Logo
Logo
×

অনুসন্ধান

হাসিনাকে ফেরানোর লবিংয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের সদস্যরা, অর্থ জোগাচ্ছে এস আলম গ্রুপ

জুলকারনাইন সায়ের

জুলকারনাইন সায়ের

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৩:০৮ পিএম

হাসিনাকে ফেরানোর লবিংয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের সদস্যরা, অর্থ জোগাচ্ছে এস আলম গ্রুপ

ছবি: বাংলা আউটলুক গ্রাফিক্স

গত ২৭ আগস্ট বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে চাঞ্চল্যকর এক অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে নির্বাচন চায় না এমন ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলম দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা দিয়েছে। 

মির্জা ফখরুল একটি পত্রিকার প্রতিবেদনকে উদ্ধৃত করেন। যদিও এখনো কোনো প্রকাশ্য দলিল বা সরকারি পক্ষ ওই লেনদেনের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

বাংলাদেশে ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপ বহুল আলোচিত। এদের বিরুদ্ধে বৃহৎ পরিসরে অর্থ কেলেঙ্কারি, বিদেশে টাকা পাচার এবং চুক্তি প্রভাবিত করার অভিযোগ রয়েছে। তবে নির্বাচনে হস্তক্ষেপের ব্যাপারে মির্জা ফখরুলের এই অভিযোগ প্রথমবারের মতো সরাসরি অর্থের যোগসূত্রকে সামনে নিয়ে এসেছে। 

বিদেশি গণমাধ্যম, বিশেষত ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্রুত খবরটি লুফে নেয়। তবে তাদের প্রকাশিত সংবাদে তারা স্পষ্ট করে জানায়, অভিযোগ গুরুতর হলেও এখনো পর্যন্ত এস আলমের ওই ধরনের অর্থ প্রদানের কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি সংস্থার গোয়েন্দা নথিতে বাংলাদেশের সাবেক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত সাম্প্রতিক অনিবন্ধিত লবিং প্রচেষ্টার বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এসব প্রচেষ্টায় গোপন বৈঠক, চুক্তি, আর্থিক লেনদেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নীতিকে প্রভাবিত করার প্রতিশ্রুতির মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গোয়েন্দা নথির একটি কপি বাংলা আউটলুকের হাতে এসেছে। 

নথি অনুযায়ী, এই লবিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে একটি সংঘবদ্ধ দল। এই দলে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য, শেখ হাসিনা নিজে এবং তার ঘনিষ্ঠ প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা রয়েছেন। তাদের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক পরিসরে হাসিনার ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার, তার ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বা সম্পদ জব্দের বিষয়গুলো দুর্বল করা, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ‘ইসলামী মৌলবাদী’ হিসেবে উপস্থাপন করা। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের বর্তমান সরকারকে সম্ভাব্য উৎখাতের প্রচেষ্টাও এই তৎপরায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। 

নথিতে দুইজন লবিস্টের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই কাজ এগিয়ে নিতে তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই দুইজন হলেন—মাল্টার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জোসেফ মুসকাট এবং ব্রিটিশ-বসনিয়ান ফিক্সার দামির ফাজলিচ।

নথিতে অভিযোগ করা হয়েছে, এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মাল্টা, দুবাই ও লন্ডনে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। এসব বৈঠকে ভারতীয় গোয়েন্দা সদস্য, শেখ হাসিনার দূত এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ আছে এমন আইনজীবী/রাজনৈতিক ব্যক্তিরা অংশ নেন। 

নথিতে বলা হয়েছে, সাবেক বাংলাদেশি কর্মকর্তা, ভারতীয় গোয়েন্দা সদস্য এবং প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা শুধু শেখ হাসিনার রাজনৈতিক পুনর্বাসনের জন্যই লবিং করছেন না, তারা প্রমাণ তৈরিরও চেষ্টা করছেন।

তারা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে ইরান সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ দাঁড় করানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ড. ইউনূসের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করে একটি অভ্যুত্থানের কূটনৈতিক ভিত্তি গড়া এবং হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন ঘটানো। 

বাংলা আউটলুক এসব অভিযোগ স্বতসন্ত্রভাবে যাচাই করতে পারেনি। তবে মার্কিন আরেকটি সংস্থার সূত্র নিশ্চিত করেছে, নথিতে উল্লেখিত দুই লবিস্ট—মুসকাট ও ফাজলিচ একাধিক সন্দেহজনক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত।


মাল্টার সাবেক প্রধানমন্ত্রীর যোগসূত্র

জোসেফ মুসকাট ২০১৩ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মাল্টার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। পরে সাংবাদিক ড্যাফনি কারুয়ানা গালিজিয়া হত্যাকাণ্ড কেলেঙ্কারির জেরে তিনি পদত্যাগ করেন। ০১৭ সালে গাড়ি বোমা হামলায় হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার আগে অনুসন্ধানী সাংবাদিক ড্যাফনি  প্রধানমন্ত্রী মুসকাট প্রশাসনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে প্রতিবেদন করেছিলেন। 

