ইউরোপে তিন মাসে পোশাক রপ্তানি কমেছে ১৯ শতাংশ

411
সোহেল রহমান

ইউরোপে তিন মাসে পোশাক রপ্তানি কমেছে ১৯ শতাংশ
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাজারে চলতি বছরের শুরুতেই বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে এই বাজারে দেশের পোশাক রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পর ইইউভুক্ত দেশগুলোতে তৈরি পোশাক রপ্তানি কমে যাওয়াতে খাতসংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ইইউর পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ইইউতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ দশমিক ২৬ শতাংশ কমেছে। এ সময়ে রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৫৯ দশমিক ১৬ কোটি ইউরো, যেখানে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ছিল ৫৬৮ দশমিক ৭ কোটি ইউরো। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ১০৯ কোটি ইউরো রপ্তানি আয় কমে গেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, একক মাস হিসেবে চলতি বছরের মার্চে ইইউতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ দশমিক ২৪ শতাংশ কমেছে। এ সময়ে রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭০ কোটি ইউরো, যেখানে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ছিল ২১১ কোটি ইউরো। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ৪১ কোটি ইউরো রপ্তানি আয় কমে গেছে।

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইইউভুক্ত দেশগুলো এই তিন মাসে বিভিন্ন দেশ থেকে দুই হাজার ১০৮ কোটি ইউরোর তৈরি পোশাক আমদানি করেছে। এই আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সাড়ে ১১ দশমিক ৬২ শতাংশ কম। যদিও পরিমাণের দিক থেকে তৈরি পোশাক আমদানি কমেছে আট দশমিক ৩২ শতাংশ। তিন মাসে ৩৩ দশমিক ২ কোটি কেজি তৈরি পোশাক আমদানি করে ইইউভুক্ত দেশগুলো। এর বিপরীতে গত বছরের একই সময়ে আমদানি করেছিল ৩৬ দশমিক ২২ কোটি কেজি তৈরি পোশাক।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই পতনের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি হলো—রপ্তানির পরিমাণ হ্রাস এবং পণ্যের গড় মূল্য কমে যাওয়া। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ কমেছে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। একই সময়ে প্রতি কেজি পোশাকের গড় দাম কমেছে ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় অর্ধেক আসে ইইউ থেকে। তাই এই বাজারে এমন পতন দীর্ঘস্থায়ী হলে সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

তারা বলছেন, বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতির পরিবর্তন, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত রদবদল এবং বিভিন্ন বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতার কারণে প্রতিযোগী দেশগুলো এখন ইউরোপীয় বাজারে বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। চীন, ভারত, ভিয়েতনামসহ অন্যান্য রপ্তানিকারক দেশগুলো এই বাজারে অবস্থান শক্ত করতে জোরালো প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, যার ফলে প্রতিযোগিতা আরো তীব্র হয়েছে।

ইইউতে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে চীন বরাবরের মতো শীর্ষস্থানে রয়েছে। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত এই অঞ্চলে ৬১৪ দশমিক ৩ কোটি ইউরোর তৈরি পোশাক রপ্তানি করে চীন। এ রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৯০ শতাংশ কম। এই সময়ে চীনের প্রতি কেজি পোশাকের দাম কমেছে ছয় দশমিক ৯৫ শতাংশ। তুরস্ক সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে, যেখানে রপ্তানি আয় কমেছে ১৮ দশমিক ৯২ শতাংশ। এছাড়া ভারত, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়াসহ বেশিরভাগ দেশই নিম্নমুখী প্রবৃদ্ধির মুখে রয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...