বিশ্বসেরা অ্যাটাকিং ফোর্স নিয়েও কেন জিততে পারল না স্পেন

স্পেন কোচ লুই দে লা ফুয়েন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। চোট থেকে পুরোপুরি সেরে না ওঠা লামিনে ইয়ামালকে শুরু থেকে না খেলানো প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু ফর্মে থাকা নিকো উইলিয়ামসকেও বেঞ্চে রাখা অনেককে বিস্মিত করেছে। প্রথমার্ধে গোল না পাওয়ার পরও কৌশলে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনেননি কোচ। শেষ পর্যন্ত ৭০ মিনিটে ইয়ামাল ও মিকেল মেরিনোকে মাঠে নামাতে বাধ্য হন তিনি

বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার হিসেবে টুর্নামেন্টে এসেছে স্পেন। অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশেলে গড়া দল, দুর্দান্ত ফর্মে থাকা একাধিক ফুটবলার এবং আক্রমণভাগে বিপুল বৈচিত্র্য। সব মিলিয়ে দলটি নিয়ে ছিল আলোচনা। কিন্তু প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে আসা কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে হতাশ করেছে ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এত শক্তিশালী আক্রমণভাগ থাকা সত্ত্বেও কেন জয় তুলে নিতে পারল না স্পেন?

দাপট ছিল, গোল ছিল না

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য ছিল স্পেনের। অধিকাংশ সময় খেলা হয়েছে কেপ ভার্দের অর্ধে। তবে শেষ দিকে এসে বারবার থেমে গেছে আক্রমণ। সুযোগ তৈরি করলেও সেগুলোকে গোলে রূপ দিতে পারেননি স্প্যানিশ ফরোয়ার্ডরা। বলের দখল ও পাসের সংখ্যায় এগিয়ে থেকেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি অর্থাৎ গোল করতে ব্যর্থ হন তারা।

কেপ ভার্দের সংগঠিত রক্ষণভাগ

স্পেনের ব্যর্থতার সবচেয়ে বড় কারণ কেপ ভার্দের শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণভাগ। আফ্রিকার দেশটির ফুটবলাররা নিজেদের অর্ধে জায়গা সংকুচিত করে রাখেন এবং বক্সের ভেতরে স্পেনকে কার্যত ঢুকতেই দেননি। ব্লক, ট্যাকল ও কড়া মার্কিংয়ের মাধ্যমে তারা একের পর এক আক্রমণ নস্যাৎ করে দেয়। বল হারালেও দ্রুত ফিরে এসে জায়গা পূরণ করেছেন সতীর্থরা। ফলে স্পেনের আক্রমণভাগ কখনোই স্বচ্ছন্দ হতে পারেনি।

গোলরক্ষক ভোজিনহার অনবদ্য পারফরম্যান্স

কেপ ভার্দের রক্ষণভাগের পাশাপাশি বড় বাধা হয়ে দাঁড়ান ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজ়িনহা। পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব চাভেসের হয়ে খেলা এ অভিজ্ঞ গোলরক্ষক অন্তত পাঁচটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ রুখে দেন। তার দুর্দান্ত রিফ্লেক্স ও আত্মবিশ্বাস স্পেনের ফুটবলারদের হতাশ করে। ম্যাচে কেপ ভার্দের সবচেয়ে বড় নায়কও ছিলেন তিনিই।

পরিকল্পনায় কি ভুল ছিল?

স্পেন কোচ লুই দে লা ফুয়েন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। চোট থেকে পুরোপুরি সেরে না ওঠা লামিনে ইয়ামালকে শুরু থেকে না খেলানো প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু ফর্মে থাকা নিকো উইলিয়ামসকেও বেঞ্চে রাখা অনেককে বিস্মিত করেছে। প্রথমার্ধে গোল না পাওয়ার পরও কৌশলে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনেননি কোচ। শেষ পর্যন্ত ৭০ মিনিটে ইয়ামাল ও মিকেল মেরিনোকে মাঠে নামাতে বাধ্য হন তিনি।

ইয়ামাল-মেরিনোকেও কাজে লাগাতে পারেনি স্পেন

গোলের খোঁজে শেষ ২০ মিনিটে ইয়ামাল ও মেরিনোকে নামিয়ে আক্রমণভাগে নতুন মাত্রা আনার চেষ্টা করে স্পেন। কিন্তু ততক্ষণে কেপ ভার্দের রক্ষণ আরো আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে। জোড়া আক্রমণভাগ নিয়েও প্রতিপক্ষের জমাট ডিফেন্স ভাঙতে পারেনি স্পেন।

কেপ ভার্দেও পাল্টা পরীক্ষা নিয়েছে

শুধু রক্ষণভাগেই সীমাবদ্ধ ছিল না কেপ ভার্দে। সুযোগ পেলেই পাল্টা আক্রমণে উঠেছে তারা। কয়েকবার স্পেনের রক্ষণভাগকেও চাপে ফেলেছে। যদিও সেগুলো থেকে বড় কোনো সুযোগ তৈরি হয়নি, তবু স্পেনকে পুরোপুরি নিশ্চিন্ত থাকতে দেয়নি কেপ ভার্দে।

স্পেনের জন্য সতর্কবার্তা

ম্যাচে বলের দখল, পাস কিংবা আক্রমণের সংখ্যায় স্পষ্ট আধিপত্য ছিল স্পেনের। কিন্তু সংগঠিত রক্ষণভাগ, দুর্দান্ত গোলকিপিং এবং নিজেদের আক্রমণভাগের অকার্যকারিতার কারণে জয় অধরাই থেকে যায়। বিশ্বকাপের অন্যতম শক্তিশালী অ্যাটাকিং ফোর্স নিয়ে আসা স্পেনের জন্য এই ড্র তাই শুধু দুই পয়েন্ট হারানো নয়, বরং টুর্নামেন্টের শুরুতেই একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তাও।

আরও