পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আগামী সোমবার আবারও বৈঠকে বসতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। দ্বিতীয় দফার এই উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। আলোচনায় অবগত ইরানি কর্মকর্তাদের বরাতে এমন তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল রবিবার ইসলামাবাদে পৌঁছাতে পারেন। এর আগে গত মঙ্গলবার থেকেই উভয় পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ফেরাতে নেপথ্যে তৎপরতা শুরু হয়। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে চলমান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি পাকিস্তানকে মধ্যস্থতায় নতুন করে উদ্যোগ নিতে সুযোগ করে দিয়েছে।
এদিকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ত্রিদেশীয় সফরে রয়েছেন। একই সময়ে দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির তেহরান সফর করেন এবং সেখানে ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন। অন্যদিকে সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের নেতাদের সঙ্গে আলোচনাও চালিয়ে যাচ্ছেন শাহবাজ শরিফ।
যদিও এসব কূটনৈতিক তৎপরতার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি, তবে ইসলামাবাদে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সরকারি সূত্র বলছে, সম্ভাব্য বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে হাজার হাজার নিরাপত্তা সদস্য ইসলামাবাদে আসতে শুরু করেছেন।
এর আগে প্রথম দফার বৈঠকের সময়ও প্রায় ১০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল।
শান্তি আলোচনাকে ঘিরে আশাবাদও প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত চুক্তি হলে তিনি নিজেও ইসলামাবাদ সফরে যেতে পারেন। ট্রাম্পের দাবি, আলোচনাধীন বেশিরভাগ বিষয়েই ইতোমধ্যে ইরান সম্মতি দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, প্রায় ৪০ দিনের সংঘাতের পর গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৪ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। এর ধারাবাহিকতায় ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রথম দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর এটিই ছিল দুই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরাসরি আলোচনা। তবে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার বৈঠকেও কোনো চূড়ান্ত সমাধান আসেনি।
অন্যদিকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দ্বিতীয় দফার আলোচনার বিষয়ে এখনো কোনো তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারণ করা হয়নি। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি গণমাধ্যমকে যাচাইবিহীন তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
সূত্র: সিএনএন, এনডিটিভি

