চলচ্চিত্র তারকা ডন গ্রেপ্তারের দাবিতে এআই ভিডিও প্রচার
রিউমর স্ক্যানার
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৫, ০৪:০৮ পিএম
বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তী নায়ক সালমান শাহের মৃত্যুর ২৯ বছর পর গত ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় ১১ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেছেন তার মামা আলমগীর হোসেন। এজাহারে আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হককে। এ ছাড়া আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুসি, চলচ্চিত্রের খলনায়ক ডনসহ আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে, চলচ্চিত্র তারকা ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। ভিডিওতে দাবি করা হয়, দেশ ছেড়ে পালাতে গিয়ে বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার হয়েছেন ডন। একই সঙ্গে দাবি করা হয়, সামিরাও গ্রেপ্তার হয়েছেন।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি আসল নয়। প্রকৃতপক্ষে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া এই ভিডিও তৈরি করা হয়েছে। তাছাড়া, ডন এবং সামিরা গ্রেপ্তার হওয়ার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে গণমাধ্যম বা বিশ্বস্ত সূত্রে আলোচিত দাবিটির বিষয়ে কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। জাতীয় দৈনিক সমকালকে গত ২৫ অক্টোবর দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রমনা থানার ওসি গোলাম ফারুক জানিয়েছেন, গুরুত্ব সহকারে মামলার তদন্ত চলছে। তবে এখনও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। আসামিদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
রমনা থানার ওসি আরও বলেন, মামলার তদন্তে কোনো ধরনের চাপ নেই। শিগগির আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
অর্থাৎ, ডন গ্রেপ্তার হওয়ার দাবিটি সঠিক নয়।
পরবর্তীতে প্রচারিত ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করলে এর পারিপার্শ্বিক উপাদানেও খানিকটা অস্বাভাবিকতা পরিলক্ষিত হয়, যা সাধারণত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি কনটেন্টে পরিলক্ষিত হয়।
ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় নির্মিত কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি কনটেন্ট শনাক্তকারী টুল ‘ডিপফেক-ও-মিটার’ এর ‘AVSRDD (2025)’ মডেলের মাধ্যমে ভিডিওটি পরীক্ষা করে রিউমর স্ক্যানার। মডেলটির বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ১০০ শতাংশ।
তাছাড়া, ভিডিওটির সূত্রপাত অনুসন্ধানে দেখা যায়, Rh Juel নামের একটি টিকটক অ্যাকাউন্টে ভিডিওটি প্রথম প্রচার করা হয়। এই অ্যাকাউন্টে নিয়মিতই এমন এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে। এসব ভিডিওতে এআই লেভেল উল্লেখ না থাকায় অসংখ্য নেটিজেন ভিডিওগুলোকে সত্য হিসেবে ধরে নিয়ে বিভ্রান্ত হচ্ছেন।
সুতরাং, এআই দিয়ে তৈরি চলচ্চিত্র তারকা ডনের গ্রেফতারের দৃশ্য দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।
