গোবিপ্রবি
গোবিপ্রবির অসমাপ্ত প্রধান ফটক © টিডিসি ফটো
দীর্ঘ ছয় বছরেও সম্পন্ন হয়নি গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) প্রধান ফটকের নির্মাণকাজ। চলতি বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশদ্বারে নামফলক ও লোগো সংযোজন করা হলেও এখনো থমকে আছে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। প্রবেশমুখে রয়েছে টিনের অস্থায়ী বেড়া, বৃষ্টির পানির ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা এবং ময়লা-আবর্জনার স্তুপ।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রধান ফটকের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ২০২০ সালে। প্রকল্প অনুযায়ী ২০২২ সালের জুন মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও একাধিক দফায় মেয়াদ বৃদ্ধির পরও এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে শেষ হয়নি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোর নির্মাণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশপথে নির্মিত ফটকটি বর্তমানে কেবল একটি অসম্পূর্ণ অবকাঠামো হিসেবেই দাঁড়িয়ে আছে। দীর্ঘদিন ধরে কাজের অগ্রগতি না থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে। এ বিষয়টিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নানারকম ট্রল ও ধারাবাহিক দাবির মুখে চলতি বছর ফটকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামফলক ও লোগো স্থাপন করা হলেও রং, নান্দনিকতা বৃদ্ধি এবং অন্যান্য সমাপ্তিকরণ কাজ এখনো অসমাপ্ত।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রধান ফটকের একপাশে এখনো রয়েছে টিনের অস্থায়ী বেড়া, ময়লা-আবর্জনার স্তুপ। এছাড়া গেটের সামনের অংশে বৃষ্টির পানি জমে ছোটখাটো জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি সেখানে পড়ে আছে ভাঙা টেবিল-চেয়ারসহ বিভিন্ন পরিত্যক্ত সামগ্রী ও ময়লা-আবর্জনার স্তুপ। যা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশদ্বারের সৌন্দর্যকে আরো বেশি ম্লান করে দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বুলবুল ইসলাম বলেন, ‘আমি যখন ২০২৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই, তখন শুনেছিলাম কয়েক বছর আগে থেকেই মেইন গেটের কাজ চলছে। অনেক সিনিয়র ভাই মজা করে বলতেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেট দিয়ে বের হওয়া এখন একমাত্র স্বপ্ন। সেই সিনিয়ররাও ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে গেছেন, কিন্তু গেটের কাজ এখনো শেষ হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘এখন আমিও মাঝে মাঝে জুনিয়রদের একই কথা বলি। আমরা প্রতিবার শুনি গেট এক মাসের মধ্যে বা এক সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন হবে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিছুই হয় না। বারবার প্রশাসনের আশ্বাস শুনেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি দেখতে পাই না। এ গেট নির্মাণে বিগত ও বর্তমান প্রশাসনের দীর্ঘসূত্রতা দেখে মনে হয় তারা শুধু আশ্বাস দিতেই ব্যস্ত। বাস্তবে কাজ সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় উদ্যোগের অভাব রয়েছে।’
অর্থনীতি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. রেদোয়ান ইসলাম সিয়াম বলেন, ‘একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেট শুধু ইট-পাথরের একটি স্থাপনা নয়; এটি প্রতিষ্ঠানটির প্রথম পরিচয় ও প্রথম প্রতিচ্ছবি। বাইরের কোনো ব্যক্তি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে যায়, তখন সে মেইন গেট দেখেই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা গড়ে তোলে। দুঃখজনক হলেও সত্য, এত বছর পরও আমরা সেই গেটের কাজ সম্পূর্ণ করতে পারিনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি শুধু একটি অবকাঠামোগত অপূর্ণতা নয়, বরং পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও প্রশাসনিক দক্ষতা নিয়েও প্রশ্নের জন্ম দেয়। যে বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘ সময়েও নিজের প্রধান প্রবেশদ্বারের কাজ শেষ করতে পারে না, তার অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়েও স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মনে সংশয় তৈরি হয়। এই অচলাবস্থা প্রশাসনিক দুর্বলতা, সমন্বয়ের অভাব এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধীরগতিরই প্রতিফলন।’
আরও পড়ুন : ৫ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সর্বনিম্ন বাজেট পেল রুয়েট
এ বিষয়ে গোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর বলেন, ‘বাজেট সংকটের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাজ এখনো পরিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তবে আমরা এখন বাজেটের একটি অংশ বরাদ্দ পেয়েছি। আগামী মাসের মধ্যে ফটকের নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু হবে এবং আগামী অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যেই কাজ সম্পূর্ণ শেষ করা যাবে বলে আশা করছি।’
মেইন গেটের একপাশে থাকা টিনের অস্থায়ী বেড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যেই টিনের বেড়াটি অপসারণ করা হবে।’