Logo
Logo
×

সংবাদ

রাকসু ভোটে ‘অস্ত্র বিলি’র অভিযোগে উত্তেজনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৫, ০২:০২ পিএম

রাকসু ভোটে ‘অস্ত্র বিলি’র অভিযোগে উত্তেজনা

তিন দশকেরও বেশি সময় পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন। এই ঐতিহাসিক দিনে একদিকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ, অন্যদিকে নির্বাচনী উত্তাপের কেন্দ্রে উঠে এসেছে ‘অস্ত্র বিলি’র অভিযোগ।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের বিপরীতে একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী। নিজের ব্যক্তিগত ফেইসবুক প্রোফাইলে তিনি লেখেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেটের বিপরীতে প্রকাশ্যে নিজেদের মধ্যে অস্ত্র বিলি করছে জামায়াত শিবিরের লোকজন।’

এই বিষয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানতে চাইলে রাহী বলেন, ভোটগ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন।

অপরদিকে অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে শিবির। শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, ‘নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করার জন্য এমন গুজব ছড়ানো হচ্ছে। যে ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে, সেখানে কিছুই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে না। এটি একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপচেষ্টা।’

তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ‘ছাত্রদল ভয়ভীতি সৃষ্টি করে ভোটার উপস্থিতি কমাতে চাইছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও রাজশাহী মহানগর পুলিশের উপকমিশনার গাজিউর রহমান জানিয়েছেন, ভিডিওটি তাদের নজরে এসেছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দারা ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করেছেন। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ভিডিওটিকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট’ বলে উল্লেখ করেছে।

এদিকে, একদিকে যখন ‘অস্ত্র বিলি’র অভিযোগ ঘিরে চলছে বিতর্ক, অন্যদিকে সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া ভোটে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ধীরে ধীরে বাড়ছে। রাকসু কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেতাউর রহমান জানিয়েছেন, প্রথম তিন ঘণ্টায় ভোট পড়েছে ২৫ শতাংশ।

ভোটের পরিবেশ নিয়ে নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক পারভেজ আজহারুল হক বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে চলছে, কোথাও কোনো বড় সমস্যা হয়নি।’

এমন অবস্থায় রাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে মোতায়েন রয়েছে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মাঠে আছে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি। ক্যাম্পাসের ভেতরের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের আড্ডার জায়গাগুলোও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

নির্বাচন নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ বলছেন ‘কালি মুছে যাচ্ছে’, কেউ আবার ‘ডাবল ব্যালট’ পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। এসব ঘটনার মধ্যেও কেউ কেউ জীবনের প্রথম ভোট দেওয়ার আনন্দে আপ্লুত।

সমাজকর্ম বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আবু হেনা শাকিল বলেন, ‘রাকসুতেই জীবনের প্রথম ভোট দিলাম, এটা অন্য রকম আনন্দ।’ একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন গণযোগাযোগ বিভাগের জাকিয়া সুলতানা জ্যোতি, যিনি বলেন, ‘আমি ইতিহাসের অংশ হতে পেরে গর্বিত।’

ভোটের সংখ্যা, বুথ, ও পদসংখ্যার দিক থেকেও এবারকার রাকসু নির্বাচন অনেক বড় পরিসরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মোট ভোটার ২৮ হাজার ৯০১ জন। শুধু কেন্দ্রীয় সংসদেই রয়েছে ২৩টি পদ, যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৪৭ জন প্রার্থী।

সন্ধ্যা গড়ালেই শুরু হবে ভোট গণনার পর্ব। ১০০টি করে ব্যালট বান্ডেল করে তা ওএমআর মেশিনে গণনা করা হবে। তিন ধাপে ফল প্রস্তুত হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মোস্তফা কামাল আকন্দ। সব ফল ঘোষণা হতে সময় লাগতে পারে ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা।


Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন