এবার দীর্ঘ প্রায় ৩১ বছরের বিরতি কাটিয়ে একটি আধুনিক গানের একক অ্যালবাম নিয়ে হাজির হচ্ছেন তিনি।
নিজের অতীত নিয়ে ফেরদৌস আরা বলেন, ‘পেছনের কথা বলতে গেলে, ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) অডিশন দিয়ে আমি নজরুল ও আধুনিক উভয় বিভাগেই প্রথম শ্রেণীর শিল্পী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছিলাম। কিন্তু আমার আব্বা মনে-প্রাণে চাইতেন না যে আমি আধুনিক গান নিয়ে পেশাদারভাবে ক্যারিয়ারে এগোই। তাই আব্বার ইচ্ছাকে সর্বোচ্চ সম্মান জানিয়ে নজরুলসংগীত নিয়েই নিজেকে সবসময় ব্যস্ত রেখেছিলাম। তবে সংগীতের প্রতি ভালোবাসা থেকে বিভিন্ন সময় শ্রোতা ও পরিচালকদের অনুরোধে কিছু আধুনিক গানও গেয়েছি, যার মধ্যে রয়েছে চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক, নাটকের গান এবং বিটিভির বিভিন্ন বিশেষ অনুষ্ঠান। ১৯৯৫ সালে একটি বিশেষ আধুনিক গানের অ্যালবামও করেছিলাম। ভারতের ঐতিহ্যবাহী সংগীত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এইচএমভি থেকে প্রকাশিত সে অ্যালবামের নাম ছিল “মনের পাখি কথা কয়”। এরপর দেখতে দেখতে অনেক বছর কেটে গেছে, নানা ব্যস্ততায় আর কোনো আধুনিক গানের অ্যালবাম করা হয়ে ওঠেনি। তবে মাসখানেক আগে “আহা কি সুন্দর ঘুড়ি” শিরোনামে একটি নতুন আধুনিক গান রেকর্ড করার সময় হঠাৎ করেই আমার মনে হলো, নতুন করে আবার আধুনিক গানের একটি চমৎকার অ্যালবাম করা যায়। মূলত সে তাৎক্ষণিক ভাবনা ও ভালো লাগা থেকেই আবার নতুন করে কাজ শুরু করি।’
তিনি আরো জানান, শ্রোতাদের জন্য তৈরি হতে যাওয়া এ নতুন অ্যালবামের সম্ভাব্য নাম রাখা হয়েছে ‘প্রেম’। যদিও অ্যালবামটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের আগে এ নাম পরিবর্তনের কিছুটা সুযোগ রয়েছে। পুরো অ্যালবামটিতে মোট ১০টি ভিন্ন স্বাদের গান রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি গানের রেকর্ডিং ও সুরের কাজ এরই মধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি গানগুলোর কাজও খুব দ্রুত শেষ করার জন্য জোর প্রস্তুতি চলছে।
ফেরদৌস আরার ভাষ্য অনুযায়ী, এ প্রজন্মের নতুন শ্রোতাদের আধুনিক রুচি, মানসিকতা ও পছন্দকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েই গানগুলোর চমৎকার কথা ও সুর তৈরি করা হচ্ছে। বর্তমান যুগের চাহিদার কথা মাথায় রেখে শুধু অডিও অ্যালবাম নয়, বরং প্রতিটি গানের নান্দনিকতা ফুটিয়ে তুলতে আলাদা আলাদা মিউজিক ভিডিও নির্মাণেরও একটি বড় পরিকল্পনা রয়েছে।