২০২৪ সালের মে মাসে মুসকাট ও তার কয়েক সাবেক মন্ত্রীকে ঘুষ, অর্থ পাচার এবং বিতর্কিত হাসপাতাল ছাড় চুক্তির সঙ্গে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। হাসপাতাল ছাড়ের চুক্তি কেলেঙ্কারির ঘটনা মাল্টার রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে আরও ক্ষুণ্ন করে এবং ইউরোপের সবচেয়ে কলঙ্কিত নেতাদের একজন হিসেবে মুসকাটের কুখ্যাতি আরও জোরালো করে। 

মাল্টার অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম দ্য শিফটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মুসকাটের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ইয়োরগেন ফেনেক বর্তমানে সাংবাদিক ড্যাফনির হত্যা মামলায় অভিযুক্ত। ২০১৫ সালেই তিনি বাংলাদেশের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেনেক নেদারল্যান্ডসের জ্বালানি পরামর্শক রয়াল প্রতিষ্ঠান হাসকনিং ডিএইচভি-কে (আরএইচডিভিএইচ) ২ লাখ ৯৩ হাজার ডলার প্রদান করেন। নথি ও সোর্সগুলো বিশ্লেষণে ফেনেক ও সালমান এফ রহমানের বেক্সিমকোর আরএইচডিএইচভি-তে যৌথভাবে যুক্ত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তাদের পরিকল্পনা ছিল, কক্সবাজারের কতুবদিয়ায় একটি ‘এনার্জি হাব’ করা। এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল বেক্সিমকোর মূল ব্যবসার সঙ্গে সংযুক্ত একটি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস সুবিধা এবং মাল্টার নিজস্ব মডেলের একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) প্ল্যান্ট স্থাপন করা।

দ্য শিফটের হাতে আসা ফাঁস হওয়া ইমেলগুলিতে দেখা যায়, ফেনেক বাংলাদেশে এলএনজির এই প্রকল্প নিয়ে আরএইচডিএইচভি পরামর্শক ও সালমান এফ রহমানসহ বেক্সিমকোর নির্বাহীদের সঙ্গে ঢাকা, দুবাইয়ে বৈঠক করেছেন।

ধারণা করা হচ্ছে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে সালমান এফ রহমানের অবাধ প্রবেশাধিকার এ ব্যাপারে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। অনুসন্ধানে উল্লেখ করা হয়েছে, ফেনেক এই প্রকল্পে ৩০ শতাংশ অংশীদারিত্ব দাবি করেছিলেন। তবে তিনি অংশীদারিত্বে কী অবদান রেখেছিলেন তা স্পষ্ট নয়।

তবে প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যায়। তীব্র জোয়ার এবং অস্থিতিশীল সমুদ্রতলের কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল ও গ্যাস কর্পোরেশন পেট্রোবাংলা ভাসমান এলএনজি ট্যাঙ্কার তৈরির ধারণা বাদ দিয়ে স্থলভিত্তিক সমাধান বেছে নেয়।

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে ফেনেকের দুবাই-ভিত্তিক সংস্থাগুলি থেকে আরএইচডিএইচভিতে অর্থপ্রদান হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। দ্য শিফট তাদের প্রতিবেদন প্রকাশের ছয় মাস পর সালমান এফ রহমানের অফিস এই ব্যাপারে একটি বিবৃতি দেয়। বিবৃতিতে ওই প্রকল্পে সালমান এফ রহমানের ভূমিকা ভুলভাবে উপস্থান করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।  

বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে আগ্রহী ছিলেন বলে ইয়োরগেন ফেনেকের সঙ্গে মি. রহমানকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। তিনি জানতে পারেন মাল্টায়ও একই রকম একটি প্রকল্প চলছে এবং মি. ফেনেককে ওই সূত্রেই তার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। মাল্টার ওই প্রকল্পটি সিমেন্স এবং সোকারের সঙ্গে ফেনেক নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। প্রতিবেদনটিতে ফেনেকের সঙ্গে মি. রহমানের সংক্ষিপ্ত আলাপ-পরিচয়কে ভুলভাবে উপস্থান করা হয়েছে।

বাংলা আউটলুক একাধিক সূত্র থেকে নিশ্চিত করেছে, মুসকাট ফরাসি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং এখন তাদের স্বার্থ এগিয়ে নিতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।

বলকান ফিক্সার

দামির ফাজলিচ তার জায়গায় অন্যদের তুলনায় তুলনামূলকভাবে অস্পষ্ট ব্যক্তিত্ব হিসেবে রয়ে গেছেন। তবে তার কাজ কর্মের খতিয়ান বেশ স্পষ্ট। বসনিয়ান বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এই ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে বলকান অঞ্চলসহ এর বাইরেও রাজনীতি, জ্বালানি ও গণমাধ্যমের অস্পষ্ট অঙ্গনে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।

 

