Logo
Logo
×

বিশ্লেষণ

আল জাজিরার বিশ্লেষণ

ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ বৈঠক: কারা থাকছে, কারা থাকছে না, এজেন্ডায় কী?

Icon

ইয়াশরাজ শর্মা

প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:২১ পিএম

ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ বৈঠক: কারা থাকছে, কারা থাকছে না, এজেন্ডায় কী?

২০২৬ সালের ২২ জানুয়ারি, সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক বৈঠকে ‘বোর্ড অব পিস’-এর সনদ ঘোষণা অনুষ্ঠানে পৌঁছে অন্যান্য নেতাদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডানে ট্রাম্প। [ফাইল ছবি: ইভান ভুচি/এপি]

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে তার কথিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রথম বৈঠক আয়োজন করতে যাচ্ছেন। সেখানে সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিরা একত্র হবেন। গাজা পুনর্গঠনের কৌশল ও অর্থায়নের ঘোষণা দেওয়া হবে এই বৈঠকে।

যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমা মিত্ররা এই বোর্ড থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ প্রথম বৈঠকে যোগ দিচ্ছে। বৈঠকটি হবে ওয়াশিংটনের ইউএস ইনস্টিটিউট অব পিসে।

ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, এই বোর্ডের ‘অসীম সম্ভাবনা’ আছে। তিনি নিজেকে এর অনির্দিষ্টকালের চেয়ারম্যান বলে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষায়, ‘বোর্ড অব পিস ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংস্থা হয়ে উঠবে।’

সমালোচকেরা বলছেন, এটি ট্রাম্পের ‘সাম্রাজ্যবাদী এজেন্ডা’র অংশ। অনেক বিশ্লেষকের মতে, এর বিস্তৃত কাঠামো জাতিসংঘের বিকল্প হয়ে ওঠার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ট্রাম্প ইসরায়েলের বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিনকে বোর্ডে আসন দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও নেতানিয়াহু আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন। পুতিন এখনো সিদ্ধান্ত নেননি।

বৈঠকের মূল আলোচ্য গাজা পুনর্গঠন পরিকল্পনা। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এতে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্র সদস্য দেশগুলোর কাছ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার সহায়তার ঘোষণা দিতে পারে।

এছাড়া একটি ‘আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী’ গঠনের প্রস্তাব রয়েছে, যা গাজায় নিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করবে। গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন যে ২০ দফা পরিকল্পনা দেয়, তার অংশ হিসেবেই এই ধারণা এসেছে। সেখানে ধাপে ধাপে যুদ্ধবিরতি, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং একটি অন্তর্বর্তী শাসন কাঠামোর কথা বলা হয়েছিল।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সাইডলাইনে গত মাসে বোর্ডটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে। জ্যারেড কুশনার গাজার জন্য সমুদ্রতীরবর্তী রিসোর্ট ও উঁচু টাওয়ারসহ একটি পুনর্গঠন ভাবনা তুলে ধরেন। ফিলিস্তিনি সংগঠনগুলো একে ‘সাম্রাজ্যবাদী’ বলে আখ্যা দেয়।

হোয়াইট হাউস ৫০টি দেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এর মধ্যে ২৬টি দেশ প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হয়েছে। অন্তত ১৪টি দেশ আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছে। ইউরোপ বিভক্ত। ইউরোপীয় ইউনিয়ন সদস্য হয়নি, তবে একজন পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে। ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও স্পেন যোগ দেয়নি। হাঙ্গেরি ও বুলগেরিয়া সদস্য হয়েছে। কসোভো ও আলবেনিয়াও যুক্ত হয়েছে।

পোপ লিও আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেছেন, সংকট মোকাবিলা জাতিসংঘের মাধ্যমেই হওয়া উচিত।

এখন প্রশ্ন একটাই। এই বোর্ড কি সত্যিই গাজায় শান্তি আনতে পারবে, নাকি নতুন কূটনৈতিক বিভাজন তৈরি করবে। সিদ্ধান্তের প্রভাব শুধু গাজায় নয়, বিশ্ব রাজনীতিতেও পড়বে।


Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন