নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের রাজসাক্ষী সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা: দাবি জামায়াতের
নির্বাচন নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ‘ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ যে অভিযোগ করেছিল, তার রাজসাক্ষী অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আজ বৃহস্পতিবার এ মন্তব্য করেন দলটির নায়েবে আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি যে নির্বাচন, সেটি বাহ্যিকভাবে মোটামুটি এক্সেপ্টেবল (গ্রহণযোগ্য) একটা নির্বাচন। কিন্তু সময় যেতে যেতেই সেদিন সন্ধ্যা থেকে খবর আসছিল যে নানা জায়গায় কেন্দ্র দখল হয়েছে, জাল ভোট দেওয়া হয়েছে। ব্যাপক অনিয়মের খবর আমাদের কাছে আসছিল। প্রায় ৫৩টি আসনে এমন অনিয়মের অভিযোগ জামায়াতে ইসলামী দাখিল করেছে। কিন্তু গতকাল আমরা একটা রাজসাক্ষী পেয়েছি। সেই রাজসাক্ষীর নাম হচ্ছে সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা।’
আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের আরও বলেন, ‘তিনি (রিজওয়ানা হাসান) একজন সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলে এটা প্রকাশ করেছেন। তাঁর ভাষায়, আমরা যারা তার নারীদের উপযুক্ত অধিকারকে নিশ্চিত করতে পারি নাই, তারা বিরোধী দলে থাকলেও আমরা কিন্তু তাদের মূলধারা বা প্রধান শক্তি হিসেবে আসতে দিই নাই। তাহলে বোঝা যায়, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের যে কথা আসছিল বা আসছে, সেটাকে উনি নিজেই স্বীকার করে রাজসাক্ষী হয়েছেন।’
জামায়াতের নায়েবে আমির আরও বলেন, ‘আমরা এখন তাঁর (রিজওয়ানা হাসান) কাছে, তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার এবং বর্তমান সরকারের কাছে জানতে চাই, কাদের যোগসাজশে, কীভাবে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে মূলধারা বা প্রধান দল হিসেবে মেজরিটি পেতে তারা বাধাগ্রস্ত করেছে এবং সেটা হতে দেয় নাই? এবং আমরা এটাও জানতে চাই—মাননীয় সাবেক উপদেষ্টার কাছে, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে উনার সঙ্গে আর কারা কারা জড়িত ছিল?’
সরকারের উদ্দেশে সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘আমি এই সরকারের কাছে দাবি জানাব—রিজওয়ানা হাসানকে তারা কীভাবে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনবেন এবং আওতায় এনে তার কাছ থেকে পরিষ্কার যে সিচুয়েশন তিনি তৈরি করেছিলেন সে সম্পর্কে উনারা জানবেন, আমাদের জানাবেন, দেশবাসীর কাছেও এটা পরিষ্কার করবেন।’

