Logo
Logo
×

অর্থনীতি

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ২ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

Icon

ইউএনবি

প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২৬ পিএম

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ২ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) মার্কিন ডলার তহবিল চেয়েছেন। এই অর্থ সংকট কাটিয়ে উঠতে এবং অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে সহায়তা করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আজ বুধবার সংসদ সচিবালয়ের অফিস থেকে ‘এশিয়া জিরো এমিশন কমিউনিটি (এজেক) প্লাস অনলাইন সামিটে’ দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ সহায়তা চান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বা ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদান এই সম্মেলনের সম্মিলিত আলোচ্যসূচির শীর্ষে থাকা উচিত। এই প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশ তার জরুরি জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহের চেষ্টা করছে। আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই আহ্বানে দ্রুত ও ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট বিশ্ব সম্প্রদায়ের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা এবং অভিন্ন ঝুঁকির কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। কোনো রাষ্ট্রই, তা আকারে যত বড় বা শক্তিশালীই হোক না কেন, বিচ্ছিন্নভাবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবে না। আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে, সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার বিষয়গুলো মোকাবিলা করতে এবং ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে সহায়তা করতে এশিয়ার দেশগুলোর একটি সমন্বিত ও দূরদর্শী পদক্ষেপ প্রয়োজন।

তারেক রহমান বলেন, জ্বালানি সংকট ইতোমধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এর প্রভাব নিয়ন্ত্রণে আমরা একগুচ্ছ স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থা নিয়েছি। গৃহীত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে— সরকারি অফিস ও বাজারের সময়সীমা কমানো, জরুরি আমদানি এবং উৎসের বৈচিত্র্যকরণের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা, এবং জ্বালানির মজুদ রোধে ‘ফুয়েল অ্যাপের’ মতো উদ্যোগের মাধ্যমে জ্বালানি রেশন ও খুচরা বিক্রিতে নিয়ন্ত্রণ আনা।

এই সংকটের ব্যাপকতা ও পরিণতি ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকটকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন, লাখ লাখ মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দেওয়া এবং জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে নিরলস কাজ করেছে। আজ আমাদের কষ্টার্জিত সেই অর্জনগুলো বিপন্ন এবং তা স্থবির হয়ে যাওয়ার বাস্তব হুমকির মুখে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একা এই ঝুঁকির সম্মুখীন নয় এবং কোনো দেশের একার পক্ষে এই পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভবও নয়। তিনি বলেন, এই মুহূর্তটি চলমান জ্বালানি সংকটের প্রভাব নিয়ন্ত্রণে একটি চূড়ান্ত ও সমন্বিত বৈশ্বিক পদক্ষেপের দাবি রাখে; বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশসহ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে এর মারাত্মক অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব থেকে রক্ষা করতে হবে।

সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ এই সম্মেলন আয়োজনের জন্য তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে ধন্যবাদ জানান।

এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা ভার্চুয়ালি এই সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন।

ভারত, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, তিমুর-লেস্তে, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ব্রুনাই, কম্বোডিয়া এবং ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও প্রতিনিধিরা এই অনলাইন সম্মেলনে অংশ নেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রতিনিধিরাও সম্মেলনে যোগ দেন।

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন