অগ্নিপরীক্ষায় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো
17 জুন 2026, বিকাল 5:55
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো— পর্তুগালের এক অবিসংবাদিত আইকন এবং সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার। ২০২৬ বিশ্বকাপে পর্তুগালের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন মূলত তাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হচ্ছে। আজ রাত ১১টায় ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে পর্তুগাল তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে। এই ম্যাচে মাঠে নামার সাথে সাথেই ইতিহাসের দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে খেলার অনন্য এক কীর্তি গড়বেন ৪১ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার। উল্লেখ্য, মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে সকাল সাতটায় আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমে আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি লিওনেল মেসি বিশ্বের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছেন।দীর্ঘদিন ধরে ফুটবল বিশ্বে মেসি ও রোনালদোর শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই চললেও ২০২২ সালে মেসির বিশ্বকাপ জয় সেই বিতর্কের অনেকটাই অবসান ঘটিয়েছে। চলতি বিশ্বকাপেও ৩৮ বছর বয়সী মেসি আর্জেন্টিনার আক্রমণের মূল ভরসা হিসেবে প্রথম ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। অন্যদিকে, রোনালদো গত চার মৌসুম ধরে সৌদি প্রো লিগে খেলছেন। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, গতি ও প্রেসিংয়ের ধার কমে যাওয়া ৪১ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার বিশ্বমঞ্চে কতটা পার্থক্য গড়ে দিতে পারবেন? যদিও মাঠের বাইরেও পর্তুগালের জেতার মতো যথেষ্ট যোগ্যতা রয়েছে, তবুও ফুটবল বিশ্ব অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে রোনালদোর চিরচেনা সেই জাদুকরী পারফরম্যান্স দেখার জন্য।ঐতিহাসিকভাবে বিশ্বকাপে রোনালদোর পরিসংখ্যান কিছুটা অম্লমধুর। ২০০৬ সালে মাত্র ২১ বছর বয়সে নিজের প্রথম বিশ্বকাপে উইঙ্গার হিসেবে দারুণ খেলে পর্তুগালকে চতুর্থ স্থানে নিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি যখন দলের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলেন, তখন পর্তুগাল দুবার গ্রুপ পর্বেই বাদ পড়ে এবং বাকি দুবার কোয়ার্টার ফাইনাল পার হতে পারেনি। তবে এই ব্যর্থতার পেছনে পর্তুগালের অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক কৌশলও দায়ী ছিল। আশ্চর্যের বিষয় হলো, বিশ্বকাপে ২২ ম্যাচে রোনালদোর মোট গোল আটটি হলেও, নকআউট পর্বে এখনো তার কোনো গোল বা অ্যাসিস্ট নেই। অপরদিকে, প্লেমেকার হিসেবে খেলা মেসির বিশ্বকাপে অ্যাসিস্ট সংখ্যা ছয়টি, যা দুই তারকার মধ্যকার কার্যকারিতার পার্থক্য স্পষ্ট করে।দলের সেট-পিস ও পেনাল্টিতে রোনালদোর একক আধিপত্য থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে ফ্রি-কিক থেকে তার সাফল্যের হার বেশ নিম্নমুখী। বড় টুর্নামেন্টে তিনি ফ্রি-কিক থেকে মাত্র একটি গোল করেছেন, যা এসেছিল ২০১৮ বিশ্বকাপে। তবে এবার পর্তুগাল দলে ফ্রি-কিকের দায়িত্ব ভাগ হতে পারে, কারণ দলে রয়েছেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান সেরা খেলোয়াড় ব্রুনো ফার্নান্দেস। ৩১ বছর বয়সী এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার সদ্য সমাপ্ত ঘরোয়া মরসুমে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে ৩৫ ম্যাচে ৯টি গোল এবং রেকর্ড ২১টি অ্যাসিস্ট করেছেন। নিখুঁত থ্রু বলের ওস্তাদ ফার্নান্দেস এই বিশ্বকাপে পর্তুগালের আক্রমণভাগের সবচেয়ে বিপজ্জনক অস্ত্র এবং তিনি মেসির মতোই ভূমিকা পালন করতে পারেন।পর্তুগাল কেবল রোনালদো বা ফার্নান্দেসের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং দলটিতে রয়েছে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা মিডফিল্ড ও ডিফেন্স লাইনআপ। মাঝমাঠে বের্নাদো সিলভা, ভিতিনহা এবং জোয়াও নেভেসের মতো তারকাদের পাশাপাশি রক্ষণভাগে রয়েছেন রুবেন দিয়াস ও গনসালো ইনাসিও। দুই উইং-ব্যাকে জোয়াও কানসেলো ও দিওগো দালোতের উপস্থিতি দলকে করেছে দারুণ ভারসাম্যপূর্ণ। তবে সবকিছুর পরেও স্পটলাইট থাকবে সিআর সেভেনের ওপরেই। মেসির সাথে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে টিকে থাকতে এবং নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে আজ রোনালদোকে তার চেনা ছন্দে জ্বলে উঠতেই হবে। অন্যথায়, ৫ বারের ব্যালন ডি'অর জয়ী এই মহাতারকা ফুটবল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু থেকে অনেকটাই ছিটকে যাবেন।/টিএ