Logo
Logo
×

অনুসন্ধান

ওসমান হাদি হত্যা তদন্তে তাড়াহুড়ো, তথ্য গোপন ও সমন্বয়ের ঘাটতি

মুক্তাদির রশীদ

মুক্তাদির রশীদ

প্রকাশ: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:১১ এএম

ওসমান হাদি হত্যা তদন্তে তাড়াহুড়ো, তথ্য গোপন ও সমন্বয়ের ঘাটতি

শরিফ ওসমান হাদি। ছবি: সংগৃহীত

তিন সপ্তাহ পার হলেও চাঞ্চল্যকর ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্তে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এখনো ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ চিত্র দাঁড় করাতে পারেনি। হত্যাকারীদের অবস্থান ও পালানোর পথ শনাক্তে চেষ্টা চললে, ঘটনার সময়কার সম্পূর্ণ তথ্য সংগ্রহ ব্যর্থ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

তবু পূর্ণাঙ্গ যাচাই-বাছাই শেষ হওয়ার আগেই ৭ জানুয়ারির মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের ঘোষণা দিয়েছে পুলিশ—এতে তদন্তের স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। 

সরকারি চাপ—তদন্তে ‘তড়িঘড়ি’র অভিযোগ

রবিবার (২৯ ডিসেম্বর) বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখ সারির যোদ্ধা ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচার সম্পন্ন করা হবে হলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্তত পাঁচজন কর্মকর্তা বাংলা আউটলুককে জানান, ‘তড়িঘড়ি’ করে তদন্ত শেষ করার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে চাপ রয়েছে। এই চাপের কারণে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য খুঁজে দেখা হয়নি, এমনকি প্রত্যক্ষদর্শীদের বেশ কয়েকজনের বয়ানও নেওয়া হয়নি বলে তারা স্বীকার করেছেন।

পরিকল্পনা এখনো অজানা

সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ (দাউদ/রাহুল) ও তার সহযোগী আলমগীর শেখ কিভাবে পালিয়েছে—এ বিষয়ে পুলিশের কাছে তথ্য আছে। কিন্তু হত্যার পরিকল্পনা কোথায়, কীভাবে এবং কারা করেছে—এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তারা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি।

সংবাদ সম্মেলনে মোবাইল প্রসঙ্গে বিভ্রান্তি

রবিবার ডিএমপির সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ওসমান হাদির মোবাইল ফোন পুলিশের কাছে রয়েছে। কিন্তু পরে অনুসন্ধানে জানা যায়—ওসমান হাদির ফোন ফরেনসিক পরীক্ষাতেও যায়নি। ফলে হত্যার আগে তাকে কেউ হুমকি দিয়েছিল কি না—তা যাচাই সম্ভব হয়নি।

ডিবির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ফরেনসিক ছাড়া ফোন থেকে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সূত্র বের করা যায় না। অথচ এখনো আমরা সেটি পাইনি।’

সহযোগিতা প্রয়োজন ইনকিলাব মঞ্চ থেকেও

তদন্ত কর্মকর্তাদের দাবি—ইনকিলাব মঞ্চের কয়েকজন নেতার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না।

 এক কর্মকর্তা বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য হাদির ঘনিষ্ঠ মেজবাহ এর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা দরকার ছিল। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি।’

এই ব্যাপারে বক্তব্য জানতে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা আব্দুল্লাহ আল জাবেরের মোবাইলে বেশ কয়েকবার ফোন দিয়েও পাওয়া যায়নি। খুদে বার্তারও কোনো  কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ হয়নি

ওসমান হাদিকে হত্যার আগে ও পরে ফয়সালের সঙ্গে যাদের যোগাযোগ ছিল, তাদের নাম-নম্বর পুলিশের হাতে থাকলেও অনেককেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। শুধু রিকশাচালকের জবানবন্দির ওপরই তদন্তের বড় অংশ নির্ভর করছে। ‘

পালানোর রুটেই বেশি মনোযোগ

ডিএমপির এক কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন, ‘আমাদের কনসেন্ট্রেশন বেশি ছিল পলায়নের রুট নিয়ে। ঘটনার আগে কী ঘটেছে—তা পুরোপুরি যাচাই করা হয়নি।’

তদন্তকারীদের অভিযোগ—ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেনামি ‘বট আইডি’ থেকে গুজব ছড়ানোতে মামলার অগ্রগতি ব্যাহত হয়েছে।

মোটরসাইকেলের মালিক শনাক্তে ব্যর্থতা

হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি কয়েক হাত ঘুরে যার কাছে গিয়েছিল, সেই মাইনুদ্দিন শুভকে আটক করা যায়নি। ফলে মোটরসাইকেলটি শেষ পর্যন্ত কে দিয়েছিল—তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

কথা বলতে চায়নি ডিবি

তদন্তের দুর্বলতা নিয়ে ডিবির যুগ্ম কমিশনার নাসিরুল ইসলামের সঙ্গে কয়েক দফায় বাংলা আউটলুক কথা বলতে চাইলেও তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

পুলিশের দাবি তদন্ত ‘শেষ পর্যায়ে’

ডিএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে—অস্ত্রের জোগান, পরিকল্পনা, গুলি লুকানো এবং পলায়নে সহায়তার অভিযোগে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে দুটি বিদেশি পিস্তল, গুলি, মোটরসাইকেল, অটোরিকশা এবং বেশ কিছু আলামত।

পুলিশের দাবি, ‘ঘটনার দিনই শ্যুটার ফয়সাল ও আলমগীরকে শনাক্ত করা হয় এবং তাদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালানো হয়েছে।’

এছাড়া কয়েকজন অভিযুক্ত আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলেও জানানো হয়।

Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন