পাকিস্তান বয়কট করলে ভারত খেলবে উগান্ডার বিপক্ষে: রশিদ লতিফ
বাংলাদেশের পর পাকিস্তানও যদি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট করে, তাহলে টুর্নামেন্টের মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মন্তব্য করে পাকিস্তানকে আবারও বিশ্বকাপ বয়কটের আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সাবেক অধিনায়ক রশিদ লতিফ। তাঁর মতে, পাকিস্তান না খেললে বিশ্বকাপ কার্যত বিশ্বকাপ হিসেবেই টিকে থাকবে না।
গতকাল শনিবার ‘কট বিহাইন্ড’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রশিদ লতিফ বলেন, যদি পাকিস্তান না যায়, তবে সবকিছু ওলটপালট হয়ে যাবে। এটি আর বিশ্বকাপ হিসেবে টিকে থাকবে না। ভারত বনাম অস্ট্রেলিয়ার মতো ম্যাচ হতে পারে, কিন্তু বিশ্বকাপের মান নষ্ট হয়ে যাবে। বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যাবে।”
রশিদ লতিফ দাবি করেন, পাকিস্তান বিশ্বকাপ থেকে সরে গেলে আইসিসি তাদের পরিবর্তে উগান্ডাকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করবে। তখন আহমেদাবাদের ১ লাখ ৩২ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ভারত–উগান্ডা ম্যাচ।
পাকিস্তান সরে গেলে ভারতের গ্রুপে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস, নামিবিয়া ও উগান্ডা।
বাংলাদেশ নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতে খেলতে না চাওয়ার কথা জানালে আইসিসি স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করে। টিকিট না পাওয়া দলগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিং (১৪) হওয়ায় স্কটিশদের নেওয়া হয়েছে বলে জানায় আইসিসি।
তবে বাংলাদেশের নিরাপত্তাশঙ্কা ‘বিশ্বাসযোগ্য ও যাচাইযোগ্য নয়’ বলে প্রত্যাখ্যান করায় আইসিসির বিরুদ্ধে দ্বিমুখী নীতির অভিযোগ উঠেছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পাকিস্তানও বিশ্বকাপ বয়কট করতে পারে—এমন আলোচনা এখন দেশটির ক্রিকেট অঙ্গনে জোরালো হচ্ছে।
সরকারি সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পাকিস্তান
গতকাল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি জানান, বিদেশ সফরে থাকা প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলে বিশ্বকাপ বয়কট বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ কলম্বোতে
সূচি অনুযায়ী ‘এ’ গ্রুপে থাকা ভারত ও পাকিস্তানের ম্যাচটি আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ভারত চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলতে পাকিস্তানে না যাওয়ায় আইসিসির মধ্যস্থতায় হওয়া সমঝোতার অংশ হিসেবেই পাকিস্তানের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
ভারতের উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর হুমকির মুখে ৩ জানুয়ারি আইপিএল থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘটনায় দেশটিতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।
এর আগে ২০ ডিসেম্বর দিল্লির কূটনৈতিক এলাকায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে ‘অখণ্ড হিন্দু রাষ্ট্র সেনা’র বিক্ষোভ, হাইকমিশনারকে হুমকি এবং বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাদেশি সন্দেহে খোদ ভারতীয় নাগরিকদের পিটিয়ে হত্যার ঘটনাও নিরাপত্তা শঙ্কা বাড়িয়ে তোলে।
এই পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়, দর্শক ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা বিবেচনায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল বিসিবি। তবে আইসিসি সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেয়।

