স্ক্রিপ্ট রাইটিং : পর্ব- ২
প্রথম পর্বে আমরা শিখেছিলাম কীভাবে গল্পের মূল ভাবনাকে এক লাইনের ‘লগলাইন’-এ রূপান্তর করতে হয়। আজ আমরা শিখব, কীভাবে সেই লগলাইনকে একটু বড় করে একটি সিনপসিস লিখতে হয় এবং গল্পের জন্য আকর্ষণীয় চরিত্র তৈরি করতে হয়।
সিনপসিস কী ও কীভাবে লিখবেন?
সিনপসিস হলো আপনার পুরো গল্পের একটি সংক্ষিপ্ত রূপরেখা বা সারসংক্ষেপ। একটি আদর্শ সিনপসিস সাধারণত এক পৃষ্ঠা (মূলত শেখার জন্য) বা ৩০০-৫০০ শব্দের মধ্যে হয়। এটি লেখার সময় ৩টি জিনিস মাথায় রাখবেন-
শুরু : গল্পটি কোথায় ও কীভাবে শুরু হচ্ছে? মূল চরিত্রের সাধারণ জীবন কেমন ছিল এবং কী ঘটনার কারণে তার জীবন বদলে গেল?
মধ্যভাগ : চরিত্রটি তার লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য কী কী সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে? গল্পের মূল দ্বন্দ্ব বা ঝামেলাগুলো এখানে বিস্তারিত থাকবে।
শেষ : গল্পের শেষ পরিণতি কী? চরিত্রটি কি সফল হলো নাকি ব্যর্থ? (মনে রাখবেন, স্ক্রিপ্টের সিনপসিসে ক্লাইম্যাক্স বা শেষটা লুকিয়ে রাখা যাবে না, পরিষ্কার লিখতে হবে)।
চরিত্র গঠন :
গল্প যতই ভালো হোক, চরিত্র যদি জীবন্ত না হয় তবে দর্শক কানেক্ট করতে পারবে না। একটি চরিত্র তৈরি করার সময় নিজেকে এই প্রশ্নগুলো করুন-
চরিত্রের বাহ্যিক রূপ ও স্বভাব কেমন? তার বয়স কত? সে কী কাজ করে? তার কথা বলা বা চলার স্টাইল কেমন? চরিত্রের শক্তি ও দুর্বলতা কী? নিখুঁত মানুষ পর্দায় বোরিং লাগে। চরিত্রের একটা বড় দুর্বলতা বা ভয় থাকা দরকার, যা সে গল্পের শেষে জয় করবে। চরিত্রের মূল উদ্দেশ্য কী? সে পুরো গল্প জুড়ে আসলে কী পেতে চায়? (টাকা, ভালোবাসা, প্রতিশোধ নাকি মুক্তি?)
একটি উদাহরণ :
ধরা যাক, আমাদের চরিত্রের নাম আকাশ। বয়স ২৫। সে একটু অন্তর্মুখী ও একা থাকতে পছন্দ করে (স্বভাব)। কিন্তু বাবার রেখে যাওয়া ঋণ শোধ করতে তাকে বাধ্য হয়ে মানুষের সাথে মিশতে হচ্ছে এবং এমন এক ঝুঁকি নিতে হচ্ছে, যা সে আগে কখনো নেয়নি (দ্বন্দ্ব ও উদ্দেশ্য)।
আপনার জন্য আজকের টাস্ক :
আপনার লগলাইনটিকে এবার একটু বড় করে ৩-৪ প্যারাগ্রাফের একটি সিনপসিস লিখে ফেলুন। আর আপনার গল্পের মূল চরিত্রের নাম এবং তার তিনটি প্রধান বৈশিষ্ট্য ডায়রিতে নোট করুন।
ব্যস, এইটুকুই! আপনার গল্পের মূল চরিত্রটি কেমন বা তার নাম কী ভাবলেন, আমাকে জানাতে পারেন।
কেকে/এমএ