মেসির বুটের স্টাড আইসা মান্ডির পায়ের কাফে ঘষা © সংগৃহীত
ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচে দারুণ ছন্দে আছেন লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই মেসি করলেন জাদুকরী এক হ্যাটট্রিক। মেসির মায়া ছড়ানোর ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জয় ৩–০ গোলে। এই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে মেসি ছুঁয়ে ফেললেন বিশ্বকাপে মিরোস্লাভ ক্লোসার করা সর্বোচ্চ ১৬ গোলের রেকর্ড। তবে এই ম্যাচে আর্জেন্টাইন সুপারস্টার লিওনেল মেসিকে ঘিরে ফাউল সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ জুন) সকালে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে আর্জেন্টিনা নিজেদের শিরোপা রক্ষার অভিযান শুরু করে। ম্যাচে একটি বিতর্কিত ট্যাকলের পর রেফারির সিদ্ধান্ত এবং ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির নীরব ভূমিকা নিয়ে দর্শকদের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই অভিযোগ তুলেছেন, স্পষ্ট লাল কার্ডযোগ্য ফাউলেও মেসি কোনো শাস্তি পাননি, এমনকি কেউ কেউ পুরো টুর্নামেন্টকে ‘রিগড’ বলেও দাবি করেছেন।
পুরো ম্যাচজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন ৩৮ বছর বয়সী মেসি। তিনি অসাধারণ হ্যাটট্রিক করে একাই ম্যাচের ফল নির্ধারণ করেন এবং একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসে–এর সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে উঠে আসেন উভয়েরই এখন ১৬টি করে গোল।
ম্যাচের শুরুতে কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে মেসির নেওয়া একটি নিকট-পোস্ট শট অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। তবে ১৭তম মিনিটেই তিনি গোল করে আর্জেন্টিনাকে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। এরপরই ঘটে যায় বিতর্কিত সেই ঘটনা।
প্রায় ৩০ মিনিটের মাথায় আলজেরিয়ার ডিফেন্ডার আইসা মেন্দির পায়ের পেশিতে মেসির স্টাডস লাগে, ফলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে পড়ে যান। ঘটনাটি স্পষ্ট ফাউল মনে হলেও রেফারি সিমন মার্সিনিয়াক ফাউল দিলেও কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেননি। এমনকি মেসিকে হলুদ কার্ডও দেখানো হয়নি। পরে ভিএআর পর্যালোচনা করেও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়নি।
আরও পড়ুন: আলজেরিয়ার বিপক্ষে গোল করেই কেন কাঁদলেন মেসি, রহস্য জানালেন নিজেই
এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন অনেক দর্শক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একজন লিখেছেন, ‘এটা ফুটবলের জন্য ভালো কিছু নয়। বিশ্বমঞ্চে মেসির এমন স্পষ্ট লাল কার্ড থেকে বেঁচে যাওয়া লজ্জাজনক।’
সাকিবুল ইসলাম নামে আরেকজন মন্তব্য করেন, ‘এটা সহজেই লাল কার্ড হওয়া উচিত ছিল। একই ঘটনা আমরা হয়তো ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ক্ষেত্রেও দেখব। মনে হচ্ছে মেসি-রোনালদো ম্যাচ নিশ্চিত করার জন্য সবকিছু রিগড করা হচ্ছে।’
আরেক দর্শক লেখেন, ‘বিশ্বাসই হচ্ছে না যে এই ফাউলে কোনো কার্ড দেওয়া হয়নি।’ অন্য একজন বলেন, ‘এটা ছিল অপরাধের মতো ট্যাকল, অন্য কোনো খেলোয়াড় হলে অবশ্যই লাল কার্ড দেখত।’ আরেক মন্তব্যে বলা হয়, ‘মেসি লাল কার্ড পাননি কারণ তিনি ফিফার সন্তান।’
বিতর্কের মধ্যেও ম্যাচে আধিপত্য ধরে রাখেন মেসি। এরপর আরও দুই গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি এবং আর্জেন্টিনা ৩–০ ব্যবধানে সহজ জয় নিশ্চিত করে। তবে মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়ে বেশি আলোচনায় আসে ওই বিতর্কিত রেফারিং সিদ্ধান্ত।
ম্যাচ শেষে প্রতিক্রিয়ায় মেসি এই রেকর্ড সমতাকে ‘শুধু একটি পরিসংখ্যান’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘এটা সম্মানের বিষয়। এমবাপ্পে এবং রোনালদোও সেখানে আছে, কিন্তু এই সংখ্যা আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়। রোনালদো সর্বকালের সেরাদের একজন, তবুও সে শীর্ষে নেই এটা শুধু একটি পরিসংখ্যান।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বল যখন আমাদের দখলে ছিল তখন ভালোভাবে পজিশন ধরে রাখতে পেরেছি এবং ম্যাচটি খুব ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছি। আগের অভিজ্ঞতা আমাদের সাহায্য করেছে, কেউই কিছু সহজে দিয়ে দেয় না।’