শিকাগোয় এন্ডোক্রাইন সোসাইটির বার্ষিক সম্মেলনে উপস্থাপিত গবেষণার তথ্য

প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় অ্যাংজাইটির শঙ্কা বাড়ায় জন্মের আগে-পরে প্লাস্টিকের সংস্পর্শ

প্লাস্টিকে বহুল ব্যবহৃত একটি রাসায়নিক শিশুর মস্তিষ্ক বিকাশের ধারায় নীরব পরিবর্তন নিয়ে আসে। ফলে ওই রাসায়নিকের সংস্পর্শ শেষ হওয়ার অনেক পর প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায়ও অ্যাংজাইটিতে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়।

শিশুর জন্মের আগে-পরে প্লাস্টিকের সংস্পর্শ ভবিষ্যতে তার মধ্যে অ্যাংজাইটি বা উদ্বেগপ্রবণতার আশঙ্কা বাড়ায়। যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোয় অনুষ্ঠিত এন্ডোক্রাইন সোসাইটির বার্ষিক সম্মেলন এনডো ২০২৬-এ উপস্থাপিত এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। আর্জেন্টিনার ইউনিভার্সিটি অব বুয়েনস আয়ার্স স্কুল অব মেডিসিনের ফিজিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ওসভালদো হুয়ান পোনজোর নেতৃত্বে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। এতে দেখা যায়, প্লাস্টিকে বহুল ব্যবহৃত একটি রাসায়নিক শিশুর মস্তিষ্ক বিকাশের ধারায় নীরব পরিবর্তন নিয়ে আসে। ফলে ওই রাসায়নিকের সংস্পর্শ শেষ হওয়ার অনেক পর প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায়ও অ্যাংজাইটিতে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়।

গবেষণাগারে ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে প্লাস্টিকের উপাদানগুলোর মধ্যে এজন্য দায়ী রাসায়নিককেও চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা দেখতে পান, জীবনের প্রাথমিক পর্যায়ে ডিইএইচপি নামের একটি প্লাস্টিসাইজারের (প্লাস্টিককে আরো নমনীয়, নরম ও টেকসই করতে ব্যবহৃত রাসায়নিক) সংস্পর্শে আসা পুরুষ ইঁদুরগুলো প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর অন্য ইঁদুরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি উদ্বেগপ্রবণ আচরণ প্রদর্শন করে। চিকিৎসাসামগ্রী থেকে শুরু করে খেলনা পর্যন্ত নানা পণ্যে ব্যবহৃত হয় এ রাসায়নিক। এ রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসা ইঁদুরগুলোর মধ্যে পরবর্তীতে দ্বিধান্বিত আচরণ ও স্থির হয়ে থাকার প্রবণতা দেখা গেছে বেশি। এ আচরণ ও প্রবণতাকে ইঁদুরের মধ্যে অ্যাংজাইটির লক্ষণ হিসেবে দেখে থাকেন বিশেষজ্ঞরা।

যদিও গবেষণাটি ইঁদুরের ওপর পরিচালিত হয়েছে, তবু ফলাফল ইঙ্গিত দেয় যে জন্মের আগে ও জন্মের পরপরই এন্ডোক্রাইনে (শরীরের হরমোন উৎপাদন ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা) বিঘ্ন ঘটানো রাসায়নিকের সংস্পর্শ মানুষের ক্ষেত্রেও দীর্ঘমেয়াদি আচরণগত পরিবর্তনের কারণ হতে পারে।

এ বিষয়ে প্রধান গবেষক আর্জেন্টিনার ইউনিভার্সিটি অব বুয়েনস আয়ার্সের স্কুল অব মেডিসিনের ফিজিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ওসভালদো হুয়ান পোনজো বলেন, ‘এই গবেষণা দেখিয়েছে, বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত প্লাস্টিসাইজারগুলোর একটি ভ্রূণাবস্থা ও জন্ম-পরবর্তী বিকাশপর্বে শিশুর সংস্পর্শে এলে ভবিষ্যতে তার আচরণগত পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম, এবং এ প্রভাব দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ী থাকতে পারে।”

গবেষণায় এর জন্য দায়ী হিসেবে চিহ্নিত প্লাস্টিসাইজার রাসায়নিকটির নাম ডাই-(২-ইথাইলহেক্সাইল) ফথালেট। চিকিৎসাসামগ্রী, খেলনা, শাওয়ার পর্দা ও রেইনকোটসহ বহু পণ্যে এর ব্যবহার রয়েছে। এর আগের বিভিন্ন গবেষণাগুলোতেয় দেখা গেছে, ডিইএইচপি এবং এটি ভেঙে তৈরি হওয়া যৌগগুলো প্রাণী ও মানুষের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গতন্ত্রকে প্রভাবিত করতে পারে, বিশেষ করে প্রজনন ও স্নায়ুতন্ত্রকে।

গবেষণার জন্য গর্ভবতী স্ত্রী ইঁদুরদের গর্ভধারণের প্রথম দিন থেকে শুরু করে বাচ্চাদের দুধ ছাড়ানো পর্যন্ত প্রতিদিন মুখে ডিইএইচপি দেয়া হয়। এর পর ৭০ দিন বয়সে ইঁদুরের পুরুষ বাচ্চাগুলো প্রাপ্তবয়স্ক হলে সেগুলোর আচরণ ও প্রবণতাকে পর্যবেক্ষণ করা হয়।

পোনজো বলেন, ‘আমাদের গবেষণা দেখিয়েছে, জীবনের প্রাথমিক পর্যায়ে ডিইএইচপির সংস্পর্শ প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় অ্যাংজাইটি ও এ সংক্রান্ত আচরণে পরিবর্তন আনতে পারে। এমনকি পরে আর ডিইএইচপির সংস্পর্শে না এলেও এ প্রবণতা দেখা যায়।’

আরও