যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনা ঘিরে আজ শুক্রবার রাতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ পৌঁছাতে পারে ইরানের একটি প্রতিনিধিদল—এমন তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানি সূত্রগুলো। একই সঙ্গে তারা আশা করছে, এই সফরের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনার দ্বিতীয় দফা শিগগিরই শুরু হতে পারে।
তবে এ বিষয়ে ভিন্নমত দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন ও ইরানি সংবাদমাধ্যম। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনর খবরে বলা হয়েছে, ইরানি প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সরাসরি বৈঠকে অংশ নেবে না। বরং তারা পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পাকিস্তানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন। এরপর তিনি মাসকাট ও মস্কো সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা।
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এই বৈঠককে সম্ভাব্য কূটনৈতিক অগ্রগতির সূচনা হিসেবে দেখা হলেও এখনো যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান—কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি। এমনকি ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও সফরটি নিশ্চিত করা হয়নি।
এ পরিস্থিতিতে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে সামরিক বক্তব্য। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘প্রস্তুত’ রয়েছে। একই ধরনের অবস্থান নিয়েছে ইরানও—তাদের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ‘পূর্ণ প্রস্তুত’ অবস্থায় রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, তারা ইরান-সংশ্লিষ্ট জাহাজে বাধা দিচ্ছে। অন্যদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা অন্তত দুটি জাহাজ জব্দ করেছে। ফলে ‘ব্লকেডের জবাবে ব্লকেড’ কৌশল নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সমাধান হবে, নাকি দুই পক্ষ সরাসরি সংঘাতে জড়াবে—এই প্রশ্নই এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় অনিশ্চয়তা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