তার নেটওয়ার্ক ওয়াশিংটন পর্যন্ত বিস্তৃত। ফাজলিচ জন এফ কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টসের বোর্ডে আছেন এবং রিপাবলিকান তহবিল সংগ্রহকারী মহলে তাকে একজন বিচক্ষণ ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’-এর সমর্থক শীর্ষস্থানীয় দাতাদের কাছেও তার প্রবেশাধিকার রয়েছে। তার স্ত্রী অ্যামরা ফাজলিচ মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত।

ফাজলিচের ক্যারিয়ারে তেল খাতে আর্থিক অসদাচরণ এবং অস্বচ্ছ উদ্যোগের অভিযোগে বার বার তদন্তের মুখোমুখি হয়েছে। ফলে তার সম্পদের উৎস এবং তার প্রভাব সত্যিই কতটুকু তা ক্রমাগত প্রশ্ন উঠেছে। 

বলকান ইনসাইট প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বসনিয়া এবং আলবেনিয়ার প্রসিকিউটররা বিভিন্ন সময়ে তার কর্পোরেট লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহভাজন জালিয়াতি এবং কর ফাঁকির তদন্ত শুরু করেছিলেন। যদিও প্রমাণের অভাবে মামলাগুলি বাধাগ্রস্ত হয় এবং বেশিরভাগ সময়ই অভিযোগ ছাড়াই শেষ হয়।

একই সংবাদমাধ্যমে বিতর্কিত ভূমি অধিগ্রহণে, বিশেষ করে আলবেনিয়ার ডুরেসের কাছে পোর্তো রোমানোতে উপকূলীয় জমি অধিগ্রহণে তার ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দেশটির প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী সালি বেরিশার ঘনিষ্ঠদের এই চুক্তিগুলি অগ্রাধিকার পাওয়া এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের কারণে সন্দেহকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

বাংলা আউটলুক ফাজলিচের সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি সংযোগের কোনো প্রমাণ না পেলেও, সোশ্যাল সায়েন্স রিসার্চ নেটওয়ার্কের (এসএসআরএন) একটি গবেষণায় নথিভুক্ত অপরাধী জিউসেপ্পে সিমোনেলি ওরফে এল পাকোর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

২০১০ সালের আগস্টে আলবেনিয়ার বন্দর শহর ভ্লোরেতে সিমোনেলির চক্রের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন ডু টোরে’ শীর্ষক একটি অভিযান চালানো হয়। ইতালীয় পুলিশের সমন্বিত ওই অভিযানের সময় সিমোনেলি গ্রেপ্তার হন। ওই সময় আলবেনিয়ায় ১৫জন গ্যাং সদস্যকে আটক করা হয়েছিল। অন্যদের ইতালি, স্পেন, অস্ট্রিয়া এবং বাংলাদেশ থেকেও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।


অগ্রিম অর্থ পরিশোধ

মার্কিন সংস্থার ওই গোয়েন্দা নথিতে দাবি করা হয়েছে, শেখ হাসিনার ক্ষমতায় ফেরানোর প্রচেষ্টা ইতোমধ্যেই আলোচনার টেবিল থেকে অর্থনৈতিক লেনদেনে গড়িয়েছে। 

ওই নথি অনুযায়ী, তাদের মধ্যে এক বছরের জন্য ২০ লাখ ডলারের চুক্তি হয়েছে। ‍চুক্তিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার উৎখাতের শর্তে অতিরিক্ত দুই কোটি ডলারের ‘সাকসেস ফি’ নির্ধারণ করা হয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন অফশোর অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ইতোমধ্যে অন্তত ৬ লাখ ডলার অগ্রিম দেওয়া হয়েছে। 

নথিতে আরও বলা হয়েছে, ২০ লাখ ডলার প্রদানের পাশাপাশি চুক্তিতে বিদেশে জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি এবং লাভজনক ব্যবসায়িক সুযোগের প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা খাতে—কারণ এটি এমন একটি খাত যেখানে প্রায়শই অস্বচ্ছ চুক্তি এবং বড় ধরনের মুনাফা পাওয়া যায়। 

নথিতে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান এম সাইফুল আলমের নামও উল্লেখ রয়েছে। শুধু তাই নয়, নথিতে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা পরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সহযোগিতায় দেশের ব্যাংকিং খাত থেকে এম সাইফুল আলম প্রায় ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচারে জড়িত ছিলেন। 

গোয়েন্দা নথিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত স্বার্থে পরিচালিত এ ধরনের ব্যক্তিদের ক্ষমতায়ন আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও ক্ষমতার ভারসাম্যের জন্য বড় ঝুঁকি। 

নথিতে আরও বলা হয়, ফৌজদারি অপরাধের তদন্ত চলা ব্যক্তিদের ব্যবসার সুযোগ দিলে অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতাকে আরও বাড়িয়ে তোলে, বাজারের স্বচ্ছতা নষ্ট করে এবং নাগরিক অস্থিরতাকে উসকে দেয়। এর সঙ্গে অভ্যুত্থান যুক্ত হলে এটি আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করবে যার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পার্শ্ববর্তী দেশ ও মিত্র রাষ্ট্রগুলোর ওপরও পড়বে।

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন