×

ভারত

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের পর এবার শিবসেনায় ভাঙনের সুর

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৫:১০ পিএম

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের পর এবার শিবসেনায় ভাঙনের সুর

ছবি: সংগৃহীত

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গে এবার ভাঙনের দোরগোড়ায় মহারাষ্ট্রের শিবসেনার (উদ্ধব) সংসদীয় দল। জানা গেছে, দলটির ৯ জন সংসদের মধ্যে ৬ জন বিদ্রোহী হয়ে উঠেছে। যারা সংসদে নিজেদের আলাদা ব্লক তৈরির চেষ্টা করছে।

ভারতজুড়ে এখন আলোচনায়, ‘অপারেশন টাইগার’এর মাধ্যমে শিবসেনা উদ্ধব ঠাকরের দল ভাঙানোর চেষ্টা চলছে। এ অবস্থায় ভাঙন রুখতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার জরুরী সংসদীয় কমিটির বৈঠক ডেকেছে শিবসেনার উদ্ধব গোষ্ঠী। দলের পক্ষ থেকে ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে সব সাংসদকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যারা অনুপস্থিত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, বড়জোর ২ থেকে ৩ জন সাংসদ যোগ দিতে পারেন বৈঠকে। বাকিদের বিষয়ে কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

বিদ্রোহী দলে নাম লেখানো এই সাংসদদের কারো ফোন বন্ধ, কেউ কেউ ফোন তুলছেন না। শেষ খবর অনুযায়ী, নিজেদের দলের ভেতরে মতপার্থক্যের জল্পনা জোরাল হওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ নেতারা দিল্লির দিকে ঝুকছেন। যাদের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হচ্ছে, তাদের উদ্ধব ঠাকরে ও দলের শীর্ষ নেতারা ব্যক্তিগতভাবে বোঝানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সূত্রের বরাতে জানা যায়, সাংসদরা প্রথমে লোকসভার ভেতরে একটি আলাদা গোষ্ঠী গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন এবং এরপর সেই গোষ্ঠীটি একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনার সঙ্গে মিশে যাবে। উদ্ধব শিবিরের যে ৬ জন সাংসদ শিণ্ডে শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন তারা হলেন, সঞ্জয় দিনা পাটিল, সঞ্জয় দেশমুখ, নাগেশ পাটিল, ওমরাজে নিম্বলকর, ভৌসাহেব ওয়াকচৌর এবং সঞ্জয় যাদব।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার দিল্লিতে শিন্ডে পুত্র শ্রীকান্তের বাসভবনে এই বিদ্রোহীদের সঙ্গে নিয়ে বৈঠকে বসতে পারেন মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিণ্ডে। সেই বৈঠকের শেষে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করতে পারেন সাংসদরা। যেহেতু দুই তৃতীয়াংশ সংসদ একসঙ্গে দলবদলের করতে পারে সেক্ষেত্রে দলত্যাগ বিরোধী আইনও প্রযোজ্য হবে না।

মূলত বেশ কয়েকদিন ধরে ভারতের রাজনীতিতে ভাঙ্গনের রেখা স্পষ্ট হচ্ছিল। এমন পরিস্থিতিতে শিবসেনা (শিন্দে শিবির) নেতা তথা বিধান পরিষদের সদস্য কৃপাল তুমানে গতকাল মঙ্গলবার দাবি করেন, উদ্ধবপন্থী সাত জন সাংসদের সঙ্গে আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। তার দাবি, সংসদের আসন্ন বাদল অধিবেশনের আগে ওই সাংসদরা একনাথ শিন্দের শিবসেনায় যোগ দিতে পারেন। শুধু সাংসদই নন, উদ্ধবপন্থী একাধিক বিধায়কও শিন্দে শিবসেনার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে দাবি করেন তুমানে।

মঙ্গলবার এই ইস্যুতে মুখ খোলেন উদ্ধব ঠাকরে। তিনি জানান, ‘যদি কেউ দল ছেড়ে যেতে চায় তবে চলে যাক। কাউকে জোর করে আটকানো হবে না। যে বা যারা বালাসাহেব ঠাকরের দল ছেড়ে যাচ্ছে, ভবিষ্যতে তারা পস্তাবে।’

একইসময় পাল্টা শিবসেনা উদ্ধব গোষ্ঠীর নেতা সঞ্জয় রাউত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন , ‘প্রত্যেক সাংসদের জন্য ১৫ কোটি টাকা করে অফার দেওয়া হয়েছে।’ তারপর সঞ্জয় আরও লেখেন, ‘এই বিদ্রোহীদের সঙ্গে ৫০ কোটি টাকা, প্রাইভেট বিমানসহ একাধিক শর্তে রফা হয়েছে। ১৫ কোটি টাকা তো অ্যাডভান্স।’

তবে শিবসেনা উদ্ধব গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পাঁচ সাংসদ আলাদা দল বা গোষ্ঠী তৈরি করতে চলেছেন বলে যে জল্পনা ছড়িয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। রাউতের দাবি, কয়েকদিন আগে উদ্ধব ঠাকরের ডাকা বৈঠকে সব সাংসদ উপস্থিত ছিলেন এবং তারা প্রকাশ্যে উদ্ধবের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা জানিয়েছেন।

রাউত বলেন, এসব সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমাদের কাছে এমন কোনো তথ্য নেই। চার দিন আগে দলের বৈঠকে সব সাংসদ উপস্থিত ছিলেন। তারা উদ্ধবজির নেতৃত্বের উপর আস্থা প্রকাশ করেছেন।

যদিও জানা যায় গত রোববার উদ্ধব গোষ্ঠীর সর্বশেষ বৈঠকে লোকসভার ৯ জন সাংসদের মধ্যে মাত্র চারজন—অরবিন্দ সাওয়ান্ত, অনিল দেশাই, রাজাউ ভাজে এবং সঞ্জয় পাতিল—সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। বাকিরা অনলাইনে বা টেলিফোনের মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন। ওমপ্রকাশ রাজে নিমবালকর, ভাউসাহেব ওয়াকচৌরে, নাগেশ বাপুরাও পাতিল অষ্ঠিকার এবং সঞ্জয় দেশমুখ ভার্চুয়ালি যোগ দিয়েছিলেন। অন্যদিকে সঞ্জয় যাদব ফোনে উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। যারা সশরীরে উপস্থিত ছিলেন না, তারা আগে থেকে নির্ধারিত ব্যক্তিগত কাজের কথা উল্লেখ করেছিলেন। ফলে ভাঙ্গনের একটা ইঙ্গিত সেই মিটিংয়েই মিলে ছিল বলে অনেকে মনে করছেন।

তবে মঙ্গলবার দিল্লি সফরে গিয়ে সঞ্জয় রাউত বলেন, একটি ভুল চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে। সব সাংসদ দলের সঙ্গে এবং উদ্ধব ঠাকরের পাশে দৃঢ়ভাবে রয়েছেন বলে জোর দাবি করেছেন তিনি।

তবে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা থামছে না। কারণ, ২০২২ সালেও প্রথমে গুঞ্জন উড়িয়ে দেওয়া হলেও শেষপর্যন্ত একনাথ শিন্দের নেতৃত্বে বড়সড় ভাঙনের মুখে পড়েছিল উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা। ৩৯ জন বিধায়ক দল ভেঙে রাতারাতি একনাথ শিন্ডের সঙ্গে বেরিয়ে পৃথক ব্লক তৈরি করেছিলেন। সেই ভাঙনের জেরে কার্যত দুই ভাগ হয়ে যায় দলটি। বর্তমানে নতুন করে ‘অপারেশন টাইগার’ নিয়ে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা সেই পুরনো স্মৃতিকেই উসকে দিচ্ছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি সত্যি উদ্ধব শিবিরের সাত জন সাংসদ দলবদল করেন, তবে তা লোকসভা নির্বাচনের পর মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে আরও একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হবে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনো সাংসদ প্রকাশ্যে দলত্যাগের ইঙ্গিত দেননি। ফলে জল্পনা, পাল্টা জল্পনা এবং রাজনৈতিক দাবিদাওয়ার মধ্যেই আপাতত উত্তাপ বাড়ছে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

পাবনায় সমকামীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১৬শ, বাড়ছে এইডস

পাবনায় সমকামীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১৬শ, বাড়ছে এইডস

‘মিয়ানমারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন’

‘মিয়ানমারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন’

আদ্-দ্বীনের লাইসেন্স বাতিল স্থগিত চেয়ে আবেদন

আদ্-দ্বীনের লাইসেন্স বাতিল স্থগিত চেয়ে আবেদন

দেশের ৪ বিভাগে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস

দেশের ৪ বিভাগে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App