অন্তর্বর্তী সরকারের বাজেট নিয়ে বিএনপি যে সমালোচনাগুলো করেছিল, ক্ষমতায় এসে দলটি নিজেই সেই একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।
বুধবার (১৭ জুন) রাজধানীর পল্টন টাওয়ারে ইআরএফ অডিটোরিয়ামে ওয়ান ইনিশিয়েটিভ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওআইআরডি) আয়োজিত ‘প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট: উন্নয়ন ও রাজনৈতিক অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারের আলোচনায় ফুয়াদ এ মন্তব্য করেন।
বিজ্ঞাপন
ফুয়াদ বলেন, প্রতি বছর জাতীয় বাজেট ঘোষণার পর আয়-ব্যয় ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হলেও আগের বছরের বাজেট বাস্তবায়ন এবং বরাদ্দকৃত অর্থের ব্যবহার নিয়ে কার্যকর মূল্যায়ন খুব কমই হয়। ফলে জনগণ জানতে পারে না কোন খাতে বরাদ্দ দেওয়া অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে।
এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ওয়েস্টমিনস্টার ধারার সংসদীয় ব্যবস্থায় নিয়মিত অগ্রগতি প্রতিবেদন দেওয়ার সংস্কৃতি থাকলেও বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতার ঘাটতির কারণে বাজেট বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয় না। এই পরিস্থিতি রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহার ও দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি করে।
বিজ্ঞাপন
দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে ফুয়াদ দাবি করেন, দেশে দুর্নীতির ক্ষেত্রে শুধু রাজনীতিবিদদের দায়ী করা হলেও ব্যবসায়ী ও আমলাতন্ত্রের একটি অংশ বড় ধরনের অনিয়মের সঙ্গে বেশি জড়িত। তার মতে, অর্থ পাচার এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এবি পার্টির এই নেতা আরও বলেন, সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় সরাসরি নিয়ন্ত্রণ মূলত আমলাতন্ত্রের হাতেই থাকে। এমপি বা মন্ত্রীদের তুলনায় সরকারি কর্মকর্তাদের অর্থ ব্যবহারের সুযোগ বেশি। বর্তমান বাজেটে উন্নয়ন ব্যয়ের তুলনায় পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়াকে তিনি উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ওআইআরডির চেয়ারম্যান ও মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রব।
এমআর/ক.ম




