। তারা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি-কে দায়ী করে চুক্তিবিরোধী স্লোগান দেন।
চুক্তির দিকে অগ্রগতির ইঙ্গিত মিললেও গতকাল পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত ছিল। গতকাল ভোরে মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালির দিকে আসা একাধিক ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির অংশ নয় বলে নিজেদের দাবি করছে ইসরায়েল। গতকাল জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী ২৪ ঘণ্টায় লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ৭০টিরও বেশি স্থানে হামলা চালিয়েছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মতবিরোধে জড়িয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। কারণ ওয়াশিংটন চাইছে ইসরায়েল লেবাননে সামরিক অভিযান সীমিত করুক, যাতে তেহরানের সঙ্গে চুক্তি এগিয়ে নেয়া যায়।