কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের দাপুটে জয়। কিন্তু ফুটবলবিশ্বের কাছে এই ম্যাচের পরিচয় এখন অন্য জায়গায়- এটি এমন এক রাত, যা লিওনেল মেসিকে বসিয়ে দিয়েছে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসনে। নিজের রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপ আসরের প্রথম ম্যাচেই ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক করে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের বিশ্বরেকর্ড ছুঁয়ে ফেলেছেন ৩৮ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন জাদুকর।
ম্যাচ শেষে নিজের এই অবিস্মরণীয় অর্জন, পরিবার এবং আর্জেন্টিনার সমর্থকদের উন্মাদনা নিয়ে মুখ খুলেছেন আলবিসেলেস্তো অধিনায়ক।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন- বিশ্বকাপে মেসির প্রথম হ্যাটট্রিকের ম্যাচে যত রেকর্ড
আরও পড়ুন- সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোলে ইতিহাস গড়লেন এমবাপে
ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে এসেও একের পর এক রেকর্ড ভাঙা-গড়ার খেলায় এই ইন্টার মিয়ামি তারকা ম্যাচ শেষে বেশ আবেগপ্লুত ছিলেন। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে মেসি বলেন, ‘আমার পরিবার, আমার সতীর্থ এবং যারা সব সময় আমার পাশে থেকেছে- তাদের সাথে এই আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারাটা সত্যিই দারুণ এক সুন্দর মুহূর্ত। আমি অত্যন্ত সুখী।’ ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে এসেও এমন পারফরম্যান্স নিয়ে মেসি বলেন, ‘আমি ফুটবল খেলতে পছন্দ করি, ছোটবেলা থেকেই এটি আমার প্যাশন। যখন আমি ভালো অবস্থায় থাকি, আমি আমার সবটুকু উজাড় করে দিই।’
১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর বিশ্বের কোনো দেশ টানা দুবার বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। কাতার বিশ্বকাপের পর ২০২৬ সালেও মেসির এই চেনা ক্ষুরধার ফর্ম ইঙ্গিত দিচ্ছে, এবারও আর্জেন্টিনা সেই অসাধ্য সাধনের পথেই রয়েছে। দলের শক্তির জায়গা উল্লেখ করে মেসি বলেন, “আমাদের এই স্কোয়াডটি অত্যন্ত ঐক্যবদ্ধ এবং মানসিকভাবে খুবই শক্তিশালী একটি গ্রুপ।”
বিজ্ঞাপন
প্রথম ম্যাচের জয় যে দলের ওপর থেকে বড় একটা মানসিক চাপ কমিয়ে দিয়েছে, তা মনে করিয়ে দিয়ে অধিনায়ক আরও বলেন, “আমি বেশ ভালো বোধ করছি। আমাদের ভাগ্য ভালো ছিল যে আমরা একটা কঠিন ম্যাচ জিততে পেরেছি। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচটি জয় দিয়ে শুরু করা সবসময়ই খুব গুরুত্বপূর্ণ।”
ম্যাচের আগে নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে সমর্থকদের অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও, কানসাস সিটির মূল ভেন্যুতে গ্যালারি জুড়ে ছিল শুধুই আলবিসেলেস্তেদের রাজত্ব। স্টেডিয়ামের গ্যালারি নীল-সাদা জার্সিতে ভরিয়ে দেওয়ার জন্য সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মেসি।
‘আমি ভক্ত-সমর্থকদের কাছে কৃতজ্ঞ। কারণ তারা আরও একবার প্রমাণ করেছে যে, ফুটবলের জন্য বা আর্জেন্টিনার জন্য তারা কতটা পাগল! তারা আবারও পুরো স্টেডিয়াম কানায় কানায় পূর্ণ করে আমাদের অকুণ্ঠ সমর্থন জুগিয়েছে।’




