অপরিষ্কার হল-রিডিংরুম-ওয়াশরুমের প্রতিবাদ
ডাস্টবিনের উপচে পড়া ময়লা হল প্রভোস্ট, হাউস টিউটর ও কেয়ারটেকারের অফিস রুমে ফেলে যান হল সংসদের সাহিত্য সম্পাদক ইউসুফ আব্দুল্লাহ ও কার্যনির্বাহী সদস্য-২ মাসুম বিল্লাল © টিডিসি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিজয় একাত্তর হলের ময়লা-আবর্জনা পরিচ্ছন্নতা নিয়ে হল প্রশাসনের অবহেলার প্রতিবাদস্বরূপ হলের যমুনা ও পদ্মা ব্লকের বিভিন্ন ফ্লোরের ডাস্টবিনের উপচে পড়া ময়লা হল প্রভোস্ট, হাউস টিউটর ও কেয়ারটেকারের অফিস রুমে ফেলে যান হল সংসদের সাহিত্য সম্পাদক ইউসুফ আব্দুল্লাহ ও কার্যনির্বাহী সদস্য-২ মাসুম বিল্লাল। হলের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা প্রাধ্যক্ষ আসার আগেই ময়লা পরিষ্কার করার উদ্যোগ নিলে প্রাধ্যক্ষ অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুর ২টা থেকে আড়াইটার দিকে প্রভোস্ট রুম, কেয়ারটেকার রুম, হাউস টিউটর রুম ও হাউস টিউটর কোয়ার্টারের সামনে এসব ময়লা ফেলে আসেন হল সংসদের ওই নেতারা।
হল সংসদ সূত্রে জানা যায়, পরিচ্ছন্নতা নিয়ে হল প্রশাসনের তদারকির ঘাটতির কারণে হলের ময়লা-আবর্জনা ঠিকমতো পরিষ্কার করা হয় না। কিছুদিন আগে হল সংসদের বহু প্রচেষ্টা ও হল প্রশাসনের অর্থায়নে পুরো হলে ‘ডিপ ক্লিন’ পরিচালনার ব্যবস্থা করে। কিন্তু প্রসাশনের অবহেলা ও তদারকির ঘাটতির কারণে আবারও ওয়াশরুম ও ফ্লোরগুলো নোংরা হয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে হল সংসদের সাহিত্য সম্পাদক ইউসুফ আব্দুল্লাহ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে হল প্রশাসন কর্তৃক বহু কৃত্রিম সমস্যা তৈরি করে রাখা হয়েছে। ময়লা পরিষ্কার, রিডিং রুম পরিষ্কার, ওয়াশরুম পরিষ্কারসহ অবকাঠামোগত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে। বিশেষ করে দীর্ঘ এক সপ্তাহ ধরে হল প্রশাসনকে বিভিন্ন ফ্লোরে ও গ্রাউন্ড ফ্লোরে জমে থাকা ময়লার স্তূপের ব্যাপারে অভিযোগ জানানো হলেও কোনো সমাধান হয়নি। এগুলো প্রতিবাদস্বরূপ আজকে আমি ও হল সংসদের কার্যনির্বাহী সদস্য মাসুম বিল্লাল ফ্লোরের ময়লাগুলো-প্রভোস্ট রুম, কেয়ারটেকার রুম, হাউস টিউটর রুম ও হাউস টিউটর কোয়ার্টারের সামনে ফেলে এসেছি।’
আরও পড়ুন: তিনমাস মেয়াদী কমিটি দিয়ে ৬ বছর পার, শিক্ষক-ব্যবসায়ীসহ ছাত্রত্ব নেই ২৬ জনের
এ বিষয়ে হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক আশিক বিল্লাহ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘হলে ময়লা পরিষ্কারের স্টাফের ঘাটতি যেমন একটি সমস্যা, প্রশাসনের অদক্ষতা ও অযোগ্যতা তার চেয়েও বড় সমস্যা। প্রশাসন কর্মচারীদের পরিচালনা করতে পারেন না, ময়লা পরিষ্কারের জন্য উপযুক্ত টুলসও সরবরাহ করেন না। দীর্ঘদিনের গাফিলতির প্রতিবাদেই মূলত আজকে হলের সাহিত্য সম্পাদক ইউসুফ আব্দুল্লাহ ও কার্যনির্বাহী সদস্য-২ মাসুম বিল্লাল এই প্রতিবাদী উদ্যোগ গ্রহণ করেন।’
এ বিষয়ে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. স ম আলী রেজা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘হলের ময়লা ব্যবস্থাপনা তো এক-দেড় বছর এভাবেই চলছে। আমাদের ময়লা ব্যবস্থাপনা ওই অর্থে খারাপ না। দু-এক দিনের জন্য হয়তো একটা ফ্লোরের যে ক্লিনার, সে হয়তো একটু অসুস্থ থাকতে পারে। তাই এমনটি হয়েছে। ওদের এক্সপেক্টেশন ঠিক আছে, আমার ক্যাপাসিটি কম আছে—এটা সত্যি কথা। তবে প্রতিবাদের ধরনটা আরেকটু ডিসেন্ট হলে ভালো হতো। ওরা প্রতিবাদ হিসেবে এটা করছে। আমি এটাকে আমলে নেব। আমার কেয়ারটেকারকে আমি বলেছি, উনি দেখছেন আরকি।’
আরও পড়ুন: শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দে পৌঁছানোর পরিকল্পনা সরকারের: শিক্ষামন্ত্রী
তিনি আরও বলেন, ‘হলগুলোর ময়লা ব্যবস্থাপনা লোকবলের সঙ্গে রিলেটেড। ময়লা ব্যবস্থাপনা একটা সমন্বিত ব্যাপার আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি। প্রতিদিনেই ময়লা ফ্লোর থেকে নামানো হয়, কিন্তু ডাম্পিংয়ের আমাদের কোনো ব্যবস্থা নেই। এক জায়গায় আমাদের রাখতে হয়। নিচে রাখতে হয়, আমরা নিজেদের ব্যবস্থাপনায় আমরা ময়লাগুলো ফেলি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ব্যবস্থাপনা নেই। নিজেদের ভ্যানে করে ফেলতে হয়।’
অধ্যাপক স ম আলী রেজা আরও বলেন, ‘হলের বয়স ১৩-১৪ বছর। ১ বছর ৮ মাসে আমি এগুলোকে আস্তে আস্তে অর্গানাইজ করার চেষ্টা করছি। এখন ওভার দ্য নাইট (রাতারাতি) তো সম্ভব না। চেষ্টা করছি, দেখা যাবে যে আমরা করে ফেলব। এ মুহূর্তে আমি ইউজিসিতে। হলের লোকবলের বিষয় নিয়ে কথা বলার জন্যই ইউজিসিতে এসেছি। আমরা তো হলের জন্যেই কাজ করছি।’