বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই নিজের আগমনী বার্তা রাজকীয়ভাবে জানিয়ে দিলেন আর্লিং হলান্ড। বোস্টনের মাঠে ইরাককে ৪-১ গোলে হারিদয়ে দুর্দান্ত সূচনা করেছে নরওয়ে, আর সেই জয়ে সবচেয়ে বড় নায়ক ছিলেন তিনি।
জোড়া গোল করে ম্যাচটিকে যেন একাই নিজের শোয়ে পরিণত করেন তিনি। তবে শুধু পারফরম্যান্স নয়, ম্যাচের আগে থেকেই আলোচনায় ছিলেন হলান্ড। মূলত জার্সিতে নিজের নাম বদলে দিয়ে নজর কাড়েন তিনি।
বিশ্বজুড়ে ‘আর্লিং হলান্ড’ নামে পরিচিত হলেও, এবার তার জার্সির পেছনে লেখা ছিল ‘ব্রাউট হলান্ড’। স্বাভাবিকভাবেই সমর্থকদের মনে প্রশ্ন ওঠে, কেন হঠাৎ নাম বদলে ফেললেন এই তারকা?
না নিছকই কোনো কারণ নয়। হলান্ডের এই সিদ্ধান্ত ছিল মায়ের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার এক নিঃশব্দ প্রকাশ। মায়ের সম্মানার্থে বিশ্বকাপে নিজের নাম বদলে খেলছেন তিনি।
হলান্ডের মা গ্রি মারিতা ব্রাউট নরওয়ের সাবেক হেপ্টাথলেট। নিজের নামের সাথে মায়ের পদবী যুক্ত করে বাবা-মা দুজনকেই সম্মান জানাতে চেয়েছেন নরওয়ের এই গোলমেশিন। বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচেই সেই বিশেষ মুহূর্তকে আরো স্মরণীয় করে তুলেছেন তিনি।
খেলাধুলার জগতে বাবা ও মায়ের উভয় পরিচয় বহন করা নতুন কিছু নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও হলান্ড নিয়মিত নিজের পূর্ণ নাম ব্যবহার করেন। তাই বিশ্বকাপের মঞ্চে এই পরিবর্তন তার ব্যক্তিগত পরিচয়েরই একটি প্রতিফলন।
নিজের নরওয়েজিয়ান পরিচয় নিয়েও সবসময় গর্বিত হলান্ড। ভাইকিং ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতি তার ভালোবাসা বিভিন্ন সময়ই ফুটে উঠেছে। এই পরিচয়কে তিনি নিজের ব্যক্তিত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলেই মনে করেন।
তাই প্রায়ই প্রশ্ন ওঠে—ইংল্যান্ডে জন্ম নিয়েও কেন তিনি ইংল্যান্ডের হয়ে খেলেননি? লিডসে জন্ম নেয়া হলান্ড চাইলে ইংল্যান্ডের জার্সিতেও খেলতে পারতেন। তার বাবা আলফ-ইঙ্গে হলান্ড তখন ইংল্যান্ডে খেলতেন, আর জন্মের অল্প সময় পরই যোগ দিয়েছিলেন ম্যানচেস্টার সিটিতে—যে ক্লাবে এখন খেলছেন আর্লিং নিজেই।
অনেকের মতে- ইংল্যান্ড বেছে নিলে বড় টুর্নামেন্টে সাফল্যের সম্ভাবনা আরো বেশি থাকত। কিন্তু হৃদয়ের টানেই হলান্ড বেছে নিয়েছেন নিজের শিকড়ের দেশ নরওয়েকে।
২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা নরওয়ের অন্যতম প্রধান নায়ক হলান্ড। আর বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচেই জোড়া গোল করে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, এবার বড় স্বপ্ন নিয়েই মাঠে নেমেছেন।
প্রথম ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে ‘আই’ গ্রুপের শীর্ষেও উঠে গেছে নরওয়ে। সমান তিন পয়েন্ট থাকলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ফ্রান্স। অন্যদিকে সেনেগাল ও ইরাক এখনো পয়েন্টের খাতা খুলতে পারেনি।
এখন নরওয়ের লক্ষ্য সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা। আগামী ২৩ জুন সেনেগালের বিপক্ষে মাঠে নামবে হলান্ডরা, আর সেদিকেই এখন তাকিয়ে ফুটবলপ্রেমীরা।


