নিই ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন
ইরানে অনুপ্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রপন্থী কুর্দি বাহিনী
নিই ইয়র্ক টাইমস
প্রকাশ: ০৫ মার্চ ২০২৬, ০১:৪২ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে নতুন এক অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ইরাকে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রপন্থী ইরানি কুর্দি বাহিনীগুলো সশস্ত্র ইউনিট গঠন করছে। ধারণা করা হচ্ছে, তারা ইরানে ঢোকার প্রস্তুতি নিচ্ছে। যদি তা ঘটে, তাহলে ইতিমধ্যেই বিস্তৃত হয়ে ওঠা সংঘাতে নতুন একটি ফ্রন্ট খুলে যেতে পারে।
ইরাকি কর্মকর্তা এবং ইরানি কুর্দি গোষ্ঠীর জ্যেষ্ঠ সদস্যদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরাকে থাকা কিছু কুর্দি বাহিনী এমন ইউনিট তৈরি করছে, যেগুলো প্রয়োজনে সীমান্ত পেরিয়ে ইরানে প্রবেশ করতে পারে।
এই পরিকল্পনার পেছনে পুরোনো একটি গোপন কর্মসূচির কথাও সামনে এসেছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত কয়েকজনের মতে, বর্তমান যুদ্ধ শুরুর আগেই সিআইএ একটি গোপন কর্মসূচির আওতায় ইরানি কুর্দি বাহিনীগুলোকে ছোট অস্ত্র দিয়েছিল। সেই কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল ইরানকে অস্থিতিশীল করে তোলা।
তবে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন প্রকাশ্যে এমন পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করেছে। বুধবার ব্রিফিংয়ে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কুর্দিদের ইরানে বিদ্রোহ শুরু করার কোনো পরিকল্পনায় সম্মতি দিয়েছেন—এমন খবর ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’।
শনিবার শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বোমা হামলায় ইরানের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীর স্থাপনার পাশাপাশি ইরান-ইরাক সীমান্ত এলাকার কিছু লক্ষ্যবস্তুও হামলার শিকার হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফ করা কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুদ্ধ তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কুর্দি অনুপ্রবেশের সম্ভাবনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও আলোচনা চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি বড় আকারে কুর্দি অনুপ্রবেশ ঘটে, তাহলে ইরানি সেনাবাহিনীকে প্রতিক্রিয়া জানাতে হতে পারে। সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলি বিমান বাহিনী সেই ইউনিটগুলোকে লক্ষ্য করতে পারে।
তবে এ পরিকল্পনা নিয়েও সংশয় রয়েছে। পরিকল্পনার সঙ্গে পরিচিত কয়েকজন সতর্ক করে বলেছেন, কোনো কুর্দি বাহিনীর পক্ষেই ইরানের সরকারকে উৎখাত করা সম্ভব নয়। এমনকি ভবিষ্যতে কে ক্ষমতায় আসবে, তার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলাও কঠিন। কারণ কুর্দি বাহিনীগুলোর কাছে ট্যাংক বা ভারী অস্ত্র নেই। সিআইএ কেবল ছোট অস্ত্র দিয়েছে, যা দিয়ে বড় আকারের সামরিক অভিযান চালানো সম্ভব নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কুর্দি মিলিশিয়াদের কাজ করার ইতিহাস দীর্ঘদিনের। ইরাক ও সিরিয়ায় বহু বছর ধরে তাদের সঙ্গে কাজ করেছে ওয়াশিংটন। তবে একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কুর্দিদের পরিত্যাগ করার অভিযোগও আছে।
কুর্দিরা একটি জাতিগোষ্ঠী, যারা তুরস্ক, সিরিয়া, ইরাক ও ইরানের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে আছে। ইরানে তাদের সংখ্যা প্রায় ৬০ লাখ থেকে ৯০ লাখ বলে ধারণা করা হয়, যেখানে দেশের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৯ কোটি।
এদিকে ইরান ইরাক সরকারের ওপর চাপ বাড়িয়েছে, যাতে কুর্দি যোদ্ধারা সীমান্ত পার হতে না পারে। ইরাকি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকার কুর্দিস্তান অঞ্চলের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে—ইরানি কুর্দি যোদ্ধাদের সীমান্ত অতিক্রম করতে দেওয়া যাবে না।
মঙ্গলবার ইরাকি কুর্দিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী কুবাদ তালাবানি এক বিবৃতিতে বলেন, তাদের অঞ্চল ‘আঞ্চলিক সংঘাতের অংশ নয়’ এবং তারা নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখতে চায়।
তবু কিছু ইরানি কুর্দি নেতা জানিয়েছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করতে সতর্ক অবস্থানে আছেন। কারণ পরিকল্পনা ব্যর্থ হলে তার বড় মূল্য দিতে হতে পারে তাদের জনগণকে।
তারপরও তাদের একজন বলেছেন, ইরাকে অবস্থানরত কিছু ইরানি কুর্দি বাহিনী ইতিমধ্যে ইরানে যোদ্ধা পাঠানোর পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের আশা, বিদ্রোহ শুরু হলে স্থানীয় মানুষও এতে যোগ দেবে। তবে সেটি কতটা বাস্তবসম্মত হবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।
