বরিশাল
অটোচালক হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার চার, বসতঘরে আগুন দিল ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী
এম.কে. রানা, বরিশাল
প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৭:০৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বরিশাল নগরীর অটোরিকশাচালক নাজমুল হোসেন হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনে অভিযান চালিয়ে একই পরিবারের তিন সদস্যসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব ও পুলিশ। এদিকে গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্তদের বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়।
বুধবার সকালে নগরীর হরিনাফুলিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ জুন থেকে নিখোঁজ ছিলেন হরিনাফুলিয়া এলাকার বাসিন্দা ১৯ বছর বয়সী অটোরিকশাচালক নাজমুল হোসেন। নিখোঁজের দুই দিন পর, ১৫ জুন সকালে কালিজিরা নদীর তেমাথা এলাকা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুর রশিদ মোল্লা অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে এয়ারপোর্ট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্তের একপর্যায়ে সিসিটিভি ফুটেজ এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে একটি অটোরিকশার সূত্র ধরে বুধবার ভোরে মিরাজ হোসেন শুভকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অটোরিকশাটি তার ছোট ভাই ইমরান চালিয়েছিলেন বলে জানান।
পরে শুভর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি ফাঁসির দড়ি ও রক্তমাখা একটি লুঙ্গি উদ্ধার করা হয়। তবে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত সন্দেহভাজন ইমরানকে এখনও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার চণ্ডীপুর গ্রামের সাইফুল ইসলাম (৩৮), হরিনাফুলিয়া এলাকার ফরিদা বেগম (৬০) এবং কামরুন্নাহার শিল্পী (৩৫)। একই পরিবারের সদস্য হওয়ায় তাদের পারিবারিক সংশ্লিষ্টতাও তদন্তে গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত কারণ ও হত্যাকাণ্ডে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা তা জানতে তাদের বিরুদ্ধে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।
এদিকে গ্রেপ্তারের সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তদের বসতঘরে অগ্নিসংযোগ করে। কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই ঘরটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
নিহত নাজমুলের বাবা আব্দুর রশিদ মোল্লা বলেন, “কী কারণে আমার ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা এখনো জানতে পারিনি। তবে এলাকার কয়েক হাজার মানুষ ক্ষোভে অভিযুক্তদের ঘরে আগুন দিয়েছে।”
ওসি আরো জানান, হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ, জড়িতদের সংখ্যা এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রহস্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পলাতক সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানও চলমান রয়েছে।
