Logo
Logo
×

সারাদেশ

মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নওগাঁয়, মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত জনজীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:২২ পিএম

মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নওগাঁয়, মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত জনজীবন

পৌষের তৃতীয় সপ্তাহে এসে দেশের উত্তরের জেলা নওগাঁয় শুরু হয়েছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় তীব্র শীতের দাপটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। একদিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা হঠাৎ কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিশু, বয়স্ক ও খেটে খাওয়া মানুষ।

আজ বুধবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৮টায় নওগাঁ জেলার বদলগাছী কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে, যা চলতি মৌসুমে জেলার সর্বনিম্ন। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল শতভাগ। এর আগের দিন মঙ্গলবার তাপমাত্রা ছিল ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তাপমাত্রা কমেছে ৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যার পর থেকেই ঘন কুয়াশার সঙ্গে তীব্র শীত অনুভূত হয়। রাতভর কুয়াশায় ঢেকে থাকে সড়ক ও আশপাশের এলাকা। সকালে সূর্যের দেখা মিললেও হিমেল বাতাসে স্বস্তি মিলছে না।

নওগাঁ সদর উপজেলার ডাক্তারের মোড় এলাকার বাসিন্দা আহসান হাবিব বলেন, “দিনের বেলায় রোদ থাকায় শীত কিছুটা কম লাগে। কিন্তু সন্ধ্যা নামলেই শীতের কাপড় ছাড়া বাইরে থাকা যায় না। রাতে ঘুমাতে ২-৩টা লেপ-কম্বল ব্যবহার করতে হচ্ছে।”

বরুনকান্দি এলাকার ভ্যানচালক আব্দুস সালাম বলেন, “সন্ধ্যার পর ঠান্ডা বাতাসে ভ্যান চালানো খুব কষ্টকর হয়ে যায়। কুয়াশার কারণে সকালে যাত্রীও পাওয়া যায় না। আয়-রোজগার প্রায় বন্ধের মতো।”

শীতের প্রভাবে হাসপাতালগুলোতেও রোগীর চাপ বেড়েছে। নওগাঁ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আবু জার গাফফার জানান,

“গত কয়েকদিনে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশু, মধ্যবয়সী ও বৃদ্ধ মিলিয়ে কয়েক শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট ও সিওপিডিতে আক্রান্ত প্রায় দুই শতাধিক রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।”

বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, “আজ সকাল ৮টায় নওগাঁ জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। তাপমাত্রা আরও কমতে পারে এবং আগামী সপ্তাহে শৈত্যপ্রবাহের তীব্রতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

শীতের প্রকোপ বাড়ায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু হয়েছে। নওগাঁ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আশেকুর রহমান জানান, প্রতিটি উপজেলায় গরিব, অসহায় ও দিনমজুরদের জন্য ৬ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলার ১১টি উপজেলায় মোট ৬৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিল, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় ও জেলা পরিষদ থেকে ৩০ হাজার ৬০০টি কম্বল বরাদ্দ পাওয়া গেছে, যা বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন