‘‌শিল্পীর কোনো অবসর নেই’

বাংলাদেশের সিনেমার নায়িকা সূচরিতা। একসময় তিনি ছিলেন সিনেমার হার্টথ্রব নায়িকা। লাখো তরুণের মনে ঝড় তুলেছেন তিনি।

সেই সঙ্গে মানসম্পন্ন অভিনয়ও এসেছে তার কাছ থেকে। অভিনয়কে ভালোবাসেন সূচরিতা। তাই পরিণত বয়সে নানা চরিত্রে অভিনয় করেছেন। বেশি অভিনয় করেছেন মায়ের চরিত্রে। এখন আর সিনেমায় তাকে দেখা যায় না। কেননা ভালো গল্পের সিনেমার অভাব রয়েছে। দর্শকের ভালোবাসা জীবনের সেরা প্রাপ্তি মনে করেন সূচরিতা। তিনি মনে করেন, একজন শিল্পী কখনো অবসরে যান না।

এখন রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোমেটিক জোনে নিজের বাসায় সময় কাটে সূচরিতার। দীর্ঘদিনের অভিনয়জীবনে তিনি পেয়েছেন এ দেশের কোটি কোটি দর্শকের অসীম ভালোবাসা।

অভিনয়জীবনের প্রাপ্তি প্রসঙ্গে সূচরিতা বলেন, ‘সেই ছোট্টবেলা থেকে সিনেমায় অভিনয় করছি আমি। পরিণত বয়সে এসে নায়িকা হয়েও বহু সিনেমায় অভিনয় করেছি। বারবার দর্শকের ভালোবাসায় নিজেকে সিক্ত করেছি।’

মুস্তাফিজের ‘কুলি’ চলচ্চিত্রে শিশু চরিত্রে প্রথম অভিনয় করেন সূচরিতা। তখন তার নাম ছিল হেলেন। কুলি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পর তিনি শিশু চরিত্রে আরো অভিনয় করেন ‘নিমাই সন্নাসী’, ‘অবাঞ্ছিত’, ‘রং বেরং’, ‘টাকা আনা পাই’, কতো যে মিনতি’, ‘রাজ মুকুট’, ‘বাবলু’সহ আরো বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে। নায়িকা হিসেবে আজিজুর রহমানের নির্দেশনায় ‘স্বীকৃতি’, দীলিপ বিশ্বাসের ‘সমাধি’ এবং অশোক ঘোষের ‘মাস্তান’ চলচ্চিত্রে পরপর অভিনয় করেন। তবে ১৯৭৭ সালে প্রয়াত আব্দুল লতিফ বাচ্চুর ‘জাদুর বাঁশী’ সিনেমায় তার অভিনয় তাকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দেয়।

এরপর একসময় নায়িকার চরিত্র ছেড়ে অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেন। তিনি বলেন, ‘যখন সিনেমায় মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছি, তখনো দর্শক আমার চরিত্রগুলোকে নিয়ে আবেগে মেতেছেন। এই যে দর্শকের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা এটাই এক জীবনে অনেক বড় প্রাপ্তি।’

শিল্পীর জীবন নিয়ে সূচরিতা বলেন, ‘আমি মনে করি একজন শিল্পী যতদিন সুস্থ থাকেন, সচেতন থাকেন, ভালো থাকেন ততদিনই তিনি অভিনয় করে যেতে পারেন। শিল্পীদের কোনো অবসর নেই। তাই আমি যতদিন অভিনয় করব, ততদিন যেন আমাকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা দেয়া না হয়।’

প্রায় ৩০০ সিনেমায় অভিনয় করেছেন সূচরিতা। তার অভিনীত চলচ্চিত্রের মধ্যে ‘বজ্রমুষ্ঠি’ সিনেমার ‘জীবনে একজন প্রিয়জন সবারই প্রয়োজন’, ‘আঁখি মিলন’ চলচ্চিত্রের ‘আমার গরুর গাড়িতে’ ও ‘জাদুর বাঁশি’ চলচ্চিত্রের ‘আকাশ বীনা চাঁদ’ গানগুলো উল্লেখযোগ্য।

আরও