কে-ড্রামার ‘সেকেন্ড লিড সিনড্রোম’

নায়ক না হয়েও নায়কের আসনে অভিনেতারা

কে-ড্রামা দেখেন, কিন্তু ‘সেকেন্ড লিড’কে ভালোবেসে ফেলেননি এমন দর্শক কমই আছে।

গল্পের শেষে নায়িকা যখন নায়কের হাত ধরে সুখের পরিণতির দিকে এগিয়ে যায়, তখন অসংখ্য দর্শকের মন পড়ে থাকে সে মানুষের জন্য, যে সবকিছু করেও ভালোবাসার মানুষটিকে পায়নি। অথচ পর্দার গল্পে হেরে যাওয়া সে চরিত্রই অনেক সময় বাস্তব জীবনে হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় বিজয়ী। ড্রামার চরিত্রের পাশাপাশি পেশাগত জীবনেও এ অভিনেতারা তারকা হতে শুরু করেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার রোমান্টিক ড্রামাগুলোর অন্যতম পরিচিত বৈশিষ্ট্য হলো শক্তিশালী সেকেন্ড লিড চরিত্র। তারা হয়তো মূল প্রেমের গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন না, কিন্তু আবেগ, ত্যাগ, ব্যক্তিত্ব ও মানবিকতার কারণে দর্শকের হৃদয়ে আলাদা জায়গা করে নেন। সেখান থেকেই জন্ম নেয় সেকেন্ড লিড সিনড্রোম। এটি ঘটে দর্শকের ক্ষেত্রে। তারা নায়কের তুলনায় প্রধান পার্শ্ব অভিনেতাকে বেশি পছন্দ করতে শুরু করেন।

এ প্রবণতার সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণগুলোর একটি ছিল ‘স্টার্ট-আপ’। ড্রামাটিতে কিম সন-হো অভিনয় করেছিলেন হান জি-পিয়ং চরিত্রে। মেধাবী, সফল, কিন্তু আবেগে ভরপুর এ চরিত্র এতটাই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দর্শকের বড় একটি অংশ প্রকাশ্যে দাবি জানায়, নায়িকার শেষ পর্যন্ত তার সঙ্গেই থাকা উচিত ছিল। কিম সন-হোর অভিনয় তাকে শুধু দর্শকপ্রিয়তাই দেয়নি, বরং কোরিয়ান বিনোদন জগতের অন্যতম চাহিদাসম্পন্ন তারকায় পরিণত করেছে।

একইভাবে বিয়ন উ-সকের উত্থানও ছিল ধাপে ধাপে। ‘রেকর্ড অব ইয়োথ’ বা ‘স্ট্রং গার্ল নাম-সুন’-এ নজর কাড়লেও ‘লাভলি রানার’ তাকে আন্তর্জাতিক জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দেয়। আজ তিনি কে-ড্রামার সবচেয়ে আলোচিত তারকাদের একজন।

হোয়াং ইন-ইয়পের ক্ষেত্রেও ঘটেছে একই ঘটনা। ‘ট্রু বিউটি’তে বিদ্রোহী কিন্তু কোমল হৃদয়ের হান সিও-জুন চরিত্রে অভিনয় করে তিনি লাখো দর্শকের হৃদয় জয় করেন। ড্রামাটি প্রচারের সময় দর্শকের মধ্যে মূল নায়ককে ঘিরে যত আলোচনা হয়েছিল, তার চেয়ে কম আবেগ ছিল না সেকেন্ড লিডকে ঘিরে। এ জনপ্রিয়তাই তাকে বৈশ্বিক পরিচিতি এনে দেয়।

লি ডো-হিউনের যাত্রাও উল্লেখযোগ্য। ‘হোটেল ডেল লুনা’য় তার উপস্থিতি ছিল সংক্ষিপ্ত, কিন্তু আবেগঘন সে চরিত্র দর্শকের মনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। পরবর্তী সময়ে তিনি একের পর এক সফল নাটকে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন।

অন্যদিকে ‘বিজনেস প্রপোজাল’-এর চা সাং-হুন চরিত্রে অভিনয় করে কিম মিন-কিউও দর্শকের প্রিয় মুখে পরিণত হন। মূল প্রেমের গল্পের বাইরে থেকেও তিনি এতটাই জনপ্রিয়তা অর্জন করেন যে তার অভিনীত দৃশ্যগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রশ্ন হলো, কেন সেকেন্ড লিডরা এত জনপ্রিয়? এর উত্তর লুকিয়ে আছে দর্শকের আবেগে। অধিকাংশ সময় সেকেন্ড লিড চরিত্রগুলোকে আরো মানবিক, আরো আত্মত্যাগী এবং আরো গভীরভাবে নির্মাণ করা হয়। তারা ভালোবাসে নিঃস্বার্থভাবে, হারায় নীরবে এবং দর্শকের মনে এক ধরনের ‘যদি এমন হতো’ অনুভূতি তৈরি করে। এ অপূর্ণতাই তাদের চরিত্রকে স্মরণীয় করে তোলে। আসলে কে-ড্রামার সেকেন্ড লিডরা গল্পের মধ্যে হয়তো প্রেমে হেরে যান, কিন্তু দর্শকের হৃদয়ে জিতে নেন স্থায়ী আসন। তাদের ব্যর্থ প্রেমই হয়ে ওঠে ভবিষ্যৎ সাফল্যের ভিত্তি। পর্দার আড়ালে সেই হারানো প্রেমিকই একসময় নতুন গল্পের নায়ক হয়ে ফিরে আসেন আর প্রমাণ করেন, কখনো কখনো সহকারী চরিত্রের ভূমিকাই একটি তারকাখ্যাতির সবচেয়ে শক্তিশালী সূচনা হতে পারে।

ইয়ন অবলম্বনে আসরার আবেদিন

আরও