লেবাননে যুদ্ধবিরতি শুরু, হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত ঘোষণা ইরানের
লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালী বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা করেছে ইরান। এতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির পথে বড় দুই বাধা দূর হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি ঘোষণা দেন, যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সময়জুড়ে হরমুজ প্রণালীতে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। তবে দেশটির এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সামরিক জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
ইরানের এ সিদ্ধান্তকে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক মাধ্যমে তিনি ইরানকে ‘ধন্যবাদ’ জানালেও সতর্ক করে বলেছেন, পূর্ণাঙ্গ চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ বহাল থাকবে।
যুদ্ধবিরতির প্রভাব: ঘরে ফিরছে মানুষ
লেবাননে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতেই হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ ঘরে ফিরতে শুরু করেছে। গাড়ির ছাদে মালপত্র নিয়ে তারা দক্ষিণ বৈরুতসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে ফিরছেন। দীর্ঘদিনের সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ধীরে ধীরে স্বাভাবিকতা ফিরছে।
তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ঠিক আগে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর টাইরে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং একাধিক ভবন ধ্বংসের খবর পাওয়া গেছে।
ইসরাইলের সতর্ক অবস্থান
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান এখনো শেষ হয়নি। রকেট ও ড্রোন হামলার হুমকি মোকাবিলায় ভবিষ্যতেও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অন্যদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ জানান, দক্ষিণ লেবাননে ১০ কিলোমিটার ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ বজায় রাখা হবে এবং প্রয়োজনে আবারও সামরিক অভিযান চালানো হতে পারে।
কূটনৈতিক সমাধানের পথে অগ্রগতি
যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু হওয়াকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নিরসনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাকিস্তান ইতোমধ্যে দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতা করছে এবং নতুন করে সরাসরি আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি এখন ‘খুব কাছাকাছি’।
গত ২ মার্চ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে হিজবুল্লাহ ইসরাইলে রকেট হামলা চালানোর পর থেকেই সংঘাত শুরু হয়। প্রায় ৪০ দিনের সংঘর্ষের পর অবশেষে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে।

