জামায়াতের হামলায় বিএনপি নেতার চোখ গুরুতর জখম, খবরে মায়ের মৃত্যু
প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:১৩ পিএম
বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় ভোটের টাকা বিতরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় জামায়াত কর্মীদের হামলায় থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা ওরফে মজিদ গুরুতর আহত হন। হামলায় তাঁর একটি চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হয়েছে। এদিকে ছেলের ওপর হামলার খবর শুনে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মা মাজেদা বেগম মৃত্যুবরণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল সোমবার রাত ১১টার দিকে নন্দীগ্রাম উপজেলার থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়নের পারশন গ্রামে এ সংঘর্ষ ও মর্মান্তিক ঘটনার সূত্রপাত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট কেনাবেচার অভিযোগে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের স্থানীয় ৪ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি বেলাল হোসেন এবং জামায়াত কর্মী ফারুক হোসেনকে আটক করেন ধানের শীষের সমর্থকেরা। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে নগদ টাকা উদ্ধার করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
পরবর্তীতে আটক দুজনকে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানার পারশন গ্রামের বাড়িতে রাখা হয় এবং পুলিশে খবর দেওয়া হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত ১২টার দিকে অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে লাঠিসোঁটা হাতে জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা মাসুদ রানার বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
হামলাকারীরা বাড়িঘর ভাঙচুর করে এবং আশপাশের আরও কয়েকটি বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। একপর্যায়ে হামলাকারীরা আটক থাকা বেলাল ও ফারুককে উদ্ধার করে নিয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানান।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে জামায়াতে ইসলামীকে দায়ী করেন আহত বিএনপি নেতা মাসুদ রানার ছেলে, কলেজছাত্র সিয়াম আকন্দ। তিনি অভিযোগ করেন, মধ্যরাতে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা আমাদের বাড়িসহ কয়েকটি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। আমার বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যদের বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে আমার বাবার চোখে আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয়।
তিনি আরও বলেন, এই ঘটনার খবর শুনে আমার দাদী মাজেদা বেগম আতঙ্কিত হয়ে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন এবং পরে মৃত্যুবরণ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা এবং বগুড়া-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন।
মোশারফ হোসেন অভিযোগ করেন, জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে পরিকল্পিত হামলা চালায় এবং নগদ টাকাসহ আটক কর্মীদের ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় মাসুদ রানাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বগুড়া–য় ভর্তি করা হয়।
তিনি আরও দাবি করেন, ছেলের চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর শুনে তার মা মাজেদা বেগম হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
