ম্যাচ শেষে কেপ ভার্দে কোচ

ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ কেবল বল দখলে রাখা নয়

বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে আলোচনায় আটলান্টিক মহাসাগরের ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে।

আফ্রিকা মহাদেশ থেকে বাছাইপর্বের বৈতরণী পার হয়ে বিশ্বকাপে আসা দলটি সোমবার রাতে আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ইউরোপের পরাশক্তি ও সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে গোলশূন্যভাবে রুখে দিয়েছে। প্রায় ৭৫ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে গোলের জন্য ২৭টি শট নেয় স্পেন, যার সাতটি ছিল লক্ষ্যে। কেপ ভার্দে ছয়টি শট নিয়ে একটিই লক্ষ্যে রাখতে পারে। তাতে কী? ম্যাচ শেষে ফল—ড্র। উভয় দল সমান পয়েন্ট নিয়ে ঘরে ফিরেছে।

বিশ্বকাপ অভিষেকে ম্যাচের লম্বা সময় রক্ষণে গুটিয়ে থাকেন কেপ ভার্দের খেলোয়াড়রা। স্পেনের মুহুর্মুহু আক্রমণ রুখে দেয় তাদের রক্ষণজাল। কোচ পেদ্রো লেইতাও ব্রিতো (বুবিস্তা) বললেন, শুধু বল দখলে রেখে নয়, এভাবেও কোনো ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেন তারাই। তার ভাষায়, ‘অবশ্যই আমরা বলতে পারি যে প্রায় পুরোটা সময় বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল স্পেনের। তবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ কেবল বল দখলে রাখা নয়। আমরা সেটা করেছি ভিন্নভাবে। অবশ্যই আমরা আরো বেশি আক্রমণ করতে চাইতাম, তবে স্পেন দল কঠিন প্রতিপক্ষ। তাই আমরা এটা নিয়ে খুশি।’

বিশ্বকাপ ৪৮ দলের হওয়ায় কেপ ভার্দের মতো দলগুলো সুযোগ পেয়েছে। এ নিয়ে বুবিস্তা বলেন, ‘এখন ছোট দলগুলো উচ্চ পর্যায়ের দলগুলোর বিপক্ষে খেলার সুযোগ পাচ্ছে। আমার মনে হয় ফুটবল হলো দৃঢ়সংকল্প ও সংগঠিত থাকা, বড় দলগুলোর বিপক্ষে নিজেদের সেরা চেষ্টার জন্য এগুলোকেই ছোট দলগুলো ভিত্তি হিসেবে নিয়েছে।’

কেপ ভার্দের প্রথম লক্ষ্য পূরণের পর বুবিস্তা বলেছেন, তাদের কাজ শেষ এখনো হয়নি। এ কোচের কথায়, ‘আমরা সবসময়ই বলেছি যে আমরা সবাইকে আমাদের দেশ, আমাদের দলকে দেখাতে চাই। আমরা জমাট রক্ষণ ও সাহসিকতা দেখিয়েছি। আর আমাদের দেশ কী তার প্রমাণ দিয়েছি—মানিয়ে নেয়া এবং কঠিন পরিস্থিতি পেরিয়ে যাওয়া। এখানে আসার আগে আমি বলেছিলাম, আমাদের লক্ষ্য হলো উচ্চ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা। নিশ্চিতভাবেই আমাদের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, এটা আমরা জানি। বাধা অতিক্রম করার জন্য আমাদের সবটুকু দিয়ে আমরা চেষ্টা করব।’

বীরত্বপূর্ণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনিয়া এখন সারা বিশ্বে পরিচিত হয়ে উঠেছেন। তার প্রশংসার পাশাপাশি দলের সবার অবদানও স্বীকার করলেন তিনি। বুবিস্তা বলেন, ‘মাঠে সেরা খেলোয়াড় ছিল সে। তাকেও অভিনন্দন জানানো উচিত। তবে আমি মনে করি, রক্ষণের দিক থেকে আমাদের দল খুব ভালো ছিল। অবশ্যই সে আমাদের দলকে সেখানে সাহায্য করেছে। অবশ্যই তাকে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে বেছে নেয়ায় আমি খুশি। তবে আমি মনে করি, আমাদের দল অসাধারণ খেলেছে।’

বাংলাদেশ সময় আগামী সোমবার ভোরে আরেক সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে কেপ ভার্দে।

১৪ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন কেপ ভার্দের এলিজাবেথ দস সান্তোস। ৫০ বছর বয়সী সহকারী ব্যাংক ম্যানেজার খেলা শেষে চিৎকার করে জানাচ্ছিলেন নিজের প্রতিক্রিয়া, ‘ওহ ঈশ্বর, মনে হচ্ছে যেন আমরা বিশ্বকাপ জিতেছি! সবাই মনে করেছিল, স্পেন আমাদের হারাবে। আমরা তাদের ভুল প্রমাণ করেছি। আমরা ছোট কিন্তু আমাদের হৃদয় অনেক বড়।’

২০১০ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ও বর্তমান ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে দলকে ড্র করতে দেখে ভীষণ গর্বিত ২৮ বছর বয়সী প্রাক-স্কুল শিক্ষক গাবি ভিয়েইরা। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপে এবারই আমরা প্রথম এবং এখানে কোনো প্রত্যাশা নিয়ে আসিনি। আমরা সবসময়ই নিজেদের পতাকা গর্ব নিয়ে বহন করি। তবে আজ এবং এ মাসে সেটা অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। কারণ এখন সবাই আমাদের পতাকা দেখবে এবং আমাদের দেশের নাম শুনবে।’

আরও