বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ঢাকা

সীমান্ত হত্যার জন্য দায়ী সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতি: এবি পার্টি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি ২০২৪, ০৮:৩১ পিএম

শেয়ার করুন:

সীমান্ত হত্যার জন্য দায়ী সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতি: এবি পার্টি

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে বিজিবির এক জওয়ান নিহতের প্রতিবাদ, বারবার সীমান্তে হত্যাকাণ্ড এবং সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির বিরুদ্ধে মিডিয়া ব্রিফিং করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি ‘এবি পার্টি’। দলটির বিজয় নগরস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বুধবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে দলের বক্তব্য তুলে ধরেন পার্টির যুগ্ম সদস্যসচিব, কূটনৈতিক উইংয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

এবি পার্টির সহকারী সদস্য সচিব ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন পার্টির সদস্যসচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু।


বিজ্ঞাপন


ব্রিফিংয়ে সীমান্ত হত্যা রোধে সরকার ব্যর্থ দাবি করে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, ‘পৃথিবীর অন্য কোনো সীমান্তে এত পরিমাণ বেসামরিক নাগরিক খুন হওয়ার নজির নেই। ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে বিভিন্ন মাত্রায় প্রায়ই যুদ্ধ হয়, দুই পক্ষেরই সামরিক বাহিনীর সদস্য নিহত হয়, কিন্তু বেসামরিক নাগরিক খুন হওয়ার ঘটনা সেখানে নেই বললেই চলে। ভারত-চীন সীমান্তে কোনো বেসামরিক নাগরিকের গায়ে হাত দেওয়ার সাহস কোনো পক্ষই করে না। ইরান-আফগানিস্তান বা পাকিস্তান সীমান্ত দিয়ে প্রচুর মাদক পাচার হয়ে থাকে, কিন্তু হরহামেশাই বেসামরিক নাগরিককে গুলি করে হত্যার ঘটনা সেখানে শোনা যায় না। এমনকি নেপাল, ভুটান সীমান্তেও কোনো নাগরিককে হত্যার কথা আমরা শুনিনি।’

তিনি ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘শুধু বাংলাদেশ সীমান্তই মনে হচ্ছে যেন অসহায় বাংলাদেশের মানুষের রক্ত, লাশ আর খুনের সীমান্ত! ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর ‘দেখা মাত্র গুলি’র নীতিই আজকের হাজার হাজার বেসামরিক লোকের হত্যার কারণ বলে আমরা মনে করি।’

আরও পড়ুন

‘একদলীয় আওয়ামী শাসন দেশকে অন্ধকার যুগে নিয়ে যাবে’

১৯৪৬ সালে জারি করা ভারতের বিদেশ আইনের বিধি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সে আইনে অবৈধভাবে তাদের দেশে প্রবেশের শাস্তি রাখা হয়েছে পাঁচ বছরের জেল এবং জরিমানা। অথচ আইনের চরম লঙ্ঘন করে বাংলাদেশের নাগরিকদের প্রায়ই নির্মমভাবে গুলি করে মারা হয়।’


বিজ্ঞাপন


 তিনি হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমাদের নাগরিকদের যেহেতু নিজ দেশেই কোনো মর্যাদা নেই, ভারতীয় সীমান্তরক্ষীরা তাদের তো খুন করে সীমানার কাঁটাতারে ঝুঁলিয়ে রাখবেই।’

ব্রিফিংএ সংবাদ কর্মীদের করা প্রশ্নের জবাবে দলের সদস্যসচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘একটা অবৈধ সরকার যখন জনগণের ম্যান্ডেট ব্যতীত ১৫ বছর ধরে জোর করে ক্ষমতায় থাকে, তখন একটি স্বাধীন, মর্যাদাপূর্ণ স্বকীয় পররাষ্ট্রনীতি প্রনয়ণের মনোবল ও যোগ্যতা তাদের থাকে না। জনপ্রত্যাখ্যাত আওয়ামী লীগ সরকারের নতজানু, অক্ষম, পরনির্ভরশীল পররাষ্ট্রনীতির কারণে প্রতিনিয়ত দেশের কোটি কোটি মানুষ সীমান্তে হতভাগ্য ফেলানীর মতো কাঁটাতারে ঝুলার অপেক্ষায় আছে।’

মিডিয়া ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন, এবি পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক বিএম নাজমুল হক, যুগ্ম সদস্য সচিব ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভুইয়া, দফতর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, প্রচার সম্পাদক আনোয়ার সাদাত টুটুল, যুবপার্টির আহ্বায়ক এবিএম খালিদ হাসান, মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আলতাফ হোসাইন, মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, গাজী নাসির, সহকারী অর্থ সম্পাদক সুমাইয়া শারমিন ফারহানা, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সেলিম খান, আমেনা বেগমসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

জেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর