logo
/স্পোর্টস
অগ্নিপরীক্ষায় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো - image

অগ্নিপরীক্ষায় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

17 জুন 2026, বিকাল 5:55

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো— পর্তুগালের এক অবিসংবাদিত আইকন এবং সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার। ২০২৬ বিশ্বকাপে পর্তুগালের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন মূলত তাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হচ্ছে। আজ রাত ১১টায় ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে পর্তুগাল তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে। এই ম্যাচে মাঠে নামার সাথে সাথেই ইতিহাসের দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে খেলার অনন্য এক কীর্তি গড়বেন ৪১ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার। উল্লেখ্য, মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে সকাল সাতটায় আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমে আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি লিওনেল মেসি বিশ্বের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছেন।দীর্ঘদিন ধরে ফুটবল বিশ্বে মেসি ও রোনালদোর শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই চললেও ২০২২ সালে মেসির বিশ্বকাপ জয় সেই বিতর্কের অনেকটাই অবসান ঘটিয়েছে। চলতি বিশ্বকাপেও ৩৮ বছর বয়সী মেসি আর্জেন্টিনার আক্রমণের মূল ভরসা হিসেবে প্রথম ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। অন্যদিকে, রোনালদো গত চার মৌসুম ধরে সৌদি প্রো লিগে খেলছেন। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, গতি ও প্রেসিংয়ের ধার কমে যাওয়া ৪১ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার বিশ্বমঞ্চে কতটা পার্থক্য গড়ে দিতে পারবেন? যদিও মাঠের বাইরেও পর্তুগালের জেতার মতো যথেষ্ট যোগ্যতা রয়েছে, তবুও ফুটবল বিশ্ব অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে রোনালদোর চিরচেনা সেই জাদুকরী পারফরম্যান্স দেখার জন্য।ঐতিহাসিকভাবে বিশ্বকাপে রোনালদোর পরিসংখ্যান কিছুটা অম্লমধুর। ২০০৬ সালে মাত্র ২১ বছর বয়সে নিজের প্রথম বিশ্বকাপে উইঙ্গার হিসেবে দারুণ খেলে পর্তুগালকে চতুর্থ স্থানে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি যখন দলের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলেন, তখন পর্তুগাল দুবার গ্রুপ পর্বেই বাদ পড়ে এবং বাকি দুবার কোয়ার্টার ফাইনাল পার হতে পারেনি। তবে এই ব্যর্থতার পেছনে পর্তুগালের অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক কৌশলও দায়ী ছিল। আশ্চর্যের বিষয় হলো, বিশ্বকাপে ২২ ম্যাচে রোনালদোর মোট গোল আটটি হলেও, নকআউট পর্বে এখনো তার কোনো গোল বা অ্যাসিস্ট নেই। অপরদিকে, প্লেমেকার হিসেবে খেলা মেসির বিশ্বকাপে অ্যাসিস্ট সংখ্যা ছয়টি, যা দুই তারকার মধ্যকার কার্যকারিতার পার্থক্য স্পষ্ট করে।দলের সেট-পিস ও পেনাল্টিতে রোনালদোর একক আধিপত্য থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে ফ্রি-কিক থেকে তার সাফল্যের হার বেশ নিম্নমুখী। বড় টুর্নামেন্টে তিনি ফ্রি-কিক থেকে মাত্র একটি গোল করেছেন, যা এসেছিল ২০১৮ বিশ্বকাপে। তবে এবার পর্তুগাল দলে ফ্রি-কিকের দায়িত্ব ভাগ হতে পারে, কারণ দলে রয়েছেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান সেরা খেলোয়াড় ব্রুনো ফার্নান্দেস। ৩১ বছর বয়সী এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার সদ্য সমাপ্ত ঘরোয়া মরসুমে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে ৩৫ ম্যাচে ৯টি গোল এবং রেকর্ড ২১টি অ্যাসিস্ট করেছেন। নিখুঁত থ্রু বলের ওস্তাদ ফার্নান্দেস এই বিশ্বকাপে পর্তুগালের আক্রমণভাগের সবচেয়ে বিপজ্জনক অস্ত্র এবং তিনি মেসির মতোই ভূমিকা পালন করতে পারেন।পর্তুগাল কেবল রোনালদো বা ফার্নান্দেসের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং দলটিতে রয়েছে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা মিডফিল্ড ও ডিফেন্স লাইনআপ। মাঝমাঠে বের্নাদো সিলভা, ভিতিনহা এবং জোয়াও নেভেসের মতো তারকাদের পাশাপাশি রক্ষণভাগে রয়েছেন রুবেন দিয়াস ও গনসালো ইনাসিও। দুই উইং-ব্যাকে জোয়াও কানসেলো ও দিওগো দালোতের উপস্থিতি দলকে করেছে দারুণ ভারসাম্যপূর্ণ। তবে সবকিছুর পরেও স্পটলাইট থাকবে সিআর সেভেনের ওপরেই। মেসির সাথে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে টিকে থাকতে এবং নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে আজ রোনালদোকে তার চেনা ছন্দে জ্বলে উঠতেই হবে। অন্যথায়, ৫ বারের ব্যালন ডি'অর জয়ী এই মহাতারকা ফুটবল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু থেকে অনেকটাই ছিটকে যাবেন।/টিএ

জুন ১৭, ২০২৬

আলজেরিয়াকে উড়িয়ে আর্জেন্টিনার দারুণ সূচনা

কাতার বিশ্বকাপে যেখানে শেষ করেছিলেন, নতুন বিশ্বকাপের মঞ্চে ঠিক সেখান থেকেই শুরু করলেন লিওনেল মেসি। নিজেদের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক করে আর্জেন্টিনাকে ৩–০ গোলের জয় উপহার দিয়েছেন অধিনায়ক। মেসির অনবদ্য নৈপুণ্যে ম্যাচজুড়ে আধিপত্য দেখিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।ম্যাচের ১৭ মিনিটে রদ্রিগো ডি পলের পাস থেকে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে অসাধারণ এক শটে জালের দেখা পান মেসি। প্রথমার্ধে সেই এক গোলেই এগিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। বিরতির পর ৬০ মিনিটে আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদানের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।এরপর ৭৬ মিনিটে আরও একটি দৃষ্টিনন্দন গোল করে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন মেসি। এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে ছাড়িয়ে গেছেন ব্রাজিল কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিওর ১৫ গোলের মাইলফলক। আর মাত্র একটি গোল করলেই বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে এককভাবে শীর্ষে উঠে যাবেন মেসি।হ্যাটট্রিকের পর ৮০ মিনিটে মাঠ ছাড়েন মেসি। তখন গ্যালারিভর্তি দর্শক দাঁড়িয়ে করতালির মাধ্যমে তাকে সম্মান জানান। বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আর্জেন্টিনা যে এবারও বড় দাবিদার, আলজেরিয়ার বিপক্ষে এই দাপুটে জয়েই তার স্পষ্ট বার্তা দিল স্কালোনির দল। আর মেসিও বুঝিয়ে দিলেন, বিশ্বকাপ জয়ের পরও তার ক্ষুধা ও জয়ের আকাঙ্ক্ষা এতটুকু কমেনি।/টি

জুন ১৭, ২০২৬

২০২৬ বিশ্বকাপে মেসির প্রথম হ্যাটট্রিক

২০২৬ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত এক কীর্তি গড়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে একাই তিন গোল করে টুর্নামেন্টের প্রথম হ্যাটট্রিকের মালিক হয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ডও স্পর্শ করেছেন মেসি।ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। এরই ধারাবাহিকতায় ১৭ মিনিটে প্রথম গোলের দেখা পান মেসি। ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার শক্তিশালী শট আলজেরিয়ার গোলরক্ষককে পরাস্ত করে জালে জড়ায়। এই গোলে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।বিরতির পরও আর্জেন্টিনার আক্রমণের ধার অব্যাহত থাকে। ম্যাচের ৬০ মিনিটে দ্বিতীয়বারের মতো গোল করেন মেসি। মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের দূরপাল্লার শট গোলরক্ষক ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণে নিতে না পারলে ফিরতি বলে সুযোগ কাজে লাগান আর্জেন্টাইন মহাতারকা। কাছ থেকে বল জালে পাঠিয়ে দলের ব্যবধান আরও বাড়ান তিনি।ম্যাচের ৭৬ মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত হ্যাটট্রিক। সতীর্থদের দারুণ সমন্বিত আক্রমণ থেকে বল পেয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে নিজের তৃতীয় গোলটি করেন মেসি। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো হ্যাটট্রিকের স্বাদ পান ‘এলএম১০’। তার এই কীর্তিতে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে আর্জেন্টাইন সমর্থকরা।এই তিন গোলের ফলে বিশ্বকাপে মেসির মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬-তে। ফলে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় মিরোস্লাভ ক্লোসার সমান উচ্চতায় উঠে এসেছেন তিনি। ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার শিরোপা মিশনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত রেকর্ডের দিক থেকেও মেসির এই অর্জন ফুটবল ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।/টিএ

জুন ১৭, ২০২৬

ইতিহাস গড়ার মিশনে বিশ্বকাপে নামছে আর্জেন্টিনা

বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ২০২৬ বিশ্বকাপে মাঠে নামছে নতুন ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন নিয়ে। কাতার বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের চার বছর পর এবার টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জিতে বিরল এক কীর্তি গড়তে চায় লিওনেল স্কালোনির দল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে মাত্র দুটি দেশ শিরোপা ধরে রাখতে পেরেছে। ১৯৩৮ সালে ইতালি এবং ১৯৬২ সালে ব্রাজিল সর্বশেষ এই কৃতিত্ব দেখিয়েছে। এরপর আর কোনো দল টানা দুই আসরে বিশ্বকাপ জিততে পারেনি।আর্জেন্টিনার এই মিশনের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ৩৮ বছর বয়সী এই তারকার জন্য ২০২৬ বিশ্বকাপ হতে পারে ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। ২০২২ সালে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ করেছিলেন তিনি। এবার আরেকটি শিরোপা জিতে স্মরণীয় বিদায় নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবেন মেসি।দলের শক্তির জায়গাতেও বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, পাশাপাশি ফরোয়ার্ড লাউতারো মার্তিনেজ ও হুলিয়ান আলভারেজদের নিয়ে গড়া স্কোয়াডটি এখনো বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাছাইপর্বে ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ২০২৪ কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতে আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার জায়ান্টরা।তবে আর্জেন্টিনাকে ঘিরে কিছু প্রশ্নও রয়েছে। সমালোচকদের মতে, বিশ্বকাপের আগে দলটি তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বেশি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে। ফলে নকআউট পর্বে ফ্রান্স, ব্রাজিল বা স্পেনের মতো শক্তিশালী দলের মুখোমুখি হলে তারা কতটা প্রস্তুত থাকবে, সেটিই এখন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সামনে রয়েছে একাধিক লক্ষ্য। শিরোপা ধরে রাখা, মেসির সম্ভাব্য বিদায়ী বিশ্বকাপকে স্মরণীয় করে তোলা এবং ৬৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে টানা দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস গড়া—এই তিন স্বপ্ন নিয়েই বিশ্বমঞ্চে নিজেদের অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে স্কালোনির দল। এছাড়া হুলিয়ান আলভারেজ, এনজো ফার্নান্দেজ, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারকে ঘিরে ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর আগ্রহও দলটিকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছে।/টিএ 

জুন ১৬, ২০২৬

১৯ বছর পর আবারও আলজেরিয়ার চ্যালেঞ্জে মেসি

২০০৭ সালের ৫ জুন স্পেনের বার্সেলোনার ঐতিহ্যবাহী ক্যাম্প ন্যু স্টেডিয়ামে এক প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল ও আলজেরিয়া জাতীয় ফুটবল দল। কোচ আলফিও বাসিলের অধীনে তখন কোপা আমেরিকার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিল আর্জেন্টিনা। ম্যাচটি পরবর্তীতে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের জন্য স্মরণীয় হয়ে ওঠে।সেই ম্যাচে অভিজ্ঞ তারকাদের পাশে ছিলেন তরুণ লিওনেল মেসি, যিনি তখনো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের প্রতিভার ঝলক দেখাতে শুরু করেছেন। রবার্তো আয়ালা, হুয়ান সেবাস্তিয়ান ভেরন এবং হুয়ান রোমান রিকেলমের মতো অভিজ্ঞদের পাশে দাঁড়িয়ে মেসি আলজেরিয়ার রক্ষণভাগে বারবার চাপ সৃষ্টি করেন এবং আক্রমণে বড় ভূমিকা রাখেন।ম্যাচের শুরুতেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় আর্জেন্টিনা। দেড় মিনিটের মাথায় কার্লোস তেভেজ পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। তবে দ্রুতই ঘুরে দাঁড়ায় আলজেরিয়া। ৯ মিনিটে আনথার ইয়াহিয়া সমতা ফেরান এবং প্রথমার্ধের শেষদিকে মাজিদ বুগেরা গোল করে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন।দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের চিত্র বদলে দেন মেসি। তার অনুপ্রেরণায় আর্জেন্টিনা দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। পেনাল্টি থেকে সমতা ফেরানোর পর এস্তেবান ক্যাম্বিয়াসোর গোলে আবারও এগিয়ে যায় দলটি। ৭৩ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে জয় প্রায় নিশ্চিত করেন মেসি। শেষদিকে আলজেরিয়া আরেকটি গোল শোধ করলেও আর্জেন্টিনা ৪-৩ ব্যবধানে রোমাঞ্চকর জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।প্রায় দুই দশক পর আবারও বড় মঞ্চে মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে দুই দলের। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬কে সামনে রেখে এই লড়াই ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ। শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে শক্তিশালী স্কোয়াডে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা, আর ‘ডেজার্ট ফক্সেস’ খ্যাত আলজেরিয়া তাদের গতি, পাল্টা আক্রমণ ও চমক দেখানোর সামর্থ্য নিয়ে প্রস্তুত থাকবে। ফলে আবারও একটি উত্তেজনাপূর্ণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচের প্রত্যাশা ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে জোরালো হচ্ছে।/টি

জুন ১৫, ২০২৬

বিশ্বকাপে জার্মানির গোলবন্যা, কুরাসাওকে ৭–১ গোলে বিধ্বস্ত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি। হিউস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বিশ্বকাপের ইতিহাসে জনসংখ্যার বিচারে ক্ষুদ্রতম দেশ কুরাসাওকে ৭–১ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে ইউলিয়ান নাগেলসমানের দল। এই জয়ে আবারও ফুটবলপ্রেমীদের মনে জাগিয়ে তোলে ২০১৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে জার্মানির ঐতিহাসিক ৭–১ জয়ের স্মৃতি।ম্যাচের শুরুতেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল উপহার দেয় জার্মানি। ষষ্ঠ মিনিটেই মিডফিল্ডার ফেলিক্স এনমেচার গোলে এগিয়ে যায় দলটি। তবে ইতিহাস গড়তে নামা কুরাসাও হাল ছাড়েনি। ২১ মিনিটে লিভানো কোমেনেনসিয়ার দুর্দান্ত শটে সমতা ফেরায় তারা, যা ছিল বিশ্বকাপে তাদের প্রথম গোল।সমতায় ফেরার আনন্দ বেশি সময় স্থায়ী হয়নি কুরাসাওয়ের। ৩৮ মিনিটে নিকো শ্লটারবেকের হেডে আবারও এগিয়ে যায় জার্মানি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে কাই হাভার্টজ গোল করে ব্যবধান বাড়ান, ফলে বিরতিতে ৩–১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় জার্মানরা।দ্বিতীয়ার্ধে পুরোপুরি একতরফা হয়ে ওঠে ম্যাচটি। জামাল মুসিয়ালা, নাথানিয়েল ব্রাউন ও ডেনিজ উনদাভ একে একে গোল করে ব্যবধান বাড়াতে থাকেন। জার্মানির প্রথম ছয়টি গোলই আসে ছয়জন ভিন্ন খেলোয়াড়ের পা থেকে, যা দলীয় সমন্বয়ের দারুণ উদাহরণ।ম্যাচের শেষদিকে কাই হাভার্টজ নিজের দ্বিতীয় গোল করে জার্মানির বড় জয় নিশ্চিত করেন। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই ৭–১ গোলের বিশাল ব্যবধানে জয় পায় জার্মানি। কুরাসাও প্রথম ম্যাচেই ইতিহাস গড়লেও, জার্মানির শক্তিশালী আক্রমণের সামনে শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানেই হার দিয়ে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করতে হলো তাদের।/টিএ

জুন ১৫, ২০২৬

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

৪০ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে মিরপুরে রচিত হলো নতুন ইতিহাস। বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়াকে সিরিজে হারানোর গৌরব অর্জন করল টাইগাররা। সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে দারুণ জয় তুলে নিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিজেদের করে নেয় মিরাজের নেতৃত্বাধীন দল।বৃহস্পতিবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। বৃষ্টির আগে ৪২ ওভারে সফরকারীরা তোলে ১৮৭ রান। পরে ডিএলএস পদ্ধতিতে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯২ রান (৪১ ওভারে)।জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। প্রথম ওভারেই ফিরে যান তানজিদ তামিম। তবে এরপর সৌম্য সরকার ও নাজমুল হোসেন শান্ত গড়েন ৮৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। সৌম্য ৪২ রানে এবং শান্ত ৪২ রানে আউট হলেও ভিত্তি পেয়ে যায় বাংলাদেশ।মধ্যভাগে লিটন দাস ও মোসাদ্দেক হোসেন দ্রুত আউট হলে ম্যাচে আবারও উত্তেজনা তৈরি হয়। ১৪৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা। তবে শেষদিকে ব্যাটারদের দায়িত্বশীলতায় লক্ষ্য টপকে যায় বাংলাদেশ এবং ৫ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে ইতিহাস গড়ে।এর আগে ইনিংসের শুরুতেই অস্ট্রেলিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করেন বাংলাদেশের বোলাররা। শুরুতেই তিন উইকেট হারিয়ে শূন্য রানে লজ্জার রেকর্ড গড়ে সফরকারীরা—যা ওয়ানডে ইতিহাসে বিরল এক ঘটনা। তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান নতুন বলে ভয়ঙ্কর আঘাত হানেন, পাশাপাশি তানভীর ইসলামও গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন।অ্যালেক্স ক্যারি ও মার্নাস লাবুশেন কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ১৮৭ রানে থামে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস। পরে তাসকিন ও মোস্তাফিজ নেন ৩টি করে উইকেট।বৃষ্টির কারণে দীর্ঘ বিরতির পর ম্যাচ ডিএলএসে নতুন মোড় নেয়, আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঐতিহাসিক জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। এই জয়ের মাধ্যমে শুধু সিরিজ জয়ই নয়, ওয়ানডে ইতিহাসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম সিরিজ জয়ও নিশ্চিত করল টাইগাররা।/টিএ

জুন ১১, ২০২৬

বৃষ্টিতে বদলে গেল সমীকরণ, বাংলাদেশের লক্ষ্য ১৯২

মিরপুরে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে বৃষ্টির কারণে ম্যাচের চিত্র বদলে গেছে। টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রেলিয়া ৪২ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৮৭ রান সংগ্রহ করে। এরপর বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে বাংলাদেশের সামনে ৪১ ওভারে ১৯২ রানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে পুনরায় খেলা শুরু হয়।ব্যাটিংয়ে নেমেই চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। দলীয় কোনো রান যোগ হওয়ার আগেই তারা হারায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। বাংলাদেশের পেস আক্রমণে শুরু থেকেই দারুণ ছন্দে ছিলেন তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান। তাসকিন একটি এবং মুস্তাফিজ দুটি উইকেট নিয়ে অজিদের বড় ধাক্কা দেন।শুরুর ধাক্কা সামাল দিতে গিয়ে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে সফরকারীরা। মাঝের দিকে জশ ইংলিস কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুলে ৩৮ বলে ৩৪ রান করেন। তবে বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে বড় জুটি গড়তে পারেননি অন্য ব্যাটাররা। ফলে অস্ট্রেলিয়ার রান তোলার গতি দীর্ঘ সময় ধরে মন্থর ছিল।ইনিংসের শেষভাগে মারনাস লাবুশেন ও জাভিয়ের বার্টলেটের ১০৩ রানের জুটি অস্ট্রেলিয়াকে লড়াই করার মতো অবস্থানে নিয়ে যায়। বার্টলেট ফিফটি পূরণ করে আউট হলেও লাবুশেন অর্ধশতক তুলে অপরাজিত থাকেন। তাদের এই জুটির সুবাদেই অস্ট্রেলিয়া ৪২ ওভারে ১৮৭ রান পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হয়। বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান তিনটি করে উইকেট শিকার করেন, আর তানভীর ইসলাম নেন দুটি উইকেট।বৃষ্টির কারণে ওভার কমে যাওয়ায় ম্যাচের প্লেয়িং কন্ডিশনেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী একজন বোলার সর্বোচ্চ ৯ ওভার এবং বাকি চারজন বোলার সর্বোচ্চ ৮ ওভার করে বল করতে পারবেন। এছাড়া ১-৮ ওভার পর্যন্ত প্রথম, ৯-২৫ ওভার পর্যন্ত দ্বিতীয় এবং ২৬-৪১ ওভার পর্যন্ত তৃতীয় পাওয়ারপ্লে নির্ধারণ করা হয়েছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশ ৬ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ২৯ রান সংগ্রহ করেছে।/টি

জুন ১১, ২০২৬

লাবুশেন-বার্টলেটে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা অস্ট্রেলিয়ার

বাংলাদেশের বোলারদের দুর্দান্ত শুরুতে বড় বিপদে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। ইনিংসের একেবারে শুরুতেই কোনো রান না তুলেই তিন উইকেট হারায় সফরকারীরা। এমন পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছিল খুব অল্প রানেই গুটিয়ে যেতে পারে অজিদের ইনিংস। টাইগার বোলারদের ধারাবাহিক আক্রমণে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও চলে আসে স্বাগতিকদের হাতে।প্রথম ধাক্কার পর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে সুবিধা করতে পারছিলেন না অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দলটি। অ্যালেক্স ক্যারি, জশ ইংলিস ও কামেরন গ্রিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটাররা দ্রুত সাজঘরে ফিরে গেলে আরও সংকটে পড়ে সফরকারীরা।বাংলাদেশের বোলাররা শুরু থেকে আক্রমণাত্মক মনোভাব ধরে রেখে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপকে চেপে ধরেন। একের পর এক উইকেট তুলে নিয়ে তারা ম্যাচে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন। ফলে ৬ উইকেট হারানোর আগ পর্যন্ত বড় জুটি গড়তে পারেনি অস্ট্রেলিয়া।তবে ষষ্ঠ উইকেট পতনের পর কিছুটা স্বস্তি খুঁজে পায় সফরকারীরা। দলের হাল ধরেন মার্নাস লাবুশেন ও জাভিয়ের বার্টলেট। দুজনই দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে ব্যক্তিগত অর্ধশতক পূর্ণ করেন। তাদের জুটিতে ধীরে ধীরে ইনিংস মেরামত করে লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা চালায় অস্ট্রেলিয়া।এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৪০ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৬ উইকেটে ১৮৪ রান। লাবুশেন ও বার্টলেটের দৃঢ় ব্যাটিংয়ে দলটি এখন সম্মানজনক সংগ্রহের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যদিও ম্যাচে বাংলাদেশের বোলাররাই এখন পর্যন্ত আধিপত্য বজায় রেখেছেন।/টি

জুন ১১, ২০২৬

যেকারণে বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়েও অংশ নেয়নি ভারত

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর 'ফিফা বিশ্বকাপ'। প্রতি চার বছর পর পর অনুষ্ঠিত এই ফুটবল মহাযজ্ঞে খেলা যেকোনো দেশের জন্যই পরম আরাধ্য। এশিয়ান পরাশক্তি ভারত এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের মূল পর্বে মাঠের লড়াইয়ে নামতে না পারলেও, দেশটির ফুটবল ইতিহাসে রয়েছে এক অদ্ভুত ও ঐতিহাসিক অধ্যায়। ১৯৫০ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে খেলার চূড়ান্ত সুযোগ পেয়েছিল ভারত, কিন্তু শেষ মুহূর্তে তারা টুর্নামেন্ট থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেয়।যেভাবে এসেছিল সুযোগ১৯৫০ সালের চতুর্থ ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজক ছিল ব্রাজিল। সেই বিশ্বকাপে এশিয়া অঞ্চলের জন্য একটি কোটা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। বাছাইপর্বে ভারতের গ্রুপে ছিল ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া এবং মিয়ানমার (তৎকালীন বার্মা)। কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই এই তিনটি দেশই নানা কারণে তাদের নাম প্রত্যাহার করে নেয়। ফলে কোনো ম্যাচ না খেলেই ভারত সরাসরি বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার টিকিট পেয়ে যায়।কেন খেলা হয়নি ভারতের?বিশ্বকাপের ড্র-তে ভারতের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পরও শেষ পর্যন্ত তারা ব্রাজিলের বিমান ধরেনি। কেন ভারত সেই বিশ্বকাপে অংশ নেয়নি, তা নিয়ে ফুটবল ইতিহাসে বেশ কিছু কারণ প্রচলিত রয়েছে:খালি পায়ে খেলার নিষেধাজ্ঞা: তৎকালীন সময়ে ভারতীয় ফুটবলাররা মূলত খালি পায়ে খেলতে অভ্যস্ত ছিলেন। ১৯৪৮ সালের অলিম্পিকেও তারা খালি পায়ে খেলে নজর কেড়েছিলেন। কিন্তু ১৯৫০ বিশ্বকাপে ফিফা বুট পরা বাধ্যতামূলক ঘোষণা করে। খালি পায়ে খেলার অনুমতি না পাওয়াকে দলটির অংশ না নেওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা হয়। ভ্রমণ ব্যয় ও দূরত্বের ধকল: ভারত থেকে ব্রাজিলের দূরত্ব ছিল বিশাল। তৎকালীন অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনের (AIFF) জন্য আকাশপথের বিপুল ভ্রমণ খরচ বহন করা কঠিন ছিল। যদিও আয়োজক দেশ ব্রাজিল খরচের বড় একটা অংশ দেওয়ার প্রস্তাব করেছিল, তবুও দীর্ঘ সমুদ্র বা আকাশযাত্রার ধকল এড়াতে চায় ভারত। অলিম্পিকের প্রতি অতিরিক্ত ঝোঁক: সেই সময়ে ভারতীয় ফুটবল কর্তাদের কাছে বিশ্বকাপের চেয়ে অলিম্পিক গেমসের গুরুত্ব অনেক বেশি ছিল। তারা বিশ্বকাপকে অলিম্পিকের চেয়ে ছোট টুর্নামেন্ট হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন। বিশ্বকাপের দীর্ঘ আক্ষেপ১৯৫০ সালের সেই সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করার পর থেকে আজ পর্যন্ত ভারত আর কখনোই বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। কালের বিবর্তনে ফুটবল আধুনিক হয়েছে, কিন্তু ফুটবল মানচিত্রে ভারতের সেই ঐতিহাসিক আক্ষেপ আজও রয়ে গেছে।সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া/টি 

জুন ১০, ২০২৬

কাল পর্দা উঠছে বিশ্বকাপ ফুটবলের

আগামীকাল বৃহস্পতিবার পর্দা উঠছে ফুটবল বিশ্বকাপের। রেকর্ড ৪৮টি দলকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে শুরু হতে যাচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ। উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজটেকা স্টেডিয়ামে সহ-আয়োজক মেক্সিকো মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকার। প্রায় ছয় সপ্তাহব্যাপী এই টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে।বিশ্বকাপ ঘিরে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ খেলোয়াড়দের লড়াই। ৩৮ বছর বয়সী লিওনেল মেসি কি আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয় শিরোপা এনে নিজের শ্রেষ্ঠত্বের বিতর্কের অবসান ঘটাতে পারবেন, নাকি ৪১ বছর বয়সী ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো পর্তুগালকে প্রথম বিশ্বকাপ জেতাবেন—এমন প্রশ্ন এখন ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রে। একই সঙ্গে হ্যারি কেনের নেতৃত্বে ইংল্যান্ডও ১৯৬৬ সালের পর প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে।তবে মাঠের উত্তেজনার পাশাপাশি টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই বিতর্কের জন্ম দিয়েছে টিকিটের আকাশছোঁয়া মূল্য। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের সবচেয়ে দামি টিকিটের মূল্য যেখানে ছিল প্রায় ১,৬০০ ডলার, সেখানে ২০২৬ আসরে সর্বোচ্চ মূল্যের টিকিট পৌঁছেছে ৩২,৯৭০ ডলারে। এ নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও টিকিটের মূল্য নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছেন, তিনি নিজেও এত টাকা দিয়ে টিকিট কিনতেন না।রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আন্তর্জাতিক সংঘাতও বিশ্বকাপকে ঘিরে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে টুর্নামেন্টে। ইরানের তিনটি গ্রুপ ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও দেশটি তাদের বেস ক্যাম্প অ্যারিজোনা থেকে সরিয়ে মেক্সিকোর তিহুয়ানায় নিয়েছে। পাশাপাশি দলের কয়েকজন প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে ভিসা না দেওয়ায় ইরান এ ঘটনাকে বৈষম্যমূলক আচরণ বলে অভিযোগ করেছে।এবারের বিশ্বকাপে থাকছে বেশ কিছু নতুনত্বও। দলসংখ্যা ৩২ থেকে ৪৮ হওয়ায় গ্রুপ পর্বে ম্যাচের সংখ্যা বেড়েছে, তবে প্রতিযোগিতার তীব্রতা কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। তীব্র গরম মোকাবিলায় প্রতিটি ম্যাচে কুলিং ব্রেক রাখা হয়েছে, বদলি সম্পন্ন করতে হবে ১০ সেকেন্ডের মধ্যে এবং বর্ণবাদবিরোধী নতুন নিয়মও কার্যকর থাকবে। এছাড়া ফাইনালে সুপার বোল-ধাঁচের বিশেষ হাফটাইম শো আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন মাত্রা যোগ করবে।/টিএ

জুন ১০, ২০২৬

৬৮ বছরের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে ইতিহাসের পাতায় মেসি

ফুটবল মাঠে বয়স যেন শুধুই একটি সংখ্যা—আর তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ লিওনেল মেসি। ৩৯ বছরে পা রাখার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েও তিনি একের পর এক রেকর্ড গড়ে চলেছেন। এবার আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের প্রায় সাত দশকের পুরোনো একটি রেকর্ড ভেঙে নিজের নাম লিখিয়েছেন নতুন উচ্চতায়। ৩৮ বছর ১১ মাস ১৮ দিন বয়সে গোল করে তিনি দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সী গোলদাতার রেকর্ডের মালিক হয়েছেন।বুধবার (১০ জুন) সকালে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ম্যাচে ৩-০ গোলের দাপুটে জয় পায় আলবিসেলেস্তেরা। এই ম্যাচেই স্পট কিক থেকে দলের দ্বিতীয় গোলটি করে ইতিহাসের পাতায় নতুন করে জায়গা করে নেন মেসি।আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ১৯৯তম ম্যাচ খেলতে নেমে শুরুতে একাদশে ছিলেন না আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ম্যাচের ৬৯তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন তিনি। গ্যালারিজুড়ে তখন করতালির ঢেউ। মাঠে নামার মাত্র ৫৩ সেকেন্ডের মধ্যেই নিজের সৃজনশীলতা দেখিয়ে সতীর্থ লাউতারো মার্টিনেজকে দুর্দান্ত একটি থ্রু পাস দেন, যা থেকে আর্জেন্টিনা পেনাল্টি আদায় করে নেয়।৭২তম মিনিটে সেই পেনাল্টি নিতে এগিয়ে আসেন মেসি। নিখুঁত শটে বল জালে পাঠিয়ে দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। আইসল্যান্ডের বিপক্ষে করা এই গোলটি ছিল আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার ১১৭তম আন্তর্জাতিক গোল। একই সঙ্গে এই গোলই তাকে এনে দেয় দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল করার অনন্য কীর্তি।এর আগে আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল করার রেকর্ডটি ছিল কিংবদন্তি অ্যাঞ্জেল লাব্রুনার দখলে। ১৯৫৭ সালে ব্রাজিলের বিপক্ষে গোল করার সময় তার বয়স ছিল ৩৮ বছর ৯ মাস ১০ দিন। দীর্ঘ ৬৮ বছর ধরে অক্ষুণ্ন থাকা সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়লেন লিওনেল মেসি, যা তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে যোগ করল আরেকটি গৌরবময় অধ্যায়।/টিএ

জুন ১০, ২০২৬
footer small logo

Design & Developed by:

developed-company-logo