মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে আবারও উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশসীমায় ইরান থেকে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সময় সোমবার বিকেলে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের ছোড়া ব্যালিস্টিক মিসাইল, ক্রুজ মিসাইল ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এদিকে ইরানের ছোড়া একটি ড্রোন সরাসরি ফুজাইরার একটি তেল স্থাপনায় আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে ফুজাইরা মিডিয়া অফিস। এতে স্থাপনাটিতে আগুন ধরে যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি ভিত্তিতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স টিম কাজ শুরু করেছে।
তবে এখন পর্যন্ত এ হামলায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি এডনকের একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা এই ঘটনাকে ‘জলদস্যুতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় এডনকের একটি ট্যাংকার লক্ষ্য করে দুটি আত্মঘাতী ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে। তবে সৌভাগ্যবশত এই হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। মন্ত্রণালয় এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইনের ‘মারাত্মক লঙ্ঘন’ এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে উল্লেখ করেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালিকে এখন ‘অর্থনৈতিক জবরদস্তি বা ব্ল্যাকমেলের হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করছে। এটি জলদস্যুতার শামিল। আবুধাবি এ ধরনের কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের হামলা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে।

