ক্রসফায়ারে হত্যা
হাসানাত আবদুল্লাহসহ ৪ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১০:১১ এএম
সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ। ছবি : সংগৃহীত
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ‘ক্রসফায়ারে’ ছাত্রদল নেতাসহ দুই ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চার আসামির বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রমের নতুন ধাপ শুরু হচ্ছে আজ।
বুধবার (১৭ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এ বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে মামলাটির শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে, বিচার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রথমে মামলার ওপেনিং স্টেটমেন্ট বা সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করা হবে। এরপর সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শুরু হওয়ার মধ্য দিয়ে মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারিক ধাপে আরো এগিয়ে যাবে।
চার আসামির মধ্যে বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন উজিরপুর থানার সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. মাহাবুল ইসলাম এবং এএসআই জসিম উদ্দিন। অন্যদিকে পলাতক রয়েছেন বরিশাল-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও বরিশালের সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) এহসান উল্লাহ।
আরো পড়ুন : দুই হত্যা মামলায় দীপু মনির জামিন আবেদন নামঞ্জুর
এর আগে গত ২০ মে ট্রাইব্যুনাল চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ১৭ জুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
মামলার ভুক্তভোগী দুই ব্যক্তি হলেন আগৈলঝাড়া উপজেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং উপজেলা জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা।
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগে বলা হয়েছে, টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লা ছিলেন আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। তাদের সরিয়ে দিতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করা হয়।
প্রসিকিউশনের দাবি, ওই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তৎকালীন পুলিশ সুপার এহসান উল্লাহকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। পরে ২০১৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লাকে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের পাশে গৌরনদী-গোপালগঞ্জ মহাসড়কে কথিত ‘ক্রসফায়ারের’ ঘটনা সাজিয়ে তাদের হত্যা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
