Logo
Logo
×

অভিমত

রয়টার্সের প্রতিবেদন

তারেক রহমান: নির্বাসন থেকে ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে

Icon

কৃষ্ণ এন. দাস ও রুমা পাল

প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম

তারেক রহমান: নির্বাসন থেকে ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে

প্রায় দুই দশক লন্ডনে স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকার পর দেশে ফিরেছেন তারেক রহমান। ফিরে আসার দুই মাসও পেরোয়নি। এর মধ্যেই তিনি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে জয় পেতে যাচ্ছেন। জিতলে তিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন। বাবা-মায়ের মতো তিনিও দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেবেন।

জনমত জরিপ ঠিক থাকলে বৃহস্পতিবারের নির্বাচন তার জন্য বড় এক পালাবদল হয়ে উঠবে। ৬০ বছর বয়সী এই নরমস্বভাবের নেতা ২০০৮ সালে দেশ ছেড়েছিলেন। তখন সামরিক সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে তাকে আটক করা হয়। মুক্তির পর তিনি বলেছিলেন, চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে যেতে হবে।

গত ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে ফেরেন। তাকে বীরের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। 

২০২৪ সালের আগস্টে তরুণদের নেতৃত্বে হওয়া এক আন্দোলনে তার দল বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন। শেখ হাসিনা এখন নয়াদিল্লিতে নির্বাসনে আছেন। বহু বছর ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করেছেন তিনি।

তারেকের বাবা জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক। তিনি ১৯৭৭ সাল থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত দেশ শাসন করেন। পরে তাকে হত্যা করা হয়।

তারেক রহমান বলেছেন, তিনি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নতুনভাবে সাজাতে চান। তার লক্ষ্য হবে বিনিয়োগ আনা, তবে কোনো একক শক্তির সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠ না হওয়া। 

তিনি দরিদ্র পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর কথাও বলেছেন। তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে খেলনা ও চামড়াজাত পণ্যের মতো শিল্প খাত বাড়াতে চান। পাশাপাশি তিনি প্রস্তাব করেছেন, প্রধানমন্ত্রী পদে দুই মেয়াদে সর্বোচ্চ ১০ বছর সীমা নির্ধারণ করা হোক, যাতে স্বৈরাচারী প্রবণতা রোধ করা যায়।

ঢাকায় কার্ডিওলজিস্ট স্ত্রী ও ব্যারিস্টার মেয়েকে নিয়ে ফেরার পর থেকে ঘটনাপ্রবাহ এত দ্রুত বদলেছে যে, তিনি নিজেই বলেছেন, ভাবার সময় পাননি। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারের এক ফাঁকে, দলীয় কার্যালয়ে বসে তিনি বলেন, ‘ঢাকায় নামার পর থেকে প্রতিটি মিনিট কীভাবে কেটেছে, আমি জানি না।’ পাশে ছিলেন তার মেয়ে জাইমা, যিনি বাবার পক্ষে সমর্থন জোগাড়ে কাজ করছেন।

১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর ঢাকায় তারেকের জন্ম। 

তিনি বলেন, ‘প্রতিশোধ কারও জন্য কী বয়ে আনে? প্রতিশোধের কারণে মানুষকে দেশ ছাড়তে হয়। এতে ভালো কিছু আসে না। এখন দেশের প্রয়োজন শান্তি ও স্থিতিশীলতা।’

শেখ হাসিনার শাসনামলে তার বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির মামলা হয়। কয়েকটিতে অনুপস্থিত অবস্থায় তাকে দণ্ডিত করা হয়। ২০১৮ সালে ২০০৪ সালের একটি গ্রেনেড হামলার ঘটনায় তাকে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয়।

ওই হামলায় বহু মানুষ নিহত ও আহত হন। তিনি সব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। শেখ হাসিনার পতনের পর তিনি সব মামলায় খালাস পেয়েছেন।

লন্ডনে বসে তিনি দেখেছেন, একের পর এক নির্বাচনে তার দল কোণঠাসা হয়েছে। জ্যেষ্ঠ নেতারা কারাগারে গেছেন, কর্মীরা নিখোঁজ হয়েছেন, দলীয় কার্যালয় বন্ধ হয়েছে।

কিন্তু তারেক সংযত ভাষা ব্যবহার করছেন। উসকানিমূলক বক্তব্য এড়িয়ে চলছেন। তিনি ‘রাষ্ট্রে মানুষের মালিকানা’ ফিরিয়ে আনার কথা বলছেন এবং প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এতে বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। 

বিএনপির ভেতরে তার প্রভাব দৃঢ়। দলীয় সূত্র বলছে, প্রার্থী বাছাই, কৌশল নির্ধারণ ও জোট আলোচনা তিনি নিজেই তদারক করেছেন। আগে এসব কাজ তিনি দূর থেকে করতেন।

বংশানুক্রমিক রাজনীতির অংশ হলেও তারেক রহমান বলছেন, তার সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও তা টিকিয়ে রাখা।

তার ভাষায়, ‘গণতন্ত্র চর্চা করলেই আমরা সমৃদ্ধ হতে পারব এবং দেশকে গড়ে তুলতে পারব। গণতন্ত্র চর্চা করলে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। তাই আমরা গণতন্ত্র চর্চা করতে চাই, আমরা আমাদের দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই।’


Logo

ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন