বিশ্বকাপ মানেই বৈচিত্র্যের উৎসব। শত দেশের মানুষ, শত ভাষা আর ভিন্ন সংস্কৃতির মিলনমেলা। কিন্তু সেই বিশ্বমঞ্চেই যখন ফুটবলারদের নিজেদের পরিচিত ভাষায় কথা বলতে বাধা দেয়া হয়, তখন প্রশ্ন উঠাই স্বাভাবিক।
২০২৬ বিশ্বকাপ মাঠে গড়ানোর মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যেই এমন এক ভাষা-সঙ্কটে পড়ে ফিফা, যার জেরে শেষ পর্যন্ত নিজেদের নিয়ম পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
গত কয়েক দিনে সংবাদ সম্মেলনে বারবার দেখা গেছে একই দৃশ্য। কোনো সাংবাদিক স্প্যানিশ ভাষায় প্রশ্ন করছেন, খেলোয়াড়ও স্বাভাবিকভাবেই স্প্যানিশে উত্তর দিতে শুরু করছেন। কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসে তাকে থামিয়ে ইংরেজিতে কথা বলার অনুরোধ করছেন।
মরক্কোর অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি, ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং নেদারল্যান্ডসের ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংয়ের সংবাদ সম্মেলনে এমন ঘটনা আলোচনার জন্ম দেয়। ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা শুরু হয়।
যেখানে অসংখ্য সমর্থক প্রশ্ন তোলেন—বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে ভাষার স্বাধীনতা কেন সীমাবদ্ধ থাকবে? সমালোচনার ঝড় এতোটাই তীব্র হয়েছে যে ফিফাও নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে।
ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গ্লোবো জানিয়েছে, এখন থেকে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক, কোচ ও খেলোয়াড়রা স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলতে পারবেন।
শুধু তাই নয়, প্রতিটি সংবাদ সম্মেলনে স্প্যানিশ ভাষার জন্য আলাদা অনুবাদক রাখা হবে। সেই সাথে ফিফার অফিসিয়াল অ্যাপেও যুক্ত করা হবে তাৎক্ষণিক স্প্যানিশ অনুবাদের সুবিধা।
এই পরিবর্তনের পেছনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণও রয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের তিন আয়োজক দেশের একটি মেক্সিকো, যেখানে স্প্যানিশই প্রধান ভাষা। আয়োজক দেশের ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি সম্মান দেখাতেই ফিফা নতুন এই উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগে নিয়ম ছিল, কোনো ম্যাচে অংশ নেয়া দলের সরকারি ভাষা স্প্যানিশ হলে তবেই সেই ভাষায় কথা বলার সুযোগ মিলবে। ফলে অনেক খেলোয়াড় নিজের সবচেয়ে স্বাচ্ছন্দ্যের ভাষায় কথা বলতে পারছিলেন না।
যদিও নতুন নিয়ম পুরোপুরি কার্যকর হতে আরো কিছুটা সময় লাগতে পারে, তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—বিশ্বব্যাপী সমালোচনা, সমর্থকদের ক্ষোভ এবং ভাষাগত বৈচিত্র্যের দাবির সামনে শেষ পর্যন্ত নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করেছে ফিফা।
ফুটবল যেমন সীমান্ত মানে না, তেমনি ভাষাকেও দেয় না কোনো দেয়াল। বিশ্বকাপের মাত্র পাঁচ দিনেই সেই বাস্তবতাই যেন নতুন করে বুঝে গেল বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।


