সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার কাইল্যানীতে বাঁধের ওপর দিয়ে পানি উপচে পড়া শুরু হয়েছে। শুক্রবার (১ মে) ভোর থেকে উপচে পড়া পানির প্রবল চাপে ধীরে ধীরে বাঁধের কিছু অংশ ভেঙে যেতে শুরু করায় শালদিঘা হাওরে পানি প্রবেশ করছে। এতে হাজারো কৃষক চরম দুশ্চিন্তা ও ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাইল্যানী উপপ্রকল্পের ২০ নম্বর পিআইসির (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
শালদিঘা হাওরের কৃষক নিরঞ্জন সরকার বলেন, ‘হাওরের অর্ধেকের বেশি জমির ধান এখনও কাটা হয়নি। যদি বাঁধটি আটকানো না যায়, তাহলে আমরা নিঃস্ব হয়ে যাব।’
একই এলাকার কৃষক রনি তালুকদার বলেন, ‘টানা বৃষ্টির কারণে ধান কাটতে পারছি না, কাটলেও শুকাতে পারছি না। এর মধ্যে আবার বাঁধ রক্ষার কাজ করতে হচ্ছে। আমরা এখন চরম বিপদে আছি।’
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, শালদিঘা হাওরে প্রায় ৩০০ হেক্টর জমি রয়েছে। এর মধ্যে ৩০ হেক্টর জমির ধান পাকার আগেই জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত মাত্র ১৬০ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে।
উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ‘পাউবোর এসও ও পিআইসি সভাপতির যোগসাজশে বাঁধে দুর্নীতি হয়েছে। বাঁধের উচ্চতা কম হয়েছে, স্লোপ কম ছিল। এ কারণে হাওরের সর্বনাশ ঘটেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই বাঁধের অন্য অংশের চেয়ে এই অংশ নিচু হয়েছে। এ কারণে সোমেশ্বরী নদীর পানি বাড়তেই এদিক দিয়ে পানি উপচে পড়ছে। একপর্যায়ে বাঁধটি ভেঙে গেছে।’
মধ্যনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল বাশার বলেন, ‘সকালে বাঁধ ভাঙনের খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে ৩০-৩৫ জন শ্রমিককে কাজে লাগিয়েছি। স্থানীয় কৃষকরাও চেষ্টা করছেন। পিআইসির সভাপতি লাল মিয়াকে কমপক্ষে ১০০টি ফোন দেওয়ার পরে রিসিভ করে বলেন, সাড়ে ৯টায় আসবেন। কিন্তু বিকেল ৪টা পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ নেই।’
পিআইসির সভাপতি মো. লাল মিয়া বলেন, ‘টানা বৃষ্টির কারণে মাটি ক্ষয় হয়ে বাঁধটি নিচু হয়ে যায়। বাঁধ রক্ষার জন্য সারা রাত ঘটনাস্থলে ছিলাম। সকাল থেকে অন্য পাশে কাজ করতে হচ্ছে। এজন্য সেখানে যেতে পারিনি।’
উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কবির হোসেন ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কৃষকদের একমাত্র আশা— প্রশাসন ও স্থানীয়রা মিলে যেন বাঁধটি পুরোপুরি রক্ষা করতে পারেন। অন্যথায় শালদিঘা হাওরের ব্যাপক ধান নষ্ট হয়ে চরম বিপর্যয় নেমে আসবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় ঘোষ বলেন, ‘বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশের খবর পাওয়ার সঙ্গেই ঘটনাস্থলে যাই। বাঁধ রক্ষায় ভোর থেকেই কাজ করছি। আশা করছি, বাঁধটি পুরোপুরি রক্ষা করা সম্ভব হবে।’
