বিশ্বকাপের ইতিহাসে ইরানই সবচেয়ে নিপীড়িত ও বঞ্চিত দল বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলটির প্রধান কোচ আমির ঘালেনোয়েই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈষম্যমূলক আচরণ এবং প্রথম ম্যাচ শেষেই লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে তড়িঘড়ি করে দলটিকে বের হয়ে যেতে বাধ্য করার পর তিনি এই মন্তব্য করেন।
ইরানের ইংরেজি চ্যানেল প্রেসটিভি আজ জানিয়েছে, লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের সাথে ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হওয়ার পর কোচ এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। তবে প্রতিকূলতার মাঝেও স্টেডিয়ামজুড়ে থাকা প্রায় ৭০ হাজার ইরানি দর্শকের ঐক্যবদ্ধ সমর্থনকে ফুটবলের ইতিহাসে এক বড় জয় হিসেবে দেখছেন তিনি।
কোচ ঘালেনোয়েই অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে বলেন, তাদের প্রস্তুতি ও ম্যাচ পরবর্তী বিশ্রামের জন্য ন্যূনতম সময়টুকু দেয়া হয়নি। ম্যাচ শেষ হতে না হতেই তাদেরকে আবারো মেক্সিকোর টিজুয়ানায় ফিরে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা খেলোয়াড়দের ওপর চরম মানসিক ও শারীরিক চাপ তৈরি করছে। আসলে দলটির মূল পরিকল্পনা ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার টুসন শহরে থেকে অনুশীলন ক্যাম্প করার। কিন্তু মার্কিন কর্তৃপক্ষের ভিসা জটিলতা এবং নানা লজিস্টিক সমস্যার কারণে শেষ মুহূর্তে বাধ্য হয়ে ক্যাম্প সরিয়ে নিতে হয় মেক্সিকোর সীমান্ত শহর টিজুয়ানায়। ইচ্ছে করেই দলটির আগমন বিলম্বিত করা এবং দ্রুত ফেরত পাঠানোর মতো একের পর এক বাধা তৈরি করে পরিস্থিতি জটিল করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। অবশ্য এসব ষড়যন্ত্রের পরও খেলোয়াড়রা দেশের মানুষের জন্য নিজেদের সেরাটা দিয়ে লড়াই করছেন বলে কোচ জানান।
দলের এই বিপর্যয়কর পরিস্থিতি নিয়ে শুধু কোচ নন, ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন জাতীয় দলের অধিনায়ক ও অলিম্পিয়াকোস ক্লাবের স্ট্রাইকার মেহেদি তারেমি। তিনি জানান, মাসের পর মাস ধরে এমন অনিশ্চয়তার ভেতর দিয়ে যেতে গিয়ে পুরো দল মানসিক ও শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত। খেলোয়াড় থেকে শুরু করে কোচিং স্টাফ—সবাই চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন, অথচ কারো কোনো সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার কোনো ভূমিকা না থাকলেও ফুটবলের অভিভাবক হিসেবে ফিফার কাছ থেকে আরো বেশি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন তারেমি।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে এই বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হলেও ওয়াশিংটনের এমন বৈরি আচরণে বিশ্বজুড়ে সমালোচনা তীব্র হচ্ছে। ইরানের মূল খেলোয়াড়রা শেষ মুহূর্তে ট্রাভেল ডকুমেন্ট পেলেও ফুটবল ফেডারেশনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ও সহযোগী স্টাফদের ভিসা দেয়নি মার্কিন প্রশাসন। মূলত মার্কিন মাটিতে ইরানি দলের অবস্থানের সময় কমিয়ে আনতেই টুসন থেকে মেক্সিকোর টিজুয়ানায় বেস ক্যাম্প সরাতে বাধ্য করা হয়, যা শেষ পর্যন্ত দলটির পুরো প্রস্তুতি ও পারফরম্যান্সকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করেছে।
সূত্র : প্রেসটিভি